kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

মাঝ আকাশে হার্ট অ্যাটাকের পরও সফলভাবে উড়োজাহাজ অবতরণ করানো কে এই পাইলট?

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ আগস্ট, ২০২১ ১৩:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঝ আকাশে হার্ট অ্যাটাকের পরও সফলভাবে উড়োজাহাজ অবতরণ করানো কে এই পাইলট?

ইনসেটে পাইলট নওশাদ আতাউল কাইয়ুম।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। মাস্কাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করা ফ্লাইটটি শুক্রবার (২৭ আগস্ট) ১১টা ৪০ মিনিটে ভারতের নাগপুরে জরুরি অবতরণ করে। মাঝ আকাশে পাইলট হার্ট অ্যাটাক করলে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করে।

উড়োজাহাজটিতে পাইলটের দায়িত্ব পালন করছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। যিনি পেশাগত দক্ষতা ও নৈপুণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ কারণেই হয়ত মাঝ আকাশে হার্ট অ্যাটাকের পরও উড়োজাহাজটি নামাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সকালে বোয়িং-৭৩৭-৮০০-এর (বিজি-২২) ফ্লাইটটি ১২৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ওমান থেকে উড্ডয়ন করে। এরইমধ্যে পাইলটের হার্ট অ্যাটাকের পর নাগপুরে এসে জরুরি অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। তবে এতে আরোহী কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। পাইলট নওশাদ আতাউল কাইয়ুমকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে তার এনজিওগ্রামও হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাংলাদেশ বিমান সূত্র জানিয়েছে, এই সেই পাইলট নওশাদ, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি ফ্লাইট দক্ষতার সঙ্গে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে পারায় পেশাগত দক্ষতা ও নৈপুণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বরের ঘটনা। সেদিন ভোররাতে মাস্কাট বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ প্লেনে ১৪৯ যাত্রী ও সাতজন ক্রু নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল। বিজি-১২২ ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করার পর মাস্কাট বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ক্যাপ্টেন নওশাদকে জানানো হয়, রানওয়েতে টায়ারের কিছু অংশ পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত তার প্লেনের হতে পারে। ওই তথ্যের পর অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাপ্টেন নওশাদ তার ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের পরিবর্তে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।

এ সময় তাঁর অনুরোধে ঢাকায় জরুরি অবতরণের জন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবতরণের আগে ক্যাপ্টেন ফ্লাইটটি নিয়ে রানওয়ের উপরে দুই বার লো-লেভেলে ফ্লাই করেন। তখন দেখা যায়, আসলেই প্লেনটির পেছনের দুই নম্বর টায়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ক্যাপ্টেন নওশাদ অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত টায়ার ও ল্যান্ডিং গিয়ারসহ নিরাপদে ফ্লাইটটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন। সবাই সুস্থ ও নিরাপদে উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসেন।

এমন দক্ষতার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুমকে পেশাগত দক্ষতা ও নৈপুণ্যের প্রশংসা করে স্বীকৃতি দেয় আন্তর্জাতিক পাইলট অ্যাসোসিয়েশন।



সাতদিনের সেরা