kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

নির্মূল কমিটির বহুভাষিক মুখপত্র ‘জাগরণ’-এর প্রথম বর্ষ

সাব্বির খান

অনলাইন ডেস্ক   

৭ মে, ২০২১ ১৮:৫৯ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



নির্মূল কমিটির বহুভাষিক মুখপত্র ‘জাগরণ’-এর প্রথম বর্ষ

দিন গড়াতে গড়াতে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির মুখপত্র অনলাইন বুলেটিন ‘জাগরণের’ (www.jagaran.co) বয়স এক বছর হলো। করোনা পেন্ডামিকের ডামাডোলের মধ্যে কিভাবে যে এতটা সময় চলে গেল বুঝতেও পারলাম না। করোনা বিশ্বব্যাপী মানবসমাজে এনে দিয়েছে এক ভিন্নতা, যার জন্য সম্ভবত কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। অনভ্যস্ত এক জীবনের একঘেয়েমিতে 'জাগরণ’ অনেকের মতো আমাকেও দিয়েছে বেঁচে থাকার শক্তি ও প্রেরণা। সারা বিশ্বের মানুষ যখন বেঁচে থাকার বিকল্প পথ খুঁজছে, আমার বিশ্বাস- জাগরণ তাঁদেরও পথের দিশা দিতে চেষ্টা করেছে তাঁর সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে। বয়োজ্যেষ্ঠ এবং একঝাঁক তারুণ্যের সঙ্গে জাগরণের কাজ করতে গিয়ে গত এক বছরে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে অতুলনীয় এবং দৃষ্টান্তমূলক।

২০২০ সালের ৩ মে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় শাখা এবং সংগঠনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ৪৫টি শাখার যৌথ উদ্যোগে এক অনলাইন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেদিন সংগঠনের সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ‘করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় নির্মূল কমিটির চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি’। সেদিন করোনা মহামারি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী জনমত সৃষ্টি এবং বিভিন্ন দেশে সরকার, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও নাগরিক সমাজ কী করছে এসবের পাশাপাশি দেশে দেশে সংকট মোকাবেলায় ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার উদাহরণসমূহ তুলে ধরার জন্য নির্মূল কমিটি 'সাপ্তাহিক জাগরণ' নামে একটি বহুভাষিক অনলাইন বুলেটিন প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। পরবর্তী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাপ্তাহিকের পরিবর্তে 'মাসিক বুলেটিন’ হিসেবে জাগরণ প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয় এবং বুলেটিনের প্রথম সংখ্যাটি কিছুটা দেরিতে হলেও ২০২০ সালের মে মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত হয়।

বিশ্বব্যাপী করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধকালে সর্বত্র যখন সরকার ও জনগণ সব ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে এক অভূতপূর্ব লড়াইয়ে নিয়োজিত, সে সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অপশক্তিগুলো ধর্ম-বর্ণ-জাতিসত্তাবিরোধী ঘৃণ্য বক্তব্য প্রদান করে নৈরাজ্যের জাল বিস্তার করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনগুলো করোনা মহামারি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন ’৭১-এ গণহত্যাকারী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা কিছু সংগঠনের নেতৃত্বের একাংশ নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করে রাজনীতির ময়দানে। সেদিন দেশ ও জাতির মহাদুর্যোগকালে মানুষকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে মৌলবাদী সন্ত্রাসী জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের এ ধরনের অপতৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছিল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি তাঁর মুখপত্র ‘জাগরণের’ মাধ্যমে।

