kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

আগামীকাল বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য পিসি রায়ের জন্মবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০২১ ১৯:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগামীকাল বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য পিসি রায়ের জন্মবার্ষিকী

আগামীকাল ২ আগস্ট বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের (পিসি রায়) জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক, দার্শনিক ও কবি। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্কারি (ও) নাইট্রেটের আবিষ্কারক। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা, খুলনা ও গ্রামের বাড়ি বাড়–লিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। গুণীজন স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে আগামীকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ভুবনমোহিনী দেবী ও হরিশচন্দ্র রায়ের পুত্র প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তৎকালীন যশোর জেলার (বর্তমানে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা) রাড়ুলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা হরিশচন্দ্র রায় ছিলেন স্থানীয় জমিদার। বনেদি পরিবারের সন্তান প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পড়ালেখা শুরু বাবার প্রতিষ্ঠিত এমই স্কুলে। ১৮৭২ সালে তিনি কলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন, কিন্তু রক্ত আমাশায় রোগের কারণে তার পড়ালেখায় ব্যাপক বিঘেœর সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে যান। ১৮৭৪ সালে পুনরায় কলকাতায় ফিরে অ্যালবার্ট স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই ১৮৭৮ সালে তিনি স্কুল ফাইনাল তথা প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি মেট্রোপলিটন কলেজে (বর্তমান বিদ্যাসাগর কলেজ) ভর্তি হন। ১৮৮১ সালে সেখান থেকে কলেজ ফাইনাল তথা এফএ পরীক্ষায় (এইচএসসি) পাশ করে তিনি প্রেসিডেন্সী কলেজে বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। এরপর প্রেসিডেন্সী থেকে গিলক্রিস্ট বৃত্তি নিয়ে তিনি স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যান। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএসসি পাশ করেন এবং সেখানে ডিএসসি ডিগ্রী লাভের জন্য গবেষণা শুরু করেন। দুই বছরের কঠোর সাধনায় তিনি এই গবেষণা সমাপ্ত করেন এবং পিএইচডি ও ডিএসসি ডিগ্রী লাভ করেন। এমনকি তার এই গবেষণাপত্রটি শ্রেষ্ঠ মনোনীত হওয়ায় তাকে হোপ প্রাইজে ভূষিত করা হয়।

বিজ্ঞানী পিসি রায় ১৮৮৮ সালে দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সী কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় ২৪ বছর অধ্যাপনাকালে রসায়ন নিয়ে তিনি অনেক গবেষণাও চালিয়েছেন। তার নিজস্ব গবেষণাগার থেকেই বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা সৃষ্টি হয়। ১৯০১ সালে তা কলকাতার মানিকতলায় ৪৫ একর জমিতে স্থানান্তর করা হয়। তখন নাম রাখা হয়, বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড। যা ভারতবর্ষের শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ১৮৯৫ সালে তিনি মার্কারি (ও) নাইট্রেট (মারকিউরাস নাইট্রাইট) আবিষ্কার করেন। যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এটি তাঁর অন্যতম প্রধান আবিষ্কার। তিনি তাঁর সমগ্র জীবনে মোট ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন।

সমবায়ের পুরোধা স্যার পিসি রায় ১৯০৯ সালে নিজ জন্মভূমিতে একটি কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৩ সালে পিতার নামে আরকেবিকে হরিশ্চন্দ্র স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯১৮ সালে বাগেরহাটে পিসি কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। যা আজ বাংলাদেশের শিক্ষা বিস্তারে বিশাল ভূমিকা রাখছে। ১৯১৯ সালে তিনি ব্রিটিশ সরকারের থেকে নাইট উপাধি লাভ করেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ও সকল ক্ষেত্রেই উদারপন্থী এই মানুষটি ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।



সাতদিনের সেরা