kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

সরদারের সরদারি

স্বপন রুদ্র    

১ মে, ২০২১ ১৪:১৯ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



সরদারের সরদারি

সরদার ফজলুল করিম (১ মে, ১৯২৫- ১৫ জুন, ২০১৪)।

সরদার ফজলুল করিমের জন্ম ১৯২৫ সালের ১ মে। বরিশাল জেলার উজিরপুরের আটিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারে। বাবা মো. খবিরউদ্দিন ছিলেন কৃষক। মা সফুরা বেগম ছিলেন সাধারণ গৃহিণী। জ্ঞানসাধনা, জীবনের সচলতায় আস্থাবান, সরদার ফজলুল করিমের বর্ণাঢ্য  জীবনের সমাপ্তি ঘটে ২০১৪ সালের ১৫ জুন। 

১৯৪০ সালে বরিশাল জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ১৯৪২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৫ সালে স্নাতক ও ১৯৪৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। উভয় স্তরেই অর্জন করেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তি পেয়েও আদর্শিক কারণে তা প্রত্যাখান করেন।

ফজলুল করিম কেবল রাজনীতি, সংগঠন, শিক্ষকতা ইত্যাদি করেননি। অনুবাদ করেছেন দর্শন ও রাজনীতির অনেক ধ্রুপদী গ্রন্থ। লিখেছেন মৌলিক বই। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ে শিক্ষার্থীসহ জ্ঞানপিপাসুদের পাঠ্য ও সহায়ক বইয়ের চাহিদা পূরণ করেছেন তিনি। তাঁর অনুবাদসহ রচনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো : প্লেটোর রিপাবলিক; প্লেটোর সংলাপ; অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স; এঙ্গেলস-এর এন্টিডুরিং; রুশোর সোশাল কন্টাক্ট; দ্যা কনফেশানস; দর্শনকোষ; সেই সে কাল : কিছু স্মৃতি কিছু কথা; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ : অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের আলাপচারিতা; চল্লিশের দশকের ঢাকা; নানা কথা; নানা কথার পরের কথা; নূহের কিশতী ও অন্যান্য প্রবন্ধ; রুমীর আম্মা ও অন্যান্য প্রবন্ধ; গল্পের গল্প; পাঠ প্রসঙ্গ; আরেক যুগে যুগোশ্লাভিয়ায়; আমি মানুষ; শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ ইত্যাদি।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় কলাম ও ছোট ছোট নোট লিখেছেন। সেগুলো এখনো অপ্রকাশিত। এগুলোর মূল্যও কম নয়।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর সরদার ফজলুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ইংরেজি বিভাগে। কিন্তু তৎকালীন অধ্যাপক হরিদাস ভট্টাচার্যের বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ হন, অতঃপর হয়ে গেলেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। যা-ই হোক তিনি লক্ষ্যচ্যুত হননি।

সেই স্কুলজীবন, ১৯৪০ সালে রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। স্মৃতিতর্পণ থেকে জানা যায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মতো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবি  উপন্যাস পড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ সরদারের। এরপর রাজনীতি হয়ে ওঠে তাঁর ধ্যান-জ্ঞান-কর্ম-বিবেচনা। কৃষক পিতার সন্তান হয়ে কৃষক সমাজের জীবন পরিবর্তন ও উন্নয়নে কাজ করেছেন সারাজীবন। এক্ষেত্রে তাঁর অঙ্গীকার ছিল- তিনি ঋণ শোধ করবেন। 

জীবনপরিধির মধ্যে রাজনীতির অনেক ভাঙাগড়া হয়েছে। আপাত লাভলোভে অনেকে নিজের জায়গা বদল করেন। এ ধরনের কোনো বিষয়ই আকৃষ্ট করতে বা টলাতে পারেনি সরদারকে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি প্রভাব ও আকর্ষণকে এড়িয়ে নিজের চলা, আদর্শিক পথ, ও লক্ষ নির্ধারণ করেছেন। তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত ও জানাবোঝার ভিত্তিতে তরুণ বয়সে কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী হয়েছেন। ওই বয়সেই মার্কসবাদে তাঁর দীক্ষা; ফলত তিনি বামপন্থার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। অনেক ভাঙাগড়ার মধ্যেও স্বকীয় অবস্থান ও আদর্শে দৃঢ় ছিলেন আজীবন।