২০২০ সালের মে মাসে প্রচণ্ড উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মোট দশটি ভাষায় জাগরণ শুরু করেছিল তার পথ চলা। দুই মাস পর বাস্তব প্রেক্ষাপটের কারণে সাময়িকভাবে জার্মান ভাষার জাগরণ বিভাগটি বন্ধ করে দিতে হয়। জাগরণ পরিবারে আমরা যারা কাজ করছি, তাঁদের প্রায় কারোরই মিডিয়ার সঙ্গে কাজ করার পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছিল না। অথচ প্রতিটি সংখ্যায় সবার পেশাদারিত্বের ছাপ স্পষ্ট ছিল। বাংলাদেশ তথা আন্তর্জাতিক মিডিয়া জগতে হাতে গোনা যে কয়জন প্রতিথযশা সাংবাদিক রয়েছেন, লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির সন্দেহাতীতভাবে তাঁদের মধ্যে অন্যতম। জাগরণের উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে একঝাঁক তারুণ্যের শুধু অভিভাবকই নয়; একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন। যার কারণে সম্পাদকমণ্ডলীর অক্লান্ত পরিশ্রমে খুব অল্প সময়েই পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয় 'অনলাইন বুলেটিন জাগরণ’ এবং পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নেয় দ্বিধাহীনভাবে। উল্লেখ্য, গত এক বছরে জাগরণের পাঠকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি। এত অল্প সময়ে এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়েও পাঠকসমৃদ্ধতা পাওয়ার নজির বিশ্বে খুব বেশি নেই।

জাগরণের কথা লিখতে গেলে আর একজনের কথা না বললেই নয়। তিনি সবার অত্যন্ত প্রিয় এবং অনুসরণীয় একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। মিডিয়া জগতে তাঁর পদচারণ প্রায় তিন যুগেরও বেশি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশনা ও সম্পাদনা জগতে হাতে গোনা যে কজনের নাম উচ্চারিত হয় পরম শ্রদ্ধায়, কাজী মুকুলের নাম তাঁদের সর্বাগ্রে। জাগরণ প্রকাশে তাঁর অভিজ্ঞতা ও মুরব্বিয়ানার সবটুকুই তিনি ঢেলে দিয়েছেন অকাতরে, যা জাগরণ পরিবারকে করেছে ঋদ্ধ। তাঁর উৎসাহ এবং অভিভাবকত্ব ছাড়া জাগরণ তাঁর সুউচ্চ ও শ্রদ্ধাশীল অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না এবং আমরাও থেকে যেতাম অপূর্ণ!

জাগরণ প্রকাশ হচ্ছে বিশ্বের প্রধান আটটি ভাষায়, একসাথে এবং একই মলাটে। প্রতিটি ভাষার জন্য একজন করে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। জাগরণের সম্পাদক এবং নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন কাজী মুকুল এবং শাকিল রেজা ইফতি। জাগরণের উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। এ ছাড়া যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন আনসার আহমেদ উল্লাহ, ডা. নুজহাত চৌধুরী, সাব্বির খান, তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, আসিফ মুনীর তন্ময় এবং মারুফ রসুল। সহকারী সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন শেখ আলী শাহনেওয়াজ, সাইফ উদ্দিন রুবেল ও দীব্যেন্দু দীপ, সাইফ রায়হান এবং সুশীল মালাকার। এ ছাড়া বিভিন্ন ভাষা-বিভাগীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন জুলিয়ান ফ্রান্সিস (ইংরেজি), প্রকাশ রায় (ফরাসি), তাপস দাস (হিন্দি), মুরাত কাসাপ (তুর্কি), মহসেন আরিশি (আরবি), তরুণ কান্তি চৌধুরী (সুইডিশ), ড. মুজিবুর দফতরী (ফিনিশ) এবং খোরশেদ আহমেদ (নরওয়েজিয়ান)।

জাগরণের প্রতিটি সংখ্যা উৎসর্গ করা হয় বাংলাদেশ তথা বিশ্বের এক বা একাধিক মহান ব্যক্তিত্বকে উদ্দেশ করে, যাদের জীবন উৎসর্গিত হয়েছে বিশ্বমানবতার সেবায়, ধর্মনিরপেক্ষতার আলোকে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থা তৈরির যুদ্ধে। এই বিষয়টিই অনন্য, যা বিশ্বের অন্য যেকোনো পত্রিকা এবং সাময়িকী থেকে জাগরণকে আলাদা করে। উৎসর্গিত ব্যক্তিত্বদের জীবন, দর্শন এবং কাজের যে ক্ষেত্রগুলো রয়েছে, সেগুলোর আলোকেই সাজানো হয় জাগরণের একেকটি সংখ্যা, যা ফুটে ওঠে অভিজ্ঞদের প্রবন্ধে, কবিতায়, কলামে, আলোচনায় এবং সচিত্র প্রতিবেদনে। এ ছাড়া বিশেষ দিন এবং বিশ্বের চলমান ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও সাজানো হয় জাগরণের বিশেষ কোনো সংখ্যা।

