kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

♦ বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি ♦ ক্যাশ অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায়

সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়াই ভালো

‘ক্যাশ অফিসার’ পদে ২০০ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিযোগিতামূলক এই নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই। পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল সরদার ও ক্যাশ অফিসার আজিম চৌধুরী। লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০৯:৫৩ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়াই ভালো

পরীক্ষা যেভাবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার পদের পরীক্ষা হবে তিন ধাপে। প্রথম ধাপে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ পদ্ধতিতে) আর দ্বিতীয় ধাপে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। সব শেষে ভাইবা বা মৌখিক পরীক্ষা ২৫ নম্বরে। প্রিলিমিনারি বা বাছাই পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটারের ওপর মোট ১০০ নম্বরের বহু নির্বাচনী প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে গণিতে ৩০, ইংরেজিতে ২৫, বাংলায় ২০, সাধারণ জ্ঞানে ১৫ এবং কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তিতে ১০ নম্বর।

প্রস্তুতি রুটিনমাফিক 
শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনার জন্য নিজের সুবিধামতো একটি রুটিন বা পাঠ পরিকল্পনার ছক তৈরি করতে পারেন। সে অনুযায়ী দৈনিক কমপক্ষে ৮-১০ ঘণ্টা বরাদ্দ রাখবেন পড়াশোনার জন্য। গণিত ও ইংলিশের জন্য বেশি সময় বরাদ্দ রেখে রুটিন ঠিক করুন। রুটিনমাফিক পড়লে সময়মতো সব বিষয়ের নির্দিষ্ট অংশ পড়া হয়ে যায়।

বিগত প্রশ্নের সমাধান
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের বিগত কমপক্ষে ৮-১০ বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করে রাখুন, যাতে পরীক্ষার আগে চোখ বুলিয়ে যেতে পারেন। চাকরির পরীক্ষায় বিগত সালের কিছু প্রশ্ন অনেক সময় হুবহু আসে। আবার হুবহু না এলেও একই নিয়ম থেকে আসতে পারে। ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা হয় ফ্যাকাল্টিভিত্তিক। অর্থাৎ আইবিএ, এইউএসটি বা অন্য কোনো ফ্যাকাল্টির মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হলে সাধারণত তারাই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করে। তাই প্রস্তুতির জন্য ফ্যাকাল্টিভিত্তিক বিগত সালের প্রশ্ন (সমাধানসহ) দেওয়া আছে এমন বই অনেকে পড়েন। এসব বই পড়াই ভালো। তবে এখন প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, তাই নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টিভিত্তিক প্রস্তুতির চেয়ে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়াই ভালো। কারণ কোন ফ্যাকাল্টি পরীক্ষা নেবে, এখন বেশির ভাগ সময়ই এটা জানা যাচ্ছে না। প্রস্তুতি এমনভাবে নিতে হবে, যে ফ্যাকাল্টিই প্রশ্ন করুক না কেন, উত্তর যাতে ঠিকভাবে দিয়ে আসতে পারেন।

সহায়ক ওয়েবসাইট
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ চাকরির পরীক্ষায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য কিছু ওয়েবসাইট হলো— sawaal.com, indiabix.com, examveda.com, majortests.com, gzanjosh.com, gmatclub.com, competoid.com, affairscloud.com ইত্যাদি। এসব ওয়েবসাইট থেকে ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে দেখা গেছে। অনেক সময় গণিত, ইংরেজি ও কম্পিউটার বিষয়ের প্রশ্ন ওয়েবসাইট থেকে আসে। তাই প্রস্তুতি জোরালো করতে এই সাইটগুলো থেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন। 

অঙ্কের দ্রুত সমাধান
অন্য প্রার্থীদের থেকে এগিয়ে থাকতে হলে দ্রুত অঙ্কের সমাধান ও উত্তর বের করা শিখতে হবে। পরীক্ষার হলে ৬০ মিনিটের মধ্যে ৮০-১০০ প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। এর মধ্যে গণিতের ওপর ২০ থেকে ২৪টি প্রশ্ন থাকে। বিস্তারিত অঙ্ক করে উত্তর বের করতে গেলে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না।

