kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

আখলাকুল হোসাইন আহমেদ স্মৃতি গ্রন্থগারের যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জুলাই, ২০২১ ২২:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আখলাকুল হোসাইন আহমেদ স্মৃতি গ্রন্থগারের যাত্রা শুরু

যাত্রা শুরু করল গণপরিষদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. আখলাকুল হোসাইন আহমেদ স্মৃতিগ্রন্থাগার। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগরে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি যাত্রা করলো।

গত রবিবার সকালে অনলাইনে যুক্ত হয়ে গ্রন্থাগারটি উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফর হাসান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান। শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ও নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চিš§য় চক্রবর্তী ও নাজনীন সুলতানা।

কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেটের সঙ্গে অনেকেই যুক্ত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেটের মাধ্যমে আরও বেশি কাজ করছেন। ইন্টারনেটের অবাধ বিস্তার আছে বলে যে লাইব্রেরির আবেদন শেষ হয়ে যাবে তা নয়। পশ্চিমাদেশগুলোতেও কিন্তু প্রতিনিয়ত বই প্রকাশ হচ্ছে, বিপনন হচ্ছে এবং সংরক্ষণ হচ্ছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে লাইব্রেরি মুখি হতে হবে। ইন্টারনেটকে চ্যালেঞ্জ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের কাছে বই পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদেরও লাইব্রেরিমুখী হওয়া দরকার। শিক্ষকরা লাইব্রেরিতে গেলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহী হয়। আজকাল দেখি শিক্ষকদের পড়ার অভ্যাস নেই। অনেকে মনে করেন বই পড়ে চাকরি পেয়ে গেলে আর বুঝি পড়তে হয় না। ব্যাপারটা তা নয়। নিজে সমৃদ্ধ না হলে সুন্দর পাঠদান সম্ভব হয় না। শিক্ষকদের পাঠদান ও পাঠাভ্যাস মনিটরিং করার ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

নির্মলেন্দু গুণ বলেন, লাইব্রেরিতে যে পড়াশোনা জানা মানুষ আসবে তা নয়। এখানে সুন্দর সুন্দর বই আছে। বইয়ের ভেতর ছবি আছে, মানচিত্র আছে। এসব দেখে দেশ ও দেশের বাইরের বিষয় সম্পর্কে জানবে। তিনি বলেন, মানুষ তীর্থ স্থানে যান পড়াশোনার জন্য নয় দর্শনের জন্য। লাইব্রেরি দর্শন করেও মানুষ তৃপ্তি লাভ করে, জ্ঞানের পিপাষা মিটায়।

লাইব্রেরিটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আখলাকুল হোসাইন আহমেদের ছেলে বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। তিনি বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিলো এলাকায় একটি কলেজ করা। তিনি তা করে যেতে পারেননি। তাই আমি এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সরকারি সহায়তায় শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় স্থাপন করেছি। সেই মহাবিদ্যালয়েই লাইব্রেরিটি করা হয়েছে।

তিনি জানান, লাইব্রেরিটিতে ৫ হাজার বই রাখার ব্যবস্থা আছে। ইতোমধ্যে বিষয় ভিত্তিক ১২ শত বই আছে। একজন লাইব্রেরিয়ান একটি সফটওয়্যার দিয়ে লাইব্রেরির পুরো কার্যক্রম যেন করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ বিষয় ভিত্তিক কর্নার থেকে বই সংগ্রহ করে সুন্দর পরিবেশে বই পড়ার সুযোগ আছে।



সাতদিনের সেরা