নিম্নমধ্য আয়ের বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে করোনাযুদ্ধে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তা অতুলনীয়। যেভাবে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন- দুর্যোগ মোকাবেলা ও মানবতার ইতিহাসে তা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একজন যোদ্ধা এবং রাষ্ট্রের মানবিক নেতা হিসেবে ২০২০ সালের মে মাসে জাগরণের প্রথম সংখ্যাটি উৎসর্গ করা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এভাবেই পর্যায়ক্রমে ২০২০ সালের জুন মাস থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত 'মানবতার সেবায় নিয়োজিত বিশ্বের চিকিৎসকসমাজ এবং স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের ছাড়াও বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী জনগণকে, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী নাগরিক আন্দোলনের পুরোগামী নেতা সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমামকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং তাঁর আদর্শে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে, গণহত্যা ও সংঘাতের শিকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের উদ্দেশে, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং লেখক ও মানবতাবাদী লেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে, তুরস্কের জাতির জনক মুস্তফা কামাল আতাতুর্ককে, ’৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিপন্ন চেতনার প্রতীক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে, ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদদের আত্মদানের প্রতি, ’৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মহান শহীদদের প্রতি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দুই মহানায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদকে এবং কার্ল মার্ক্স, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কবি নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়।

অনলাইন মাসিক বুলেটিন 'জাগরণে’ বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত লেখকদের লেখা প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে। অনুবাদের এই কঠিন কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করছেন বিভিন্ন ভাষা বিভাগের বিজ্ঞ সম্পাদক মহোদয়গণ। কলাম, কবিতা, সাক্ষাৎকার, প্রবন্ধ এবং সম্পাদকীয় ছাড়াও বিশ্বের চলমান বিভিন্ন ইস্যুর ওপর আলোচনা ও বিশ্লেষণমূলক লেখার আলোকে অলংকৃত হয়েছে জাগরণের প্রতিটি সংখ্যা এবং একাধিক ভাষায়। জঙ্গি ও মৌলবাদ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে লেখা এবং সংবাদ প্রকাশ হওয়া ছাড়াও মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি নির্মূল কমিটির উত্থাপিত বিভিন্ন দাবিও তুলে ধরা হচ্ছে 'জাগরণের’ মাধ্যমে। নির্মূল কমিটির বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক অনলাইন-ওয়েবিনারের বিস্তারিত খবর এবং আলোচনাগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে প্রতি সংখ্যায়। এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খবরের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে 'জাগরণ’ জানিয়ে দিচ্ছে সারা বিশ্বের হালহকিকত।

