kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

মাদক দূরের কথা বিড়ি-সিগারেটও খাই না, বললেন টিটিই শফিকুল

অনলাইন ডেস্ক   

৯ মে, ২০২২ ১৭:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদক দূরের কথা বিড়ি-সিগারেটও খাই না, বললেন টিটিই শফিকুল

রেলওয়ের আলোচিত ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘নিজের সততা ও দক্ষতা দিয়ে কাজ করি। কখনোই অন্যায় করিনি। আমার নিরক্ষর মা-বাবা আমাদের সর্বদা সততা নিয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছেন। ’

গতকাল রবিবার দুপুরে রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের কার্যালয় চত্বরে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিজের জবানবন্দি দিতে আসেন টিটিই শফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

এই সময় কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেন টিটিই শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টিটিই হওয়ার কারণে চাকরিজীবনে অনৈতিকভাবে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে; কিন্তু আমি তা কখনোই করি না। এই কারণে টিটিই হিসেবে ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে রেলওয়ের সঠিক নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড আমার রয়েছে। ’

গত বৃহস্পতিবার রাতে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রী রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনির তিন আত্মীয়কে জরিমানাসহ এক হাজার ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করেন টিটিই শফিকুল। গত শুক্রবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন। এ নিয়ে সমালোচনা হলে গতকাল শফিকুলের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং নাসির উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়। শফিকুল চাকরিতে যোগদানের আদেশ পেয়ে আবেদনপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন।

শফিকুল বলেন, ‘চাকরিতে যোগদানের আদেশ পেয়ে খুবই খুশি। আমার আর কোনো কিছু চাওয়া নেই। তবে ট্রেনে বিনা টিকিটে ওঠা এক যাত্রীর করা অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠন করা কমিটির তদন্তেও আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব বলে বিশ্বাস করি। কারণ আমি কোনো অন্যায় করিনি। ’

শফিকুল ইসলামের বাবা রজব আলী নিজের সামান্য জমি ও অন্যের কিছু জমি ইজারা নিয়ে কৃষিকাজ করেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া গ্রামে। শফিকুল কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি পাস করেন। কিন্তু অভাব-অনটনের কারণে এলএলএম সম্পন্ন করতে পারেননি। ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল তিনি রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের অধীনে টিকিট কালেক্টর (টিসি) গ্রেড-২ যোগ দেন। পদোন্নতি পেয়ে টিটিই হয়ে চার বছর আগে ঈশ্বরদীতে যোগ দেন।

রেলমন্ত্রীর আত্মীয়দের জরিমানা করার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর টিটিই শফিকুল ইসলামকে ‘মাদকাসক্ত এবং হীনম্মন্যতায় ভোগেন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন পাকশী রেল বিভাগের ডিসিও (বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা) নাসির উদ্দিন। এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মাদক সেবন তো দূরের কথা বিড়ি-সিগারেটও খাই না। এমনকি চা স্টলে চা-ও খাই না। এ ছাড়া আমি আমার চাকরি নিয়ে সন্তুষ্ট। আমি মানসিক বিকারগ্রস্ত না। ’

তিনি বলেন, ‘চাকরিজীবনে এটি আমার প্রথম সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা। আমি যদি মাদকাসক্ত হতাম তাহলে এত দিন এভাবে সুনামের সঙ্গে চাকরি করতে পারতাম না। ’

রেলমন্ত্রীর ‘আত্মীয় পরিচয়’ দিয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করায় গত ৪ মে রাতে ঈশ্বরদী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’-এর তিন যাত্রীকে জরিমানা করেছিলেন টিটিই শফিকুল। এ ঘটনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা। টিআইবি এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শফিকুলকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এরপর টিটিই শফিকুল ইসলামকে দায়িত্বে পুনর্বহাল করার আদেশ দেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তা (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম।



সাতদিনের সেরা