kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘অত্যাচারী’ ভাশুরকে মেরে গোপনাঙ্গও কেটে নেন সেই নারী!

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ১০:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘অত্যাচারী’ ভাশুরকে মেরে গোপনাঙ্গও কেটে নেন সেই নারী!

প্রতীকী ছবি

ভারতের হাওড়ায় চারজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করেছেন পল্লবী ঘোষ নামের এক নারী। দেশটির পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর তার বয়ান ছিল চমকে দেওয়ার মতো। পল্লবী জানান, শুধু খুন করেই ক্ষান্ত থাকেননি পল্লবী, ভাশুরের গোপনাঙ্গও কেটে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের জেরার মুখে তিনি জানিয়েছেন, ভাশুরের কু-নজর ছিল তার ওপর। প্রথম থেকেই ভাশুরের যৌন লালসার শিকার হয়েছিলেন। তাই রাগের মাথায় খুন করার পর যৌনাঙ্গও কেটে নেন তিনি। এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়াল।

পল্লবীর মধ্যে বহুল পরিচিত ‘ববিট সিনড্রোম’ খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল বলছে, এটাই ববিট সিনড্রোম। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় তিন দশক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক ঘটনার স্মৃতি। ভার্জিনিয়ার দম্পতি জন ববিট ও লোরেনা ববিটের কাহিনি থেকেই এমন আক্রোশের নাম হয়েছে ববিট সিনড্রোম।

১৯৯৩ সালের ২৬ জুন লোরেনা ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে নিয়েছিলেন। রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে সবার অজান্তে এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের জেরার মুখেও অকপটে তিনি জানান, তার স্বামী তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করতেন। সেই অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য স্বামীর গোপনাঙ্গই কেটে দেন তিনি। হাওড়ার ঘটনায় সেই পল্লবীর মধ্যেও লোরেনার ছায়া দেখছেন কেউ কেউ। পল্লবী নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন সব কথা।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, ঘোষ পরিবারের মাথা শিশির কুমার ঘোষের সম্পত্তি কে পাবে এ নিয়ে দুই ভাইয়ের ঝামেলা ছিল। দাদা দেবাশিসের সঙ্গে ভাই দেবরাজের ঝগড়াঝাঁটি হতো প্রায়ই। বদমেজাজি দেবরাজ বাড়িতে ভাঙচুরও চালাতেন। এমনকি মারধরও করতেন বাবা, দাদা, মাকে। বছর দশেক আগে দেবরাজ ঘোষের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল পল্লবীর। বড় ছেলে দেবাশিস ও তাঁর স্ত্রী পরিবারের দেখাশোনা করতেন বলে তাঁদের বেশি ভালোবাসতেন শিশির কুমার। অবসরের পর বেশ কিছু টাকা তিনি বড় ছেলে ও তাঁর স্ত্রীকে দিয়েছিলেন। এই নিয়েই রাগ ছিল দেবরাজ ও পল্লবীর। এখানেই শেষ নয়। দেবরাজের স্ত্রী পল্লবীকে নাকি কু-প্রস্তাব দিতেন দাদা দেবাশিস। এমনকি অত্যাচারও করতেন, চলত যৌন নির্যাতন। সেই নিয়ে আবার রীতিমতো টাকার লেনদেন হতো পরিবারের মধ্যে!

দেশটির স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল বলছে, পেশায় গাড়িচালক দেবাশিস, ভাইয়ের স্ত্রী পল্লবীর সঙ্গে ‘সম্পর্ক’র বিনিময়ে ভাই ও বউমাকে টাকা দিতেন! বুধবার রাতেও তেমনই দেবরাজ ও পল্লবীকে দুই হাজার টাকা দিতে এসেছিলেন দেবাশিস। তখনই শুরু হয় ঝগড়া। দেবাশিসের এই টাকা দিতে আসা দেখে প্রচণ্ড রেগে যান পল্লবী। রাগের বশে স্বামী দেবরাজের সঙ্গে গিয়ে দেবাশিসকে  খুনই করে বসেন। এমনকি দেবাশিসের ওপর রাগে তাকে কুপিয়ে পল্লবী তার গোপনাঙ্গও কেটে নেন! দেবাশিসের স্ত্রী রেখাকেও কুপিয়ে মারেন পল্লবী।

সূত্র : দ্য ওয়াল।



সাতদিনের সেরা