kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

ব্যতিক্রমী ছাদকৃষি গড়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার পেলেন মনিরা

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ মে, ২০২২ ২১:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যতিক্রমী ছাদকৃষি গড়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার পেলেন মনিরা

বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কারে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। গাজীপুরের মনিরা সুলতানা মুনমুনসহ ৭ ব্যক্তি ও ১৬ প্রতিষ্ঠান। ‘বাড়ির ছাদে বাগান সৃজন’ শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারের জন্য যথাক্রমে মনিরা সুলতানা, গাজীপুর; কবিতা নাসরিন সৃষ্টি, ময়মনসিংহ এবং সাহানা নাসরিন-রাজশাহী থেকে মনোনীত হয়েছেন।

গাজীপুর শহরের উত্তর ছায়াবিথী এলাকায় বসবাসরত আমেরিকান প্রবাসী আকরাম হোসেন বাঁদশার স্ত্রী মনিরা সুলতানা মুনমুন।

বিজ্ঞাপন

ছয় বছর ধরে বেকার নারী-পুরুষদের নিজস্ব উদ্যোগে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে বৃক্ষ সরবরাহ করে আসছেন। তার স্বামী আকরাম হোসেনও প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেন।

অধিদপ্তর,পরিদপ্তর, সেক্টর করপোরেশন ও প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে যথাক্রমে সদরদপ্তর ১৯ পদাতিক ডিভিশন, শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাস, টাঙ্গাইল; শুন শিং সিমেন্ট মিলস লি., খুলনা এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড- কুমিল্লা। এনজিও, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শ্রেণিতে প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে মানবসেবা স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন, নওগাঁ।

কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পুরস্কারের জন্য যথাক্রমে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ, শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং এস, ডি, ডিগ্রি কলেজ, ঝিনাইদহ মনোনয়ন পেয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম পুরস্কারের জন্য যথাক্রমে উপজেলা পরিষদ, চট্টগ্রাম মনোনীত হয়েছে।

এবার বিদ্যালয়/ সিনিয়র মাদরাসা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারের জন্য যথাক্রমে কুলসুম রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা; সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়াইল এবং কে, টি, এম, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়াইল  মনোনীত হয়েছে।

উল্লেখ্য,১৯৯৩ সাল থেকে চালু হওয়া প্রতিটি শ্রেণির পুরস্কার প্রাপ্তদের সনদপত্র এবং প্রথমস্থান অধিকারীকে ৩০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ১৫ হাজার টাকার একাউন্ট পে চেক প্রদান করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রফেরত মনিরা সুলতানা মুনমুন গাজীপুর মহানগরীর জোড়পুকুর পাড় এলাকায় গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী ছাদকৃষি। তিনি স্বামী আকরাম হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় তিন তলার বাড়ির ছাদ সাজিয়েছেন নিজের স্বপ্নের মতো করে। ছাদ ও ছাদকৃষিকে দিয়েছেন বাণিজ্যিক রূপ।

সম্পূর্ণ অরগানিক পদ্ধতিতে চলে তাঁর উদ্ভিদ পরিচর্যা। মাছ পালনের পানির হাউস থেকে ফাইটোপ্লাংকটন-মিশ্রিত পানি দেওয়া হয় গাছের গোড়ায়। নিজেই উৎপাদন করেন জৈব সার। নিজের ছাদে উৎপাদিত চারা থেকে কিছু বিক্রিও করেন তিনি।

ছাদেই বড় ধরনের পানির হাউস তৈরি করা হয়েছে। মনিরা সুলতানা জানিয়েছেন, তিনি শখের বশে ২০১৪ সালের দিকে অল্প কিছু গাছ এনে লাগিয়েছিলেন। পরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন জাতের ঔষধি গাছ, সবজি ও নানা ধরনের ফলের গাছ আমদানি করেন। স্বামী আকরাম হোসেন বিদেশ থেকে নিয়ে আসেন বিভিন্ন উদ্ভিদের জাত। ‌এছাড়া ফেসবুকে ‘প্ল্যান্টস ফ্রম মুন’ নামের একটি গ্রুপ খুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। কর্মশালায় শেখানো হয়, উদ্ভিদের পরিচর্যা, জৈবসার তৈরির প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ভিদের জাত সংগ্রহের পদ্ধতি শেখানো হয়।

এ ছাড়া মাছের হাউস থেকে বালতিতে করে পানি নিয়ে গাছের গোড়ায় দেন তিনি। এতে গাছ অনেক পুষ্টি পায়। এ ছাড়া বাড়িতে উৎপাদিত সবজির উচ্ছিষ্টাংশ বিশেষ পদ্ধতিতে জৈবসারে রূপান্তর করেন। এসব সার বাজারে পাওয়া যেকোনো সারের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ বলে জানান তিনি।

মনিরার ছাদবাগানে উদ্ভিদের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৯টি। এর মধ্যে ঔষধি গাছ আছে ৪০ প্রজাতির। ঔষধি গাছের মধ্যে আছে অর্জুন, আমলকী, বহেরা, হরীতকী, ঘৃতকুমারী, নিম, তুলসী, থানকুনি, বাসক, পেইন কিলার, অ্যাড্রেসিয়া বেরি, ক্লিন স্টোমাক, চেইন অব গ্লোরি, রুইলিয়া রেসিলিয়া, ডেইজি, কিডনি প্ল্যান্ট, ভ্যানিলা অর্কিড, কর্পূর, জয়ত্রী, গোলমরিচ, সুইট রেসিন, ট্রি রেসিন, কারি পাতা প্রভৃতি। সবজির মধ্যে আছে লেটুস, করলা, ধনেপাতা, বেগুন, কাঁকরোল, পটল, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, লাউ, লাল ঢ্যাঁরস, শিম, শসা, টমেটোসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতি। এ ছাড়া দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় জাতের মধ্যে আছে ওল্ড চন্ডাল, আগর, সিভিট, হলদু, কৃষ্ণ বট, অশোক, কর্পূর প্রভৃতি।

মনিরা সুলতানার স্বামী আকরাম মনে করেন, ছাদকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার পদ্ধতিটি নারীদের সমাজে এগিয়ে রাখবে।



সাতদিনের সেরা