প্রিন্টমিডিয়া ও যুগের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট শাহরিয়ার কবির জানেন, কিভাবে খবরের পেছনের খবরটি জানতে হয়। তিনি জানেন, লেখার মানোন্নয়নে কিভাবে লিখতে হয়, লেখা কিভাবে পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হয় এবং পাঠকহৃদয়কে নাড়া দিতে হয়। তবে আধুনিক ডিজিটাল যুগের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ব্যাপারে তিনি খুব বেশি কিছু জানেন না, যা তিনি সর্বসাধারণে অকপটেই স্বীকার করে থাকেন। ‘জাগরণ’ প্রজেক্টের শুরুতে তাই ওয়েবডিজাইন এবং এর আনুষঙ্গিক কারিগরি বিষয়াদি নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল আমাদের। 'শাহরিয়ার কবির যেটা স্বপ্ন দেখেন, যে করেই হোক তাকে বস্তবে রূপ দেওয়াই তাঁর বিশেষত্ব’। এ ব্যাপারে তাঁর যারা ঘনিষ্ঠ, তাঁরা জানেন। শাহরিয়ার কবির আর কিছু জানুন বা না জানুন, 'ডিজিটাল বিশ্বে অসম্ভব বলতে কিছু নাই',- এ সত্যটা তিনি বেশ ভালোভাবেই জানেন। তাঁর এই সামান্য অথবা অসামান্য জানাটুকুই অনলাইন বুলেটিন ‘জাগরণ’-কে এনে দিয়েছে সফলতার সুউচ্চ আসন। ওয়েবসাইট নির্মাণের কারিগরি বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্ব আমাকেসহ আরো কয়েকজনের ওপর দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে আমরা যতবারই জাগরণের গ্রাফিক্যাল এবং ডিজিটাল ডিজাইন করে শাহরিয়ার কবিরের সামনে হাজির হয়েছি, উনি অত্যন্ত দৃঢ়চিত্তে এবং নির্বিকারভাবে তা নাকচ করে দিয়েছেন। উনি যা চাচ্ছিলেন, তা আমরা সঠিকভাবে বুঝতে পারছিলাম না বা উনি হয়তো সঠিকভাবে বোঝাতে পারছিলেন না। তার পরও যতটুকু বুঝেছিলাম, ততটুকুর সমাধান দিয়ে আবার তার পরেরটুকু বোঝার জন্য চেষ্টা করছিলাম এবং সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। শেষমেশ শাহরিয়ার কবিরের আপসহীন একরোখামিতে ডিজাইনের কাজ এবং অন্যান্য কারিগরি জটিলতাগুলোকে 'কম্পিউটার সায়েন্সের গ্যাঁড়াকলে’ ফেলে তার একটা সম্মানজনক সমাধান দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। শাহরিয়ার জানতেন, উনি কী চান। তবে তা কিভাবে হবে, তা তিনি জানতেন না, যা আমরা জানতাম। এভাবেই চমৎকার টিম-ওয়ার্কের মাধ্যমে 'প্রটোটাইপ থেকে প্রডাক্ট’-এ পৌঁছে জাগরণ তার পথ চলা শুরু করেছিল।        

আমার জানা মতে, বিশ্বের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় একটি অনলাইন পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ সংবাদপত্র ও সাময়িকীর জগতে আগে কেউ কখনো করেননি এবং জাগরণই বিশ্বে প্রথম বহুভাষিক একটি মুখপত্র, যা নিঃসন্দেহে আমাদের গর্বিত করে। বিশ্বব্যাপী ধর্মনিরপেক্ষ-মানবতার আন্দোলনের বিস্তারের ক্ষেত্রেই শুধু নয়, বিশ্বের ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীদের ভেতর মেলবন্ধন সৃষ্টি এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একটি মঞ্চ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও জাগরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ ছাড়া স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ‘জাগরণ’-এর প্রকাশ বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদের আদর্শের অনুসারীদের বিশেষভাবে উজ্জীবিত করবে এবং বিশ্বশান্তি ও মানবতার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে সমগ্র বিশ্বে আরো দীপ্তময় করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সর্বোপরি বহুভাষিক এই বুলেটিনের মাধ্যমে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনের বার্তাকে বিশ্বের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার যে প্রত্যয় নিয়ে পথ চলা শুরু করেছিল, জাগরণ সে পথে সচল এবং বদ্ধপরিকর থাকবে! এক বছর পূর্তিতে জাগরণ পরিবারের সবাইকে এবং পাঠকদের সার্বিক সুস্থতা কামনা ছাড়াও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই!

সাব্বির খান : লেখক, সাংবাদিক, যুগ্ম সম্পাদক (অনলাইন বুলেটিন 'জাগরণ’) এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য।

বি. দ্র. : লেখাটির ইংরেজি ভার্সন অনলাইন বুলেটিন 'জাগরণে’ প্রকাশিত হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা