kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

লেবুর এমন মৃত্যু মানতেই পারছেন না সহপাঠীরা

অনলাইন ডেস্ক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৮:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লেবুর এমন মৃত্যু মানতেই পারছেন না সহপাঠীরা

জ্বর-কাশি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী আল-আমিন লেবু মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর মিরপুরে নিজ মেসে তিনি মারা যান। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের রঞ্জন তেঘর গ্রামে। বুধবার রাতেই বাবার কাছে ফোনে চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা চেয়েছিলেন। সেই টাকা পাঠানোর আগেই লাশ হয়ে হলো ছেলে।

আল আমিন লেবুর মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার সহপাঠীরা। শুধু তাই নয়, নেটিজেনরাও আল আমিনের মৃত্যু নিয়ে বিস্মিত।  আল আমিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আল-আমিনের সহপাঠী বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তানভীর ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আল-আমিন মারা গেছেন। আমরা একই রুমে থাকতাম। কয়েকদিন ধরে আমি বাড়িতে আছি। 

বুধবার আল-আমিন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিল জ্বর ১০৪ ডিগ্রি, ঠাণ্ডা, কাশি। সবার দোয়া কামনা করছি। সেই পোস্ট দেখে আমি ফোন করে ডাক্তার দেখাতে বলি। বাসার সামনেই ডা. আজমল হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার ভোরে অবস্থার অবনতি হলে রুমের অন্যরা তাকে ওই হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আল আমিন মারা যান।

লেবু মানুষের যে কোনও প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়তো সে। নিজে এরই মধ্যে ১৩ বার রক্ত দিয়েছে। এলাকা থেকে ঢাকায় কেউ চিকিৎসায় এলে তাকে পাওয়া যেতো। কারো রক্তের প্রয়োজন হলে নিজের ঘুম হারাম করতো। 

স্থানীয়রা জানায়, আল-আমিন লেবু তিন ভাই ও মা-বাবা নিয়ে তাদের পরিবার। ভাইদের মধ্যে তিনি মেজ। বড়-ছোট ভাই ঢাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। বাবা শামছুল রহমান ঘুটা (গোবর শুকিয়ে তৈরি করা জ্বালানি) বিক্রি করেন। আল আমিনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিবারের সদস্যরা আলোর মুখ দেখছিল। সেই আলো নিভে গেল।

আল-আমিনের চাচা আবু সাঈদ বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছেন আমার ভাতিজা। বুধবার রাত ৩টার দিকে আল-আমিন মোবাইল ফোনে তার বাবাকে জ্বরের কথা বলেন। তিনি চিকিৎসার জন্য বাবার কাছে কিছু টাকাও চান। তার বাবা আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে টাকা পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবার টাকা পাঠানোর আগেই মারা গেল আল-আমিন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। আল-আমিনের লাশ নিয়ে তার পরিবার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

লেবুর এমন মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ চলছে, অনেকেই স্মৃতিচারণ করছেন যারা লেবুকে চিনতেন। 



সাতদিনের সেরা