kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

সামাজিক শক্তির জাগরণ ও মৌলবাদের কালো থাবা

শেখর ভট্টাচার্য   

৩ জুন, ২০২১ ১৭:০৬ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



সামাজিক শক্তির জাগরণ ও মৌলবাদের কালো থাবা

প্রতীকী ছবি

কার্ল মার্ক্সের মতো কট্টর বস্তুবাদী দার্শনিককে গ্রিক উপকথার কাহিনি উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিল। যতই বস্তুবাদী হন না কেন গ্রিক উপকথার তাত্পর্যকে তিনি এড়িয়ে যেতে পারেননি। মার্ক্স গ্রিক উপকথার এক অনিন্দ্যসুন্দর চরিত্র প্রমিথিউসকে আখ্যায়িত করেছেন ইতিহাসের প্রথম বীর এবং প্রথম শহীদ হিসেবে। প্রমিথিউস একটি পৌরাণিক চরিত্র। প্রতীকী অর্থে সমাজের অসামঞ্জস্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের তিনিই নেতা। আমরা আধুনিক সমাজের জটিল অবয়বে ও বুননে যে ক্ষুদ্রতা, শঠতা, নিপীড়ন ও লুণ্ঠন দেখি, সেখানে নাগরিক সমাজের উপলব্ধি ও কর্মকাণ্ডে প্রমিথিউসীয় আবেগ, অঙ্গীকার ও সততার বড়ই প্রয়োজন। এর অনুপস্থিতি এবং সুবিধাবাদের দৌরাত্ম্যে আমরা সমাজে অনেক আন্দোলন দেখলেও পরিবর্তন দেখি না। সামাজিক পরিবর্তন ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয় না। সামাজিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হয়। সামাজিক শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হয়। তাকে সংগঠিত করতে হয়। আধুনিক বিশ্বে নাগরিক সমাজের আন্দোলন হলো একটি যৌথ প্রয়াস। কোনো একজন পণ্ডিত বা বিদগ্ধ লোকের পক্ষে একা কিছু করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি এখানে অপরিহার্য নয়। ব্যক্তির উদ্যোগ, মোহময়, ত্যাগী চরিত্র সামাজিক জাগরণ, সামাজিক শক্তির ভাবনাকে কর্মে প্রতিফলন করতে ব্যক্তি একটি বড় প্রেরণা হতে পারেন মাত্র।

মৌলবাদী অন্ধকারের শক্তির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশে যখন এক সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল, তখন আমরা দেখি সরকার ও সরকারি দলকেই শুধু সুচিন্তিত উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে। সরকার যখন অত্যন্ত কুশলতার সঙ্গে একদিকে অতিমারি করোনা এবং অন্যদিকে একাত্তরের পরাজিত শক্তির মরণকামড় মোকাবেলা করছে—এ রকম সময়ে আমরা আমাদের সামাজিক শক্তি, সামাজিক সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা দেখতে পাইনি। সরকারি বিভাগগুলোর ওপর সব দায় অর্পণ করে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তা করতে আমরা দেখেছি। নাগরিক সমাজের অনেকেই মূলধারার ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এসে কী কী করা উচিত ছিল, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আমাদের নাগরিক সমাজ যেখানে স্বাধীনতার সপক্ষের সামাজিক শক্তির জাগরণ ঘটানোর জন্য কাজ করে যাবেন, সেখানে আমরা দেখতে পাই, সরকারি উদ্যোগের অর্ধেকটা কিংবা পুরোটাই যথাযথ হয়নি—এ রকম প্রশ্ন উত্থাপন করে করে নিজেদের দায় এড়িয়ে গেছেন। চরম নেতিবাচক মনোবৃত্তি নিয়ে তাঁরা ‘অর্ধেক গ্লাস খালি পানি’ তত্ত্বের প্রচার করে বেড়িয়েছেন।

আমরা জানি, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকেন। জাতীয় দুর্যোগ কিংবা বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী যেকোনো কর্মকাণ্ড জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের যৌথ প্রয়াসে সম্পন্ন করা যায় না। নাগরিক সমাজের সম্পৃক্ততা ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড সফলভাবে সমাপ্ত করা যায় না। নাগরিক সমাজ যুগপত্ভাবে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত এবং এর পরিণতি। রাজনীতিবিজ্ঞানের পণ্ডিতরা মনে করেন, নাগরিক সমাজকে কোনো রকম বাধা-বিঘ্ন ছাড়া বিকশিত হতে দিলেই উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সবচেয়ে ভালোভাবে কার্যকর হয়।

ঔপনিবেশিক আমলে সরকার আর রাজনৈতিক দলের বাইরে আমরা এক বিদ্বত্সমাজের অস্তিত্ব দেখতে পাই, যাঁরা অনেকটা সামাজিক ভালোমন্দের তথা অনুশাসনের দেখভাল করতেন, অনেক সময় সরকারকে সহায়তা করতেন, তবে বেশির ভাগ সময় সাধারণ লোকের ওপর সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান তথা সরকারি লোকের বাড়াবাড়ির নজরদারি করতেন। আমরা মহাত্মা গান্ধী, এমনকি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সঙ্গেও এই বিদ্বত্সমাজের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাই। তারা ভারতবর্ষের স্বাধীনতা এবং তত্পরবর্তীতে সামাজিক তথা রাজনৈতিক অনুশাসনবলয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তাঁদের অনেকেই প্রো-এস্টাবলিশমেন্ট বা প্রচলিত ধ্যান-ধারণার হলেও সুশিক্ষা বা স্বশিক্ষার কারণে কখনো সামাজিক বা সরকারের বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দেননি। শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও রাখেন।

১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে সুধীসমাজের পক্ষে সব পর্যায়কে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছিল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বঞ্চনার অবসান, সমাজতন্ত্র, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জনপ্রতিনিধির শাসনের স্লোগান তুলে। এ পর্বের সংগ্রামের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে। এটা ধ্রুব সত্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম সফল হয়েছিল একমাত্র বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ও দৃঢ়চেতা মনোভাব এবং ব্যাপক সামাজিক সংগঠিত সমাবেশের কারণে। এই সামাজিক সংগঠিত সমাবেশের উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের দেওয়া ১৯৭২ সালের শাসনতন্ত্রে, যেখানে জনপ্রতিনিধির শাসন স্বীকার করে নেওয়া হয়েছিল এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদকে।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশেও আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পেছনে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ঢেউ সক্রিয় ছিল। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, রাজনৈতিক আন্দোলন কখনো সফল হয় না সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সহায়তা ছাড়া। সাংস্কৃতিক আন্দোলন রাজনৈতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়। আবার রাজনৈতিক আন্দোলন সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। বাংলাদেশেও এটাই হয়ে আসছে সব সময়। এরশাদ হটাও আন্দোলন ছিল গোড়ায় সংস্কৃতিসেবীদের। পরে রাজনৈতিক আন্দোলন এরশাদকে সত্যি সত্যি গদিচ্যুত করে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচন জয়ের পেছনে, এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনেও বিশাল জয়ের পেছনে ছিল সংস্কৃতিসেবীদের সাহসী ভূমিকা। বাংলাদেশে যে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তার প্রতিষ্ঠা লাভ তার পেছনে ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্রসংগীত রক্ষার আন্দোলন, সাহিত্য সংসদ ও ছায়ানটের অবদানকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যায় না।

