kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

'বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই দেশে ফেরার সাহস পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা'

অনলাইন ডেস্ক   

৭ মে, ২০২১ ১৬:৩০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



'বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই দেশে ফেরার সাহস পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা'

লেখক : মানিক লাল ঘোষ।

২০০৭ সাল। এইতো সেদিনের কথা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশার ছায়া। দলের শীর্ষ নেতারা অনেকেই অন্তরীণ, অনেকে আবার নানা কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে তথাকথিত সংস্কারের নামে চলছে নেতাকর্মীদের হয়রানি। প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য বিদেশে। চারদিকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি যড়যন্ত্রের জাল। নেত্রী দেশে ফিরবেন তো? যদি না ফেরেন? কী হবে? আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? গণতন্ত্র কী নির্বাসনে যাবে? নেতাকর্মীরা কোথায় যাবে? নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।

সব প্রশ্নের জবাব মেলে ২০০৭ সালের ৭ মে। গণতন্ত্রপ্রিয় বাঙালির কাছে একটি স্মরণীয় দিন। ২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঘোষিত জরুরি অবস্থা চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে শত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে বাংলাদেশে ফিরে আসেন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাস আর আস্থার প্রতীক প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সে সময় যাতে বাংলাদেশে ফিরতে না পারেন সে জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক অবৈধ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

কিন্তু বাবার মতোই সাহসী ও দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারের বেআইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রিয় জন্মভূমিতে ফেরার ঘোষণা দেন। অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বিশ্বব্যাপী। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে শেখ হাসিনার ঐকান্তিক দৃঢ়তা, সাহস ও গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর চাপে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়।

২০০৭ সালের ৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরে এলে লাখো জনতার ঢল নামে বিমানবন্দরে। ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিছিল শোভাযাত্রা সহকারে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে নিয়ে আসা হয়। দেশে ফিরে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নতুন সংগ্রাম শুরু করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হয় দেশবাসী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভীত-সন্ত্রস্ত  হয়ে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনাকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করে।

২০০৮ সালের ১১ জুন প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে কারান্তরীণ রাখা হয়। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন এবং চিকিৎসা শেষে ৪ ডিসেম্বর স্বদেশে ফিরে আসেন প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তারপর আর থেমে থাকা নয়, নয় পেছনের দিকে তাকানো। শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। আন্দোলনের মুখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় জোরপূর্বক রাষ্ট্রক্ষমতায় চেপে বসা তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে জনগণের অন্তহীন ভালোবাসায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে গণমানুষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জননেত্রী হাসিনা। শুরু করেন সংকটের আবর্তে তলিয়ে যাওয়া দেশকে পুনরুদ্ধার করে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলার সংগ্রাম। দিনবদলের অভিযাত্রায় তার ইতিবাচক নেতৃত্বে উন্নয়নের   মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের ইতিহাসে ৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। শেখ হাসিনা সেদিন সাহস করে দেশে ফিরে আসার কারণেই গণতন্ত্রের বিজয় হয়। তা না হলে সামরিক শাসন আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে হয়তো এখনো অন্ধকারে থাকতে হতো আমাদের। পাল্টে যেতো ইতিহাসের চাকা। থমকে যেতো উন্নয়নের গতিধারা।

২০০৭ সালের ৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার কারণেই ২০০৮ , ২০১৪ এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়নের মহাসড়কে।

বর্তমানে সারা দেশে চলছে ব্যাপক উন্নয়নপর কর্মযজ্ঞ। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতার বাড়ি ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। এর ফলে পাল্টে যাবে দেশের অগ্রগতির দৃশ্যপট। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতায় গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

করোনা সংক্রমণের  মধ্যেও দু-দু'টি ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও সময়পোযোগী সিদ্ধান্তের ফলেই সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দুর্ভিক্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এই সব অসম্ভব সম্ভব হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কন্যার সাহস করে ২০০৭ সালের ৭ মে দেশে ফিরে আসার কারণে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই হয়তো তিনি পেরেছিলেন এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।

লেখক : মানিক লাল ঘোষ. সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কাযনিবাহী সদস্য।



সাতদিনের সেরা