kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

নৈশ প্রহরী থেকে নামকরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক!

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ মে, ২০২১ ১০:০৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নৈশ প্রহরী থেকে নামকরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক!

বাবা ছিলেন দর্জি। মা মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি প্রকল্পের অধীনে দিনমজুরের কাজ করতেন। মাটির টালির চালের ঘরে জন্ম এই কিশোরের দিনে দু’বেলা খাবার জুটতো না।

পড়াশোনা ছেড়ে মা-বাবাকে সাহায্য করার জন্য কাজ করবেন বলে মনস্থির করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চার হাজার টাকা বেতনে রাতে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজও করতেন। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

আজ তিনি নামকরা কলেজের শিক্ষক। তার নাম রঞ্জিত রামচন্দ্রন। বর্তমানে ভারতের রাঁচীর আইআইএম-এ সহকারী শিক্ষক তিনি।

২৮ বছরের রঞ্জিতের জীবন ভারতের সকল মেধাবী এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীর কাছে উদাহরণ স্বরূপ। কেরালার কানহাগড়ের এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা রঞ্জিতের। ঘরের টালির চাল ফুটো হয়ে পানি পড়ত।

একটা মাত্র ঘর বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য টালির উপর প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। রান্নাবান্না হতো বাড়ির সামনের উঠোনে।

স্কুলে পড়ার সময়ই সংসারের অভাব রঞ্জিতকে তাড়া করে বেড়াত। স্কুল ছেড়ে দিয়ে উপার্জন করে মা-বাবাকে সাহায্য করার কথা ভেবেছিলেন তিনি।

তবে তখন স্কুলের শিক্ষকদের উপদেশ মেনে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু স্কুল পাস করে কলেজে ভর্তি হয়ে আর বসে থাকতে পারেননি।

কলেজে পড়ার পাশাপাশি বিএসএনএল-এর একটি শাখায় রাতে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করতেন। এর বিনিময়ে প্রতি মাসে চার হাজার টাকা পেতেন। সারা দিন পড়াশোনা করে রাতে কাজ করেই চলছিল তার।

এর মধ্যে আরেকটি সমস্যার সম্মুখীন হন রঞ্জিত। মাদ্রাজ আইআইটি-তে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। মালয়ালম ছাড়া আর কোনো ভাষা জানা ছিল না। সে কারণে মাদ্রাজ আইআইটি-তে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছিল তার কাছে।

সেবারও পিএইচডি মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু আবারো শিক্ষকের পরামর্শে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

২০২০ সালে রঞ্জিতের পিএইচডি সম্পূর্ণ হয়। গত দু’মাস ধরে বেঙ্গালুরুর ক্রাইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে আছেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের সেই লড়াইয়ের কথা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শেয়ার করেছেন রঞ্জিত। তার গল্প এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন।

সূত্র: আনন্দবাজার



সাতদিনের সেরা