kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

♦ পদভেদে প্রস্তুতি ♦ পরীক্ষাপদ্ধতি ♦ দায়িত্ব

ডাক বিভাগে চাকরি

ইন্সপেক্টর, উপজেলা পোস্টমাস্টার, জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ মোট ৩০ ধরনের পদে ২৬৯ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পদের নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি, প্রস্তুতি, পদের বিবরণ ও দায়িত্ব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন রবিউল আলম লুইপা

৩১ জুলাই, ২০২১ ০৯:৩৩ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ডাক বিভাগে চাকরি

ইন্সপেক্টর (গ্রেড-১২) :
ইন্সপেক্টর অব পোস্ট অফিসেস ও সমমানের পদগুলো ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদ। এই পদের কর্মকর্তারা পোস্ট অফিসের অপারেশনাল ফাংশনগুলো সম্পাদন করেন। একজন ইন্সপেক্টর তাঁর আওতাধীন উপবিভাগের মেইল লাইন নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং সঠিকভাবে চিঠিপত্র গ্রহণ ও বিলি প্রক্রিয়া দেখভাল, মেইল ক্যারিয়ার ও পোস্টম্যানদের নিয়ন্ত্রণ, আওতাধীন অফিসে নিয়মিত পরিদর্শন, কোনো পোস্ট অফিসের ক্ষয়ক্ষতি বা জালিয়াতিসহ যেকোনো বিষয়ে তদন্ত করেন। ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল বরাবর রিপোর্ট প্রদানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আরোপিত সব দায়িত্ব তিনি পালন করেন। সাধারণত বাংলাদেশের যেকোনো জেলা পোস্ট অফিস/ডিপিএমজির কার্যালয়ে ইন্সপেক্টরের পদায়ন হতে পারে। ‘বাংলাদেশ পোস্ট অফিস (গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০১৫’ অনুসারে ইন্সপেক্টর পদ থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে সুপারিনটেনডেন্ট (গ্রেড-১১) পদে পদোন্নতির সুযোগ আছে। ইন্সপেক্টর পদের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হতে পারে। এমসিকিউ (বহু নির্বাচনী প্রশ্ন) আদলের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান (সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটারসহ) বিষয়ে ৭০ বা ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকতে পারে।

উপজেলা পোস্টমাস্টার (গ্রেড-১৩) :
এই নিয়োগ কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি পদ থাকছে ‘উপজেলা পোস্টমাস্টার’ পদে (৯৬ জন)। উপজেলা পোস্টমাস্টার সাধারণত উপজেলার পোস্ট অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উপজেলা পোস্ট অফিসের ডাক সেবা (দেশি-বিদেশি চিঠি/পার্সেল গ্রহণ ও বিতরণ) এবং আর্থিক সেবাগুলো (সঞ্চয়পত্র, সঞ্চয় ব্যাংক, রেভিনিউ স্ট্যাম্প বিক্রয়, ডাক জীবন বীমার প্রিমিয়াম গ্রহণ ও অন্যান্য) নিশ্চিত করেন। অফিসভেদে উপজেলা পোস্ট অফিসে সাধারণত পাঁচ থেকে সাতজনের মতো কর্মরত থাকেন। নিয়োগের পর দেশের যেকোনো উপজেলার পোস্ট অফিসে পোস্টিং হতে পারে। উপজেলা পোস্টমাস্টার থেকে প্রমোশন পেয়ে ডেপুটি পোস্টমাস্টার (গ্রেড-১১) হওয়ারও সুযোগ আছে। এই পদের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হতে পারে। উপজেলা পোস্টমাস্টার পদের বিগত নিয়োগ পরীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এমসিকিউ টাইপের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান (সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটারসহ) বিষয়ে ২০১৬ সালে ৭০টি এবং ২০১০ সালে ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্ন করা হয়েছে।

জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট (গ্রেড-১১) :
জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদের সংখ্যা আট। ডাক অফিসের আর্থিক হিসাব রক্ষা করাই জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদের মূল দায়িত্ব। নিয়োগের পর ডাক অধিদপ্তরে বা মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশের যেকোনো পোস্ট অফিসে পদায়ন হতে পারে।

নিয়োগ বিধিমালা (২০১৫) অনুসারে হিসাব শাখার পদসোপান হলো জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট> ঊর্ধ্বতন হিসাবরক্ষক> হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা> ঊর্ধ্বতন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা> পরিচালক (পিএলআই হিসাব)> পরিচালক (হিসাব)।

উল্লেখ্য, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (গ্রেড-৯) পদটির দুই-তৃতীয়াংশ পদে সাধারণত সরাসরি নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং এক-তৃতীয়াংশ পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদের নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ বিষয়গুলোর পাশাপাশি হিসাব সম্পর্কিত এমসিকিউও থাকতে পারে।

সাঁটলিপিকার/মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩ ও ১৪) :
সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে (গ্রেড-১৩) ছয়জন ও সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে (গ্রেড-১৪) আটজন নিয়োগ পাবেন। অন্য সব দপ্তরের মতো এখানেও সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিয়মিত ফাইলওয়ার্ক সম্পাদনে সহায়তা করেন। চলতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ডাক অধিদপ্তরে পদায়ন পাবেন। নিয়োগ বিধিমালা অনুসারে একজন সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে স্টেনোগ্রাফার এবং সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী (ডাক অধিদপ্তর) হতে পারেন। বিভিন্ন দপ্তরের সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদের বিগত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাধারণ পদগুলোর মতোই বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটার, সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ৭০ বা ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার আগে কম্পিউটার জ্ঞানের ওপর ব্যাবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়।