তাই দ্রুত অঙ্কের উত্তর বের করার শর্ট টেকনিক শিখে নিতে পারেন। অঙ্কের উত্তর করার জন্য অনুশীলনের বিকল্প কিছু নেই। তবে যাঁদের গণিতের বেসিক দুর্বল তাঁদের শর্ট টেকনিকের কথা না ভেবে আপাতত বেসিক ঝালাইয়ের দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এর জন্য ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির গণিত বোর্ড বইগুলো অনুসরণ করুন। এ ছাড়া বাজারে ব্যাংকে চাকরির প্রস্তুতির বিভিন্ন বই পাওয়া যায়। গণিতের বেসিক পাকাপোক্ত হলে শর্ট টেকনিক শেখা যেতে পারে।

জোর দিন ইংরেজিতে
ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার জন্য গণিতের পাশাপাশি ইংরেজিতেও ভালো নম্বর তোলার বিকল্প নেই। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ইংরেজি দিয়ে দিনের পড়া শুরু করতে পারেন। ভোকাবুলারির চর্চা করুন নিয়মিত।

ব্যাংকে চাকরি পেতে ভোকাবুলারি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দিনে কমপক্ষে এক ঘণ্টা বরাদ্দ রাখুন। এভাবে প্রতিদিন আপনি পড়তে থাকলে নতুন নতুন ভোকাবুলারি আপনার ভাণ্ডারে জমা হবে। আগে শেখা ভোকাবুলারিও ঝালাই হয়ে যাবে। ইংরেজি গ্রামারেও গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যাংকের পরীক্ষায় ইংরেজি সাহিত্যের চেয়ে গ্রামার থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। তাই ইংরেজি গ্রামার বেশি বেশি অনুশীলন করবেন।

প্রতিদিন অনলাইনে ইংরেজি পত্রিকার এডিটরিয়াল অনুবাদ করতে পারেন। প্রথম দিকে কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। অনুবাদ মানসম্মত না-ও হতে পারে, কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত অনুবাদ করতে থাকেন, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যে আপনার অনুবাদে সাবলীলতা, দক্ষতা চলে আসবে। আর এই দক্ষতা আপনার পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষাসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় দারুণ কাজে দেবে। ইংরেজি পত্রিকার এডিটরিয়াল নিয়ে করা মাসিক পত্রিকা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিমূলক অনুবাদের বই পড়তে পারেন। এখানে বিগত বছরের ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার অনেক অনুবাদ ব্যাখ্যাসহ দেওয়া আছে।

বাংলা এড়ানোর সুযোগ নেই
প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই বাংলা সমান গুরুত্ব বহন করে। প্রিলিমিনারিতে ২০-২৫ নম্বর এবং লিখিততে ৬০-৭০ নম্বর থাকে। প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর বাংলা প্রশ্নের ধরন কঠিন নাকি সহজ হবে এগুলো নির্ভর করে। বাংলার প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্য ও বাংলা ব্যাকরণ উভয়ের ওপর সমান দক্ষতা থাকতে হবে। লিখিত প্রস্তুতিতে উন্মুক্ত ও তথ্যবহুল লেখার অনুশীলন করতে হবে। এজন্য পত্রিকার সম্পাদকীয় ও সমসাময়িক ঘটনাবলি দেখতে পারেন।

সাধারণ জ্ঞানে এগিয়ে থাকুন
সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হওয়ার জন্য বাজারের প্রচলিত সাধারণ জ্ঞানের একটি আপডেটেড বই সংগ্রহ করুন। সেখান থেকে যেসব টপিকে বেশি প্রশ্ন আসে সেগুলো আগে পড়ুন। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, খেলাধুলা, ব্যাংক, মুদ্রা, দেশি ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, ভৌগোলিক উপনাম, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বিখ্যাত জায়গার পুরনো নাম, দ্বীপ, প্রণালী, বন্দর, করোনার তথ্য, মুজিববর্ষের তথ্য, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সূচক/সমীক্ষা, বাজেট, নোবেল বিজয়ীদের তালিকা ও অবদান (২০২১) প্রভৃতি বিষয় গুরুত্ব সহকারে পড়ুন।

এ ছাড়া এই বিষয়ে সাধারণ বিজ্ঞান থেকেও প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। নিয়মিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা পড়তে পারলে সাধারণ জ্ঞানে ভালো করা সহজ হবে। বিষয়টিতে ভালো করতে হলে মানচিত্র সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখা জরুরি।



সাতদিনের সেরা