kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

কেমন হতে পারে শাটডাউন?

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জুন, ২০২১ ১৮:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেমন হতে পারে শাটডাউন?

করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে একটানা ১৪ দিনের সম্পূর্ণ শাটডাউন দেওয়ার সুপারিশ করেছে কভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। গত বুধবার কমিটির ৩৮তম সভায় বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে সারা দেশেই উচ্চ সংক্রমণ, পঞ্চাশোর্ধ্ব জেলায় অতি উচ্চ 

কভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকার চারপাশে বসবাসকারী যেসব মানুষ ঢাকায় চাকরি বা কাজ করে, তাদের চাপে ভেঙে পড়েছে লকডাউনের সুরক্ষাবলয়। এখন আর এই লকডাউন দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে বলে মনে হয় না। বড়জোর সংক্রমণের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। কিন্তু ভারতীয় ভেরিয়েন্টের যে চেহারা দেখছি, তাতে এই ধীরগতি রাখার পরিকল্পনা বা কৌশল খুব একটা কাজে খাটবে না। মোটের ওপর পরিস্থিতি এখন এমন যে মানুষও এক রকম মহামারির সঙ্গে গা-সওয়া অবস্থায় আছে, আর সরকারও হয়তো তেমনি গাছাড়া ব্যবস্থায় আটকে আছে।

রোগ প্রতিরোধের জন্য খণ্ড খণ্ডভাবে গৃহীত কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অন্যান্য দেশ, বিশেষত পাশের দেশ ভারতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এর বিস্তৃতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। তাঁদের মতামত অনুযায়ী যেসব স্থানে পূর্ণ শাটডাউন প্রয়োগ করা হয়েছে, সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এবং জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ শাটডাউন দেওয়ার সুপারিশ করছে। জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সব কিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।

সভায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছেন। এই রোগ থেকে পূর্ণ মুক্তির জন্য ৮০ শতাংশের ঊর্ধ্বে মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশ থেকে টিকা সংগ্রহ, লাইসেন্সের মাধ্যমে দেশে টিকা উৎপাদন করা ও নিজস্ব টিকা তৈরির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গবেষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টার প্রতি কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের প্রস্তুতি আছে, যেকোনো সময় কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার করোনা পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞরা তো নিয়মিতই পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারও সে অনুসারে নির্দেশনা দিচ্ছে। কিন্তু পরামর্শ বা নির্দেশনা যদি বাস্তবায়ন করা না যায় তবে তো সংক্রমণ ঠেকানো মুশকিল হবেই। এ ক্ষেত্রে সবাইকেই দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে। মানুষকেও সতর্ক ও সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে নিজেদের স্বার্থেই। কিন্তু মানুষ যেভাবে বেপরোয়া আচরণ করছে, সেটা তো থামানো যাচ্ছে না। তবে সবার মনে রাখা উচিত সংক্রমণ যদি হাসপাতাল উপচে পড়ে তবে কিন্তু কিছুই করার থাকবে না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে সুরক্ষার জন্য আশপাশের জেলায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে। তার পরও মানুষ ছুটছে ঢাকায়। ঢাকায় সব কিছু খোলা থাকায় মানুষ নানা অজুহাতে হেঁটে আসা-যাওয়া করছে। কিন্তু দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধে অন্ততপক্ষে কিছুটা হলেও চলাচল নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। এতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা হলেও কম থাকবে।

শাটডাউনে কী থাকবে?  জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সব কিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বলছেন, এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে। 

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির আরেক সদস্য বলেন, লকডাউন শব্দটি এখন হেলাফেলার হয়ে গেছে। লকডাউনের মধ্যেও গণপরিবহন চলছে, মার্কেট শপিংমলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। এ কারণে তারা ‘কারফিউ’ শব্দটি প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারফিউ হোক আর শাটডাউন হোক, সারাদেশে আগামী ১৪ দিনের জন্য যানবাহন ও মানুষের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতির ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। এমনকি চিকিৎসাসেবা বন্ধের উপক্রমও হতে পারে হাসপাতালে।



সাতদিনের সেরা