পোস্টাল অপারেটর :
অনেকেরই পোস্টাল অপারেটর ও মেইল অপারেটর পদ নিয়ে আগ্রহ আছে। সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘পোস্টাল অপারেটর (গ্রেড-১৬)’ পদটি থাকলেও ‘পোস্টাল অপারেটর (গ্রেড-১৫)’ ও ‘মেইল অপারেটর (গ্রেড-১৫)’ পদের কথা উল্লেখ নেই। প্রার্থীদের ধারণা দেওয়ার জন্য এখানে দরকারি কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

সাধারণত পোস্টমাস্টার জেনারেলের সার্কেল অফিস থেকে পোস্টাল অপারেটর ও মেইল অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়। একজন পোস্টাল অপারেটর বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, যেমন—পোস্ট অফিসের বিভিন্ন কাউন্টার (চিঠি/পার্সেল ইস্যু কাউন্টার, ডেলিভারি কাউন্টার, সঞ্চয়পত্র কাউন্টার, সঞ্চয় ব্যাংক কাউন্টার ইত্যাদি) সার্ভিস ও সার্কেল অফিসের ফাইলওয়ার্ক/শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে একজন মেইল অপারেটর চিঠিপত্র সর্টিং ও মেইল পরিবহন সংক্রান্ত কাজ করেন। পোস্টাল অপারেটর থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে ক্যাশিয়ার, ইন্সপেক্টর, সুপারিনটেনডেন্ট পদগুলোতে যাওয়ার সুযোগ আছে। ২০১৯ সালের পোস্টাল ও মেইল অপারেটর নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ঘেঁটে দেখা গেছে, এখানে অন্যান্য দপ্তরের সাধারণ পদগুলোর মতোই বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটার, সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ৭০টি এমসিকিউ প্রশ্ন রাখা হয়েছিল।

অন্যান্য পদ :
সহকারী (ডাক অধিদপ্তর) (গ্রেড-১৩) পদে চাকরি পাবেন চারজন। এই পদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিয়মিত ফাইলওয়ার্ক সম্পাদন করতে সহায়তা করা। নিয়োগপ্রাপ্তদের পদায়ন হবে ডাক অধিদপ্তরে।

এ ছাড়া কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী, ড্রাফটসম্যান, ড্রাইভার (হালকা), মেশিনিস্ট, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ক্লিনার)—এসব পদের কর্মচারীদের ডাক অধিদপ্তরে; স্ট্রিপার-কাম-রিটাচার, মনোটাইপ কি-বোর্ড অপারেটর, ক্যাশিয়ার, মেশিনম্যান, ড্রাইভার (ভারী), পোস্টাল অপারেটর, গ্রেনিং মেশিনম্যান, সহকারী মেশিনম্যান, বাইন্ডার হেলপার, ইনকম্যান, প্যাকার, পোর্টার, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইত্যাদি পদের কর্মচারীদের গাজীপুরের (টঙ্গী) পোস্টাল প্রিন্টিং প্রেসে এবং অ্যাকাউন্টস অ্যাসিস্ট্যান্টস পদের কর্মীদের ঢাকা আন্তর্জাতিক ডাক হিসাবরক্ষণ অফিসে পদায়ন করা হবে।

♦ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে http://dgbpo.teletalk.com.bd সাইটে গিয়ে ‘নোটিশ’ ও ‘অ্যাডভার্টাইজমেন্ট’ ক্লিক করুন।

♦ অনলাইনে আবেদন : http://dgbpo.teletalk.com.bd

♦ আবেদনের শেষ সময় ১৮ আগস্ট ২০২১।

একনজরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন একটি সেবাধর্মী সরকারি প্রতিষ্ঠান। দেশব্যাপী সুবিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠান বহুমুখী মৌলিক ডাক সেবা এবং আর্থিক ও তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ডিজিটাল ডাক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের প্রধান পরিষেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ডাক দ্রব্যাদি গ্রহণ, পরিবহন ও বিলিকরণ, রেজিস্ট্রেশন সেবা, ভ্যালু পেয়েবল (ভিপি) সেবা, বীমা সেবা, পার্সেল সেবা, বুক পোস্ট (বুক প্যাকেট ও প্যাটার্ন প্যাকেট), রেজিস্টার্ড সংবাদপত্র, মানি অর্ডার সেবা, এক্সপ্রেস সেবা (জিইপি ও ইএমএস), ই-পোস্ট ইত্যাদি সেবা প্রদান।

ডাক অধিদপ্তর, পোস্টমাস্টার জেনারেল, ডেপুটি পোস্টমাস্টারের কার্যালয় ও জেলা প্রধান ডাকঘর এবং সাব-পোস্ট অফিসগুলোর মাধ্যমে সব আর্থিক ও ডাক কার্যক্রম পরিচালনা করে ডাক বিভাগ। পোস্টমাস্টার জেনারেল নিয়ন্ত্রিত পাঁচটি পোস্টাল সার্কেল হচ্ছে—কেন্দ্রীয় (ঢাকা), মেট্রো (ঢাকা),  পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম), দক্ষিণাঞ্চল (খুলনা), উত্তরাঞ্চল (রাজশাহী)।



সাতদিনের সেরা