kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

এলোমেলো কভিড চিন্তা-ভাবনা

ডা. মো. একরামুল কবীর   

৩০ জুন, ২০২১ ০১:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এলোমেলো কভিড চিন্তা-ভাবনা

ডা. মো. একরামুল কবীর

মূল কথা হলো ঘরে, বাসা বাড়িতে থাকতে হবে। ধর্মীয় ভাবেও বলা হয়েছে যে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে অথবা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে স্থান পরিবর্তন না করতে। অর্থাৎ যে যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করতে হবে। এখন প‍্রশ্ন আসবে, ঘরে যে থাকব, আয় আসবে কেমন করে? আর আয় না হলে খাব কি? সংসার কেমনে চলবে? 

মাসের পর মাস লকডাউন (যেটাকে আদৌ লকডাউন বলা যায় কিনা সেটা সবাই বলবেন) থাকার কারণে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, অনেকের আয় অনেক কমে গেছে এটাও বাস্তব। আবার গত ঈদের সময় দেখা গেল ব‍্যাপক সংখ্যক মানুষ কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে শপিংমলগুলোতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কেনাকাটা করলেন। তাতে বোঝা গেল কিছু মানুষের কাছে অর্থ অব‍শ‍্যই আছে।

আমরা জানি করোনাভাইরাস চৌদ্দ দিনের বেশি কারো শরীরে বাঁচতে (সারভাইভ করতে) পারে না। অর্থাৎ কভিডে আক্রান্ত কোনো ব‍্যক্তি ১৪ দিন পর্যন্ত যদি অন‍্য কারো সংস্পর্শে না যায় তাহলে ভাইরাসের সংক্রমণ আর থাকে না। এখন ভাইরাসটির মিউটেশন (চারিত্রিক ও অন্যান্য জিনগত পরিবর্তন) হয়ে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট নামে ব‍্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে বর্ডার এলাকাসহ এখন সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা সবাই জানতে পারছি। প্রতিদিন সারা দেশে প্রায় এক শ জন বা এর কাছাকাছি মানুষ কভিডে মৃত্যুবরণ করছেন। এখন যদি সংক্রমণ ঠেকানো না যায় তাহলে পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ হবে বুঝতে আর করো বাকি নেই। তাহলে আমাদের কি করা উচিৎ?

আমাদের আগামী ১৫ দিন কষ্ট করে হলেও ঘরে থাকতে হবে। ঘরে আপনি শুয়ে থাকবেন নাকি বসে থাকবেন? নাকি শুয়ে বসে থাকবেন? নাকি বাচ্চা দেখাশোনা এবং পরিবারকে সময় দেবেন? নাকি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন ও বেশি বেশি করে দোয়া দরুদ পড়বেন? নাকি ফেসবুক করবেন? মেসেঞ্জারে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু  এবং কলিগদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে পারেন। মুভি দেখতেও পারেন। উপন‍্যাস পড়া বা পড়ালেখা করতেও পারেন। নাকি ফুলের বাগানের পরিচর্যা করবেন? নিয়মিত ব‍্যায়াম করবেন? করতে পারেন। নাকি শুধু ঘুমাবেন? নাকি যেসব করণীয় বিষয় বলা হলো তার সব কিছুই করবেন?

এসব নির্ভর করছে একান্তই আপনার নিজের ইচ্ছা ও চাওয়ার ওপর। সুতরাং ঘরে থাকা মানেই যে শুয়ে বসে থাকা, ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। আমি পরামর্শ দেব উল্লেখিত সব কিছুতেই ইনভলভ হতে। তাহলে নিজেকে ঘরবন্দি মনে হবে না। আর এভাবে  অর্ধখোলা অর্ধবন্ধ, সীমিত আকার- ইত্যাদির মাধ্যমে লকডাউন শব্দটির বারোটা বাজিয়ে মাসের পর মাস কথিত লকডাউন (কথিত মানে যেটা জনগণ মানছে না) না দিয়ে একটানা ১৫ দিন কারফিউ বা ১৪৪ ধারা জারি করতে হবে।

ইনশাআল্লাহ সংক্রমণ শূন্যের কাছাকাছি হলে সব আবার স্বাভাবিক হতে পারবে। ১৫ দিন জনগণকে কষ্ট মেনে নিতে হবে। সরকারকে হতদরিদ্র এবং দিনমজুর যারা আছেন তাদেরকে এই ১৫ দিনের খাবারের ব‍্যবস্থা করতে হবে। নিম্ন মধ‍্যবিত্ত যারা  অর্থকষ্টে পড়তে পারেন তাদেরকে (গোপনীয়ভাবে) স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে চিহ্নিত  করে ১৫ দিনের চলার মতো চাল-ডালের ব‍্যবস্থা করতে হবে। সরকারের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া লজ্জার কোনো বিষয় না- এটা নিম্ন মধ‍্যবিত্তদের বুঝতে হবে। 

দরকার হলে সরকারি চাকরিজীবী ও আধা সরকারি চাকরিজীবিদের কাছ থেকে এক দিনের বেতন কর্তন করে ফান্ড গঠন করে সাহায্য করা যেতে পারে। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আগামী ১৫ দিন শুধুমাত্র জরুরি কাজে নিয়োজিত ব‍্যক্তি যেমন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী (হাসপাতালে যাওয়ার জন্য), পুলিশ (কর্তব্যরত), প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর সদস্য ও অন‍্যান‍্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা (কভিড নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত) ও অন‍্যান‍্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব‍্যক্তি ছাড়া সকল প্রকার চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। এটা করতে পারলে ভালো ফলাফল আসতে পারে। সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এ জন্য যে, সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন কভিড সংক্রমণ কমানোর। মনোযোগ দিয়ে লেখাটি পড়ার ও বোঝার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। মহান আল্লাহ্ আমাদের এই অতিমারি কভিড থেকে সবাইকে সুরক্ষা করুন এই দোয়া করছি।

লেখক : কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক



সাতদিনের সেরা