এখানে একটি কথা বলা দরকার। কোনো দেশের সমাজে যখন দুর্যোগ নেমে আসে, তখন সরকারের একার পক্ষে সে দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব হয়ে ওঠে না দেশের সচেতন বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, নাগরিক সমাজের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ সেই দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে। সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবীদের এই কাজের দায়িত্ব পালন করতে এসে আত্মদানও করতেও দেখা গেছে। বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ, মন্বন্তর, প্লাবন, এমনকি রাষ্ট্রবিপ্লবেও সচেতন বুদ্ধিজীবীদের সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হয়েছে। সত্তরের নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমরা দেখেছি, পূর্ব বাংলার সব শ্রেণির মানুষ, সব সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে ঘূর্ণিঝড় প্লাবিত মানুষদের জীবন রক্ষার্থে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসতে। দেশপ্রেমের আবেগকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের গলায় হারমোনিয়াম বেঁধে রাজপথে ভিক্ষা করে তহবিল সংগ্রহ করতে দেখেছি। এসব কর্মকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে উত্সারিত মহত্ প্রচেষ্টা। সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের আগে-পরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা না পাওয়ার কারণে যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল সে অবস্থায় বাংলার সব স্তরের, সব মতের মানুষরা যেভাবে নেমে এসেছিল, এটি ছিল বিশ্ব ইতিহাসে দুর্যোগ মোকাবেলায় রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের নেতৃত্বে জনঅংশগ্রহণের একটি বিরল উদাহরণ।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। একাত্তরে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পরিকল্পনায় বুদ্ধিজীবী হত্যা ছিল একটি বড় অংশ। তারা চেয়েছিল বুদ্ধিজীবী হত্যা দ্বারা দেশটাকে মেধাশূন্য করে রেখে যাবে, যাতে দেশ স্বাধীন হলেও সমাজ পুনর্গঠনের জন্য কোনো মেধাবী লোক পাওয়া না যায়। শুধু বুদ্ধিজীবী নয়, যেখানেই তারা দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষ কিংবা স্বভাব নেতাদের চিহ্নিত করতে পেরেছে, সেখানেই তারা তাঁদের হত্যা করতে দুইবার ভাবেনি। 

সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পাকিস্তানি আমলের মতো নাগরিক সমাজের স্বাভাবিক বিকাশকে খুব ভয় করে। নাগরিক সমাজের বিকাশের সঙ্গে সামাজিক শুভ শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। বায়ান্নর আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত আমাদের নাগরিক সমাজের এবং নাগরিক নেতাদের ভূমিকা দৃশ্যমান ও তাত্পর্যপূর্ণ। নিষ্ক্রিয় নাগরিক সমাজ এবং সাহসী ও বিবেকবান নাগরিক নেতাদের অনুপস্থিতিতে অন্ধকারের শক্তিরা জেগে ওঠে। ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাকাঙ্ক্ষী রাজনৈতিক দলের পাশে যদি প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার নাগরিক শক্তি অবস্থান গ্রহণ না করে তাহলে অন্ধকারের অপশক্তি তাদের উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আমরা মৌলবাদী শক্তির যে আস্ফাালন এবং ধ্বংসযজ্ঞ লক্ষ করলাম, এতে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে একাত্তরের উদ্দেশ্য থেকে তারা তিল পরিমাণও বিচ্যুত হয়নি শুধু কৌশল পরিবর্তন করেছে মাত্র। দীর্ঘ ২৩ বছরের মরণপণ সংগ্রাম, সশস্ত্র যুদ্ধ, লাখো-কোটি মানুষের আত্মত্যাগ—সব কিছুর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ নামক বাঙালির একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন ভূমির জন্মদান। হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি সংস্কৃতিকে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা। মানুষে মানুষে ব্যবধান হ্রাস করে প্রগতির পথে এগিয়ে গিয়ে নিজেদের সম্মানিত জাতিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। আজকে বাংলাদেশের নাম যখন সারা পৃথিবীতে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অগ্রগতিকে যখন এশিয়ার মডেল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, তখনই আবার অন্ধকারের শক্তি আমাদের পেছনে টেনে ধরছে।

সরকার এবং প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের নাগরিক সমাজকে অন্ধকারের কুশীলবদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। স্বাধীনতার পক্ষের সব রাজনৈতিক দল, সরকার, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ যখন একই তরণির যাত্রী হবে, যখন তাদের শপথ হবে বজ্রকঠিন, এই দৃঢ়শক্তি প্রত্যয়ের সামনে মৌলবাদী, অন্ধকারের শক্তি কখনো দাঁড়াতে পারে না। আমরা সত্তরের নির্বাচনের পরে তাদের গর্তে ঢুকে যাওয়া দেখেছি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর তার-তাদের রং বদলানো পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির কারণেই তারা পরাজিত হয়েছিল। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, স্বাধীনতার সপক্ষের রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিবেকবান নাগরিক সমাজের ঐক্যই পারে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার চির অবসান ঘটাতে।

লেখক : উন্নয়ন গবেষক ও কলামিস্ট



সাতদিনের সেরা