kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

মৌলবাদীদের পরাস্ত করে অর্থনীতিতে বিকাশের পথে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক   

৯ জুন, ২০২১ ১৯:১২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মৌলবাদীদের পরাস্ত করে অর্থনীতিতে বিকাশের পথে বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি।

সবে ৫০ হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স। পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তির পরও অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু সমস্ত বাধা টপকেই পাকিস্তানকেও টেক্কা দিয়ে আজ বিকশিত বাংলাদেশের অর্থনীতি। মাত্র দু-বছরের মধ্যেই 'স্বল্পোন্নত' থেকে 'উন্নয়নশীল' দেশের তকমা আদায় করে নিতে চলেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-ই এমন আশার কথা শুনিয়েছে। তাদের অনুমান অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৪ সালের মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হবে। আর এই সাফল্যের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। তাঁর জন্যই বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণে আজ সাফল্যের আলো দেখতে চলেছে।

সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতার কোনো অভাব নেই। এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মৌলবাদীদের সমস্যা প্রতিনিয়ত উন্নয়নপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিঃশব্দে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে থেকেছে অবিচল। সর্বশেষ পাওয়া সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী মাথাপিছু জিডিপিতে পাকিস্তান ও ভারতকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়া মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ আজ এক নম্বরে। 
 
বাংলাদেশের এই উন্নয়নের মূল কারণ একাধিক। প্রাণবন্ত গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের কথা প্রথমেই উল্লেখ করতে হয়। গোটা দুনিয়ায় চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরেই পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের স্থান। পাশাপাশি চামড়া, জুতো, মাছ, প্লাস্টিক প্রভৃতি রপ্তানির বহরও অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে রাজনৈতিক স্থিরতা। আওয়ামী লিগের আমলে হরতাল সংস্কৃতি ভুলে গিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে দ্রুততর হয়েছে আর্থিক অগ্রগতি। বেগবান উন্নয়নের হাত ধরে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারও ভরে উঠেছে। 

পাকিস্তানের মাত্র ২২ বিলিয়ন ডলার ফরেন রিজার্ভের তুলনায় বাংলাদেশে রয়েছে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ছিল বাংলাদেশের থেকে ৮০ শতাংশ বেশি ধনী। আর এখন পাকিস্তানকে টেক্কা দিয়ে বাংলাদেশ তাদের থেকে অন্তত ৪৫ শতাংশ বেশি ধনী দেশে পরিণত হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে অসাধারণ উন্নতি করে চলেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের বহর বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ। মুক্ত বিনিয়োগ নীতির হাত ধরে বিদেশিদের বিনিয়োগে মিলছে আইনি রক্ষাকবচ। এইচএসবিসির অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দুনিয়ার ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে।

উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। ৩০ মিলিয়নেরও বেশি (তিন কোটি) মধ্যবিত্ত আজ মাঝারি থেকে উচ্চ আয়ভুক্ত। নাগরিকদের উদার মূল্যবোধের সঙ্গে রয়েছে জঙ্গিবাদী ও মৌলবাদীদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রচেষ্টা। সঠিক বিচারপ্রক্রিয়ায় কড়া শাস্তি পাচ্ছে অপরাধীরা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আজ সেই নীতিরও সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ।

তবে পাকিস্তানপন্থী জঙ্গিবাদীরা দেশের এই উন্নয়নে মোটেই খুশি নয়। তারা এখনও স্বপ্ন দেখে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তকরণের। তাই মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদীদের নব্য-রাজাকারদের কাছ থেকে মদদ পাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিতেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার হোলি আর্টিজেন বেকারিতে নৃশংস হামলা চালায়। জামাআ'তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৫ জঙ্গি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তির সহায়তায় ১৭ জন বিদেশিসহ ২৯ জনকে হত্যা করে। স্তব্ধ করে দিতে চায় দেশের উন্নয়ন। তবে পাল্টা আঘাত হানতেও সময় নেননি বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর সদস্যরা। তৎকালীন সন্ত্রাস দমন শাখার প্রধান মেজর জেনারেল আকবর হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিজাত প্রথম প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এবং ডিজিএফআই যৌথ অভিযানে ৫ হামলাকারীকেই নিকেশ করতে সক্ষম হয়। ঘটনার পরদিনই কমান্ডোরা ঘটনাস্থল দখল নেওয়ায় আর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি জঙ্গিরা। ডিজিএফআইয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রদ্রোহীদের বহু নাশকতার ছকই বানচাল করা সম্ভব হয়েছে। লে. জেনারেল আকবর হোসেনের (হোলি আর্টিজেনের ঘটনার পরবর্তীতে তিনি লে. জেনারেল পদে উন্নীত হন। ডিজিএফআই-এর ডিজিও হয়েছিলেন। ছিলেন কাউন্টার ইনসারজেন্সি ব্যুরোর প্রধান। এখন তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট) নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় দেশে কিংবা বিদেশে বহু সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ছক ধংস করতেও সক্ষম হয়েছে। দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সন্ত্রাস দমনে সাফল্যও বিশেষ সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে।  
 
হোলি আর্টিজেনের ঘটনার পর আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশকে। জাপান, ইতালির মতো রাষ্ট্র এ দেশে বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তাতেও দমেনি বাংলাদেশ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ভর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন। বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে সন্ত্রাসীদের মাথা তুলে দাঁড়াবার সুযোগই দেননি তিনি। 

ডিজিএফআই, এনএসআই ও পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের অভিজাত বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) বহু জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হয়। ২০২০ সালেই ১৫টি বড় ধরনের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ৩৫ জন সন্ত্রাসী মারা গিয়েছে বলে জানা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাস দমনে ঐকান্তিক চেষ্টায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আস্থা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশও ধরে রেখেছে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। তবে এই অগ্রগতিকে ধরে রাখতে হলে যেকোনো মূল্যে দেশ থেকে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদকে খতম করতেই হবে। সন্ত্রাসবাদ ও তাদের দোসর মৌলবাদকে নির্মূল করাই তাই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। 



সাতদিনের সেরা