১৯৪৬ ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তি অস্বীকারের ক্ষেত্রে মূলত কমরেড মুজাফফর আহমদের পরামর্শ ছিল। এ ছাড়া রাজনীতি ও দলীয় সিদ্ধান্তে ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি ত্যাগ করেন। সে সময় কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকায় আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। ১৯৪৯ সালে ঢাকা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর  মধ্যে তাঁর জীবনে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। দীর্ঘদিন গোপনে এখানে-সেখানে থেকে তাঁর শরীর প্রায় ভেঙে পড়েছিল। এ অবস্থায় পাকিস্তান সরকারের নজরদারি এড়াতে তিনি কলকাতা চলে যান।

কলকাতায়ও দেখা দেয় নানা সমস্যা। সেখানে কবি আহসান হাবিবের সঙ্গেও কিছুদিন ছিলেন। কবির বাসভবনে একদিন পুলিশ আসে খোঁজ নিতে যে, এখানে পূর্ব বাংলা থেকে 'পলিটিক্যাল অ্যাবস্কনডার' এসে আশ্রয় নিয়েছেন। পুলিশ সেখানে সরদার ফজলুল করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু কোনো উত্তরে মিল না হওয়ায় পুলিশ  চলে যায়। তখন পুলিশের অনেক প্রশ্নের মাঝে উত্তর দিয়েছেন, তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কলকাতায় বেড়াতে এসেছেন। এরপর কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে আবার গোপনে শুরু করেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড।

আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা অবস্থায় ১৯৪৯ সালে ফজলুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে ছিলেন ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত। ওই সময় অন্য বন্দিদের সঙ্গে ৫৮ দিন অনশন ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৫৪ সালে কারাগারে অন্তরীণ থেকে কনস্টিটিউশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই সংবাদ মার্কিন দেশের কাগজেও গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। ১৯৫৮ সালে পূর্ববাংলায় সামরিক আইন জারি করেন আইয়ুব খান। ওই  সময় আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার তিনি কারাবন্দি ছিলেন ১৯৬২ সাল পর্যন্ত। মুক্ত হয়ে ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমির অনুবাদ শাখায় যোগদান করেন। ১৯৭২ সালের পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয় শিক্ষকতায় যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আবারও পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মুক্ত হন স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭১ সালে।

কিছুদিন কারাগার, কিছুদিন মুক্ত থাকা, এভাবে কারাগারে গেল জীবনের প্রায় ১১ বছর। সরদার ফজলুল করিমের এ আন্ডারগ্রাইন্ড জীবনের সংগ্রাম দেখে মনে পড়ে ফিওদর দস্তয়ভস্কির নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড (২০০৯/ ১৮৬৪) উপন্যাসের কথা। চরম বাস্তবতার কষাঘাতে নিষিক্ত এ জীবন। উপন্যাসে কথক শুরুতেই বলেছে, 'Not only did I not become spiteful, I never even  managed to become anything : neither spiteful, nor good, neither a scoundrel nor an honest man, neither a hero nor an insect.'  বোধ হয় জীবনের বাস্তবতা এমনই। সরদার ফজলুল করিম আদর্শ, জীবনবোধের স্বার্থে অনিশ্চিতিকে নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করেন। এখানেই সরদারের সরদারি। 

বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় এদেশে সরদারের সমতুল্য লোক খুব কমই রয়েছেন। এ-অর্থে অনেককে এদিক-ওদিক হেলে যেতে দেখা যায়। তিনি তিনি দৃঢ়তায় সক্রিয় থেকেছেন তাঁর কর্মে। প্রসঙ্গত, চিন্তা-ভাবনার দোলাচলের কারণে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষ বুদ্ধিজীবী শব্দ শুনলে এখন আড়ষ্ট হয়ে যায়। অথচ একসময় বিদ্বান ব্যক্তিকে দেখলে মানুষ কাছে আসতো। তাঁর কাছে সমস্যা সমাধানের সন্ধান পেতো। জাতীয় সংকটে তাঁরা জাতিকে পথ দেখাতেন। জাতির টানাপোড়েন বা সংকটে নতুন চিন্তা দিয়ে উত্তরণের পথ বাতলে দেন।

এ ধরনের কোনো উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখিনি। এখনো এ ধরনের ব্যক্তি আছেন, তবে তাঁরা সরব নন, নীরব।  আবার বুদ্ধিজীবী বললেই একটি শ্রেণি যেন আলগা হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে  বিশেষ গোষ্ঠীকে বলা হচ্ছে বুদ্ধিজীবী। এ জাতীয় তকমাধারী বুদ্ধিজীবীদের মাও সে তুং বলেছেন 'কম্প্রেডর'। অর্থাৎ, যারা স্বীয় স্বার্থে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জনে এবং দেশ ও জাতির বিপক্ষে যেতেও দ্বিধা করেন না। এ পরিস্থিতিতে সকল প্রতিকূলতার বিপক্ষে সরদার ফজলুল করিম ছিলেন নীতিনিষ্ঠ, চিন্তায় অবিচল একেবারে মৃত্যু পর্যন্ত। এর চেয়ে বড় সরদারি আর কী হতে পারে। 

তাঁর চিন্তার কেন্দ্র ছিল মানুষ। একদিন কাঁচাবাজারে তাঁকে হিন্দু না মুসলমান জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, 'আমি মানুষ'। এ ছাড়া তিনি ক্ষমতা ও দক্ষতার সঙ্গে নৈতিকতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বলেছেন, 'আনুগত্য এবং দক্ষতা দুটো যদি পাওয়া যায়, তাহলে ন্যায়ের আর প্রয়োজন কি? এ দুটো গুণ থাকলে বাকি যা প্রয়োজন, তাও কি সৃষ্টি হবে না?  এর জবাবে আমরা বলতে পারি, কোন মানুষের এই দুটি গুণ থাকা সত্ত্বেও নৈতিকভাবে সে অযোগ্য হতে পারে। এবং এমন মানুষ যদি, যা সর্বোত্তম এবং ঠিক তা সম্পাদনে সক্ষম হয়, যদি সে নিজের, তথা যাকে সে জানে এবং ভালোবাসে, তার মঙ্গল সাধনে অসমর্থ্য হয়, তাহলে দেশের সর্বোত্তম মঙ্গল সাধনের ক্ষেত্রে সে কি অক্ষম হবে না?'

নীতি ও দায়বদ্ধতার এ শূন্যতায় আজীবন সরলচিন্তার অধিকারী সরদার ফজলুল করিমের দিকে আবার ফিরে তাকাতে হয়। কিন্তু কোথায় তাঁর সরদারি। যেখানে আর কারো সঙ্গে তাঁর হিসাব ও ভূমিকা মেলে না। কোন ক্ষেত্রে তিনি ব্যতিক্রম হয়ে আছেন। খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা যায়, তিনি কখনো   অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি। নিজের আদর্শ, চিন্তা, জীবনধারা নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও দৃঢ় ছিলেন। নিষ্ঠাবান ছিলেন তাঁর কর্ম ও দর্শনের প্রতি। জীবনে বিচ্যুতির কোনো উদাহরণ দেখানো যাবে না। আমাদের সমাজে আদর্শ নিয়ে সম্পূর্ণ জীবন পার করে দেওয়ার লোক খুবই কম। বিরল ঘটনা। সরদার ফজলুল করিম জীবনে যে আদর্শকে গ্রহণ করেছেন, তা নিয়েই জীবন সম্পন্ন করেছেন।

এত বিচিত্র অভিজ্ঞতা খুব কম মানুষের জীবনে থাকে। একইসঙ্গে শিক্ষকতা, রাজনীতি, সামাজিক দায়িত্ব তিনি আনন্দের সঙ্গে পালন করেছেন। তাঁর কোনো লেখা, বক্তৃতা, আলোচনায় অনুশোচনা নেই, জীবনে কিছু পাননি - এর ধরনের কোনো আক্ষেপ নেই। আছে পূর্ণতা, আনন্দ ও মুগ্ধতা। তিনি বিশ্বাস করতেন যা কিছু চলতে চলতে অর্জিত হবে, তা সবই সঞ্চয় ও লাভ।

দর্শনচর্চায় বাংলাদেশে এর আগে গ্রিক দর্শনের চর্চা হয়েছে। কিন্তু পাঠযোগ্য বাংলা বইপত্র ছিল না। গ্রিকদর্শনের বিশেষত, প্লেটো, অ্যারিস্টটলের লেখা অনুবাদের মাধ্যমে ওই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন সরদার। তিনি হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনচর্চাকে নিজের জীবন থেকে দূরে রাখতে চেয়েছেন। তিনি হয়ে উঠেছেন মুক্তচিন্তার, শ্রমজীবী, ও সামষ্টিক মানুষের দার্শনিক। তিনি প্রায়ই বলতেন, জীবনকে পাঠ করা প্রয়োজন, যে জীবনের মধ্যে রয়েছে এ জাগতিক চিন্তার সারাৎসার। তিনি আজীবন সমাজতান্ত্রিক দর্শনকে শুধু তাত্ত্বিকভাবে নয়, ধারণ করেছেন জীবনদর্শন হিসেবে। ফলে তাঁর মধ্যে মার্কসবাদী ঘরানার কেতাদুরস্ত মার্কসীয় চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের তৎপরতা দেখি না। এবং কখনও বিচলিত হতে দেখিনি। যে কোনো ক্ষেত্রে একজন কমিউনিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি গৌরববোধ করতেন। মূলত, তিনি নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করেছেন।

সরদার বলতেন, 'আই ওয়াজ এ কমিউনিস্ট বাই মাইসেলফ।' আরো বলতেন, 'আমি কৃষকের পোলা'। তিনি শিক্ষকতায় থাকলেও আন্দোলন সংগ্রামের ভেতর কাটিয়ে দিয়েছেন সারা জীবন। এর মাঝে কত রকমের রঙবেরঙের পালাবদল থাকে। এ পালাবদলে কত কিছু ঘটে। কিন্তু তিনি যাপন করেছেন নিরহঙ্কার ও চাহিদাহীন জীবনের ঘোরে। তাঁর জীবনের অলঙ্কার হলো সততা, কর্তব্য  ও নিষ্ঠা। তাঁর মতো আশাবাদী মানুষ খুব কমই লক্ষণীয়। তাঁর বিভিন্ন লেখা থেকে বোঝা যায় সরদার শিক্ষার্থীদের খুব কমই লেখাপড়ার কথা বলতেন।

শিক্ষার্থীরা শুধু সিলেবাসের মধ্যে থেকে পরীক্ষার কথাই চিন্তা করতেন। এক্ষেত্রে তিনি তাদের ভাবনাকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। তিনি ভাবতেন কীভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে জীবন জিজ্ঞাসার বিভিন্ন কৌশল পৌঁছে দেওয়া যায়। জীবন ও অন্য মনীষীদের জীবন উল্লেখে জীবনসংগ্রামে আস্থাবান ও দৃঢ় হওয়ার আহ্বান জানাতেন। এক্ষেত্রে তাঁর লক্ষ ছিল দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো, ভালো শিক্ষার্থী তৈরি নয়। শিক্ষার্থীদের এখনো সেসব স্মরণ করতে শুনি।

জ্ঞানসাধনা, রাজনীতি, অনিশ্চিতির মধ্যে, সংগ্রামে জীবনের জয়গান করেছেন সরদার ফজলুল করিম। অবিচল সরদারিতে তিনি সমকাল ও আগামীকে জয় করেছেন।

স্বপন রুদ্র : লেখক ও গবেষক 



সাতদিনের সেরা