kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ট্রেনে টয়লেট ও একজন অখিল চন্দ্র

নাজমুস সালেহী   

২০ নভেম্বর, ২০২১ ২২:১৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ট্রেনে টয়লেট ও একজন অখিল চন্দ্র

যাত্রাপথে ট্রেনে কারো টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি স্বাচ্ছন্দে ফ্রেশ হয়ে আসতে পারেন। তবে যার বদৌলতে আমরা ট্রেনে টয়লেটে যেতে পারছি, যার একটি চিঠির জের ধরে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে ভারতবর্ষের ট্রেনে টয়লেটের ব্যবস্থা করেছিল, সেই ব্যক্তির নাম অনেকেই জানি না। তিনি একজন বাঙালি। নাম অখিলচন্দ্র সেন।

বিজ্ঞাপন

ট্রেনে যাত্রাকালে পেটে 'বিশেষ কাজ' এর চাপ নিয়ে উসখুশ করছিলেন অখিল চন্দ্র। কিন্তু কোথাও কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রচণ্ড চাপে ধুতি নষ্ট হওয়ার যোগাড়। কোনোমতে, চেপে ধরে পরবর্তী স্টেশনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে ট্রেন যাত্রাবিরতি দিয়ে থামে মহারাষ্ট্রের আহমদপুর রেলস্টেশনে। পড়িমরি করে ট্রেন থেকে নেমে হাতে লোটা নিয়ে অখিল চন্দ্র ছুটলেন স্টেশনের টয়লেটের দিকে।  

গার্ড ট্রেন ছাড়ার হুইসেল বাজিয়ে দিলেন। অখিল টের পেলেন ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে। অথচ তাঁর 'কাজটা' তখনো শেষ হয়নি। তিনি ট্রেন ধরতে 'হাফ ডান' অবস্থায় শৌচাগার থেকে বেরিয়ে দৌড় দিলেন। এক হাতে নিজের জিনিসপত্র ধরে, আরেক হাতে ধুতি সামলাতে সামলাতে দৌড়াতে গিয়ে হুড়মুড়িয়ে প্ল্যাটফর্মের ওপর পড়ে গেলেন। প্ল্যাটফর্মভর্তি লোকের সামনে ধুতিটুতি খুলে গিয়ে বিতিকিচ্ছি অবস্থা! গন্তব্যের মাঝপথে ট্রেন হারিয়ে রেগে যান অখিল চন্দ্র সেন।

ক্ষেপে গিয়ে সাহেবগঞ্জ ডিভিশনাল রেলওয়ে অফিসে ভুলভাল ইংরেজিতে একটি চিঠি লিখলেন। চিঠিটির সারকথা হলো- অতিরিক্ত কাঁঠাল খাওয়ার কারণে তাঁর পেট ফেঁপেছিল। তিনি কোষ্ঠ সাফ করে হালকা হতে গিয়েছিলেন। তিনি টয়লেটে যাওয়ার আগে গার্ডদের বলেওছিলেন। কিন্তু গার্ডরা তার কথা মনে রাখেনি এবং ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে, এ কারণে বহু নারী-পুরুষের সামনে তাকে হেনস্তা হতে হয়েছে। এ কারণে তিনি গার্ডদের জরিমানা করার দাবি জানান, নচেৎ সংবাদপত্রে খবর দিয়ে এই ঘটনা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন।

অখিলচন্দ্র সেনের এই চিঠিটি রেলের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ, ব্রিটিশ সরকার ওই চিঠির ভিত্তিতেই গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয় যার জেরে ভারতে ট্রেনের মধ্যে বাথরুমের প্রচলন হয়। অখিলের সেই চিঠি এখনও দিল্লির রেল মিউজিয়ামে রাখা আছে।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী



সাতদিনের সেরা