kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

মোজাম্মেলের জীবন বাঁধা খেয়াঘাটে

লুৎফর রহমান    

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০২:২৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মোজাম্মেলের জীবন বাঁধা খেয়াঘাটে

রাজধানী ঢাকার বুকে নৌকায় ওঠার কথা চিন্তা করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বুড়িগঙ্গার ছবি। এই বুড়িগঙ্গা খেয়াঘাট ঘিরে চলে শত শত মানুষের জীবন-জীবিকা। তাঁদের মধ্যে একজন ৭০ বছর বয়সী মোজ্জাম্মেল হক। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারঘোষিত কঠোর বিধি-নিষেধে তাঁর জীবনেও নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এক বেলা খাবার জোটে তো, আরেক বেলায় জোটে না।

বরিশালের স্বরূপকাঠির সোহাগদল গ্রামে জন্ম মোজ্জাম্মেল হকের। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বইঠা হাতে বুড়িগঙ্গা নদীর এপার-ওপার করে চলেছেন। ১৯৭৬ সালে প্রতিদিন দুই টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে ২৫ থেকে ৫০ পয়সা করে মানুষ ও মালপত্র পারাপার করতেন। বর্তমানে ১০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে ১০ টাকায় নদী পার করতে হয়। প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন তিনি। লকডাউনে টেনেটুনে ৩০০ টাকা আয় হয়।

মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘দুর্ভিক্ষের পরের বছর খাওয়ার কষ্টে ঢাকায় আসি পরিবার নিয়ে। লঞ্চে করে সদরঘাট আসার পর থাকার জায়গা ছিল না। তখন খেয়াঘাটে হাতে গোনা কয়েকটি নৌকা চলত। কয়েক দিন কষ্টের পর খেয়াঘাটে এক ভাই আমাকে একটা নৌকা ভাড়ায় দেন। সেই থেকে চলছে জীবনযুদ্ধ। বর্তমানে খরচ অনেক বেড়েছে। করোনার কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে খেয়াঘাটে তেমন যাত্রী নেই। ফলে রোজগারও তেমন নেই। এখন টিকে থাকাটা অনেক বেশি কষ্টের। জীবনের শেষ সময়ে এসে খুব কাছ থেকে মৃত্যুকে দেখছি।’



সাতদিনের সেরা