kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

ভয়ংকর পর্বতশৃঙ্গ কেটুর চূড়া ছুঁলেন প্রথম বাংলাদেশি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জুলাই, ২০২২ ০৮:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভয়ংকর পর্বতশৃঙ্গ কেটুর চূড়া ছুঁলেন প্রথম বাংলাদেশি

ওয়াসফিয়া নাজরীন গত রবিবার বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেটু জয়ের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া

বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে ওয়াসফিয়া নাজরীন এবার পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও অন্যতম ভয়ংকর পর্বতশৃঙ্গ কেটুর চূড়া ছুঁলেন। গতকাল শুক্রবার সকালে পর্বতারোহী একটি দলের সঙ্গে তিনিও আট হাজার ৬১১ মিটার উঁচু ওই পর্বতশৃঙ্গে পা রাখেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ কথা জানানো হয়।

পাকিস্তানের গিলগিট বাল্টিস্তানে অবস্থিত শৃঙ্গ গডউইন অস্টিন বা কেটু উচ্চতার দিক দিয়ে দ্বিতীয় হলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপ্রবণ শৃঙ্গের তালিকায় এই পর্বতের নাম শীর্ষে।

বিজ্ঞাপন

কারাকোরাম পর্বতমালার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেটু। বিশ্বে আট হাজার মিটারের বেশি উঁচু যত পর্বত রয়েছে, তার মধ্যে পাঁচটিই পাকিস্তানে। এগুলোতে আরোহণ করা যেকোনো পর্বতারোহীর জন্যই চূড়ান্ত কৃতিত্বের।

এই শৃঙ্গেই গতকাল সকালে একের পর এক নারী পা রাখলেন। ওয়াসফিয়া নাজরীনের পাশাপাশি গতকাল এই শৃঙ্গে পা রাখেন পাকিস্তানের সামিনা বেগ ও নাইলা খিয়ানি, ইরানের আফসানাহ হেসামিফর্দ, লেবাননের নেলি আত্তার, চীনের হে জিং, তাইওয়ানের গ্রেইস সেং, অ্যান্ডোরার স্টেফি ট্রুগুয়েট এবং নরওয়ের ক্রিস্টিন হ্যারিলা। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশের প্রথম নারী পর্বতারোহী হিসেবে কেটু জয় করেছেন।

ওয়াসফিয়া গত রবিবার কেটুর চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। সেদিন এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ রাতে নিমসদাই, মিংমা তেনজি শেরপা ও মিংমা ডেভিড শেরপার নেতৃত্বে কেটু জয়ের জন্য যাত্রা করছি। সব ঠিকঠাক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সুখবর আসবে। কোনো খবর না থাকলে ভালো আছি জানবেন। আমি সবচেয়ে শক্তিশালী দলের সঙ্গে আছি, তাই চিন্তা করবেন না। শুধু আমার জন্য জোর প্রার্থনা করবেন। আপনাদের সবার জন্য ভালোবাসা...। ’

ওয়াসফিয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ২৬ মে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গও জয় (সেভেন সামিট) করেন তিনি।   

এদিকে গত বৃহস্পতিবার নেপালি পর্বতারোহী সানু শেরপা পাকিস্তানের গাসেরব্রুম দ্বিতীয় পর্বতে আরোহণের মাধ্যমে ১৪টি পর্বতশৃঙ্গ জয়ের রেকর্ড গড়েন। আর নারী পর্বতারোহী হিসেবে নরওয়ের ক্রিস্টিন হ্যারিলার ঝুলিতেও আছে ১৪টি পর্বতশৃঙ্গ জয় করার রেকর্ড।

উচ্চতায় এভারেস্টের পর হলেও পর্বতারোহীদের কাছে সবচেয়ে কঠিন পর্বত হিসেবে কেটুর অবস্থান। ১৯৫৪ সাল থেকে মাত্র ৪২৫ জন এটির চূড়ায় উঠেছেন, যাঁদের মধ্যে ২০ জন নারী। অন্যদিকে ১৯৫৩ সালের পর মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় এ পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি মানুষ চড়েছেন। সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা