kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ বৈশাখ ১৪২৮। ৭ মে ২০২১। ২৪ রমজান ১৪৪২

চাকরির ক্ষেত্র বেড়েছে কয়েকটি সেক্টরে

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ১১:১৭ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



চাকরির ক্ষেত্র বেড়েছে কয়েকটি সেক্টরে

দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইনভিত্তিক চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্ম বিডিজবস (http://bdjobs.com)। এ পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি প্রার্থী বিডিজবসের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চাকরির বাজার, চাকরি পাওয়ার উপায়, ফ্রেশারদের করণীয়, প্রার্থীদের প্রতি দিকনির্দেশনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কালের কণ্ঠ’র মুখোমুখি হয়েছেন বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম মাশরুর

গত বছর করোনা পরিস্থিতির ফলে চাকরির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এ বছর চাকরির বাজার কেমন?
গত বছর করোনার কারণে চাকরির বাজারের অবস্থা খুব খারাপ ছিল, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছিল। চার-পাঁচ মাস চাকরির বাজার ৬০-৭০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। নভেম্বর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। করোনার আগে চাকরির বাজার যেমন ছিল, নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রায় সে অবস্থানেই ফিরে এসেছে। এই অবস্থা ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু গত মাসের (মার্চ) শেষের দিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর দু-এক সপ্তাহ ধরে চাকরির বাজার ৩০-৪০ শতাংশ কমে গেছে।

এ সময় আপনাদের সাইটে চাকরির বিজ্ঞপ্তির প্রবাহ বা পরিমাণ কেমন? কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান এই সময়ে বেশি বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে? কোন ধরনের কাজ বা পদের চাহিদা বেশি মনে হচ্ছে?

বর্তমানে ই-কমার্স এবং এজাতীয় প্রতিষ্ঠান ও লজিস্টিক সার্ভিসের চাহিদা বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতিসহ কয়েকটি কারণে গত কয়েক বছরে লজিস্টিক সেক্টরে সবচেয়ে বেশি কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সারা দেশে পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে লজিস্টিকে গত এক বছরে প্রচুর লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লজিস্টিক সেক্টরে এক্সিকিউটিভ স্তরে চাকরি যেমন বেড়েছে, আবার ডেলিভারিম্যানের চাহিদাও বেড়েছে। ডেলিভারিম্যান, সুপারভাইজার, লজিস্টিক এক্সপার্ট—এই ধরনের প্রচুর নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এবং আগামী দিনে এ সুযোগ আরো বাড়বে। হোম অফিসের প্রচলন হওয়ায় আইটি ও নেটওয়ার্কিংয়ের লোকজনেরও চাহিদা বেড়েছে।

সেলসের লোকজনের চাহিদা আগে থেকেই ছিল, বর্তমানে এর সঙ্গে ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও স্কিলড লোকজন নেওয়া হচ্ছে। করোনার কারণে ফার্মাসিউটিক্যাল সেন্টার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বর্তমানে জনবলের চাহিদা বেড়েছে।

তবে (করোনার আগে) সাধারণত যেসব সেক্টরে বেশি লোক নেওয়া হতো, সেগুলোতে নিয়োগ অনেকটাই কমে গেছে; এর মধ্যে একটি হচ্ছে গার্মেন্ট সেক্টর।

যাঁরা করোনায় চাকরি হারিয়েছেন এবং বর্তমানে চাকরি খুঁজছেন বা বিকল্প কিছু করতে চাচ্ছেন, তাঁদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
যাঁরা করোনার কারণে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, এই সময়ে তাঁদের ধৈর্য ধরতে হবে। সময় নষ্ট না করে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। অনলাইনে বিভিন্ন ট্রেনিং বা কোর্স আছে; এগুলো করা যেতে পারে। আরেকটা বিষয় হলো—যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের একটু ফ্লেক্সিবল হতে হবে। বেতন তুলনামূলক কম হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়া উচিত, কারণ ক্যারিয়ারে গ্যাপ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে তা আরো বড় সমস্যা হবে। বেতন কম হলেও নতুন প্রতিষ্ঠানে নতুন চ্যালেঞ্জের সুযোগটা নেওয়ার পাশাপাশি সময়টাকেও কাজে লাগানো যাবে। পরিস্থিতি ভালো হলে হয়তো অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই আগের অবস্থানে চলে যাওয়া যাবে।

ফ্রেশারদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?
ফ্রেশারদের জন্য পরামর্শ হলো—কোন কম্পানি কত টাকা বেতন দিচ্ছে, সেটার চেয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করাটা এই মুহূর্তে জরুরি। কারণ অভিজ্ঞতা অর্জন করলে সিভিটা ভারী হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, যেহেতু এখন চাকরির বাজারের অবস্থা ভালো না, সেহেতু তাঁরা উদ্যোক্তা হতে পারেন। ৯টা-৫টা অফিসের জন্য অপেক্ষা না করে অনলাইনে যেকোনো বিজনেস শুরু করতে পারেন।

কোনো বৈধ কাজই ছোট নয়। আজকাল একজন ডেলিভারিম্যান মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

অনেকেই বলেন, অনেক ইন্টারভিউ দিয়েও চাকরি হচ্ছে না... প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমন কী কী দুর্বলতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?
বর্তমানে চাকরিপ্রত্যাশীদের কমন দুর্বলতা হচ্ছে—যে বিষয়ে প্রার্থী পড়াশোনা করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে সে বিষয়েই তাঁর দুর্বলতা রয়ে গেছে। তাঁদের ব্যাবহারিক দক্ষতা কম, প্র্যাকটিক্যালি অ্যাপ্লাই করার ক্ষমতা কম। আমাদের একাডেমিক সিস্টেমে মুখস্থবিদ্যার প্রবণতা বেশি, তাই বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে এসে এ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। তাঁদের যোগাযোগ দক্ষতায়ও ঘাটতি আছে। কমিউনিকেশন দুর্বলতা মানে শুধু ভাষাগত দুর্বলতা নয়, এটা হচ্ছে কাউকে কোনো কিছু বুঝিয়ে না বলতে পারার দুর্বলতা। অনেকের রাইটিং স্কিলে দুর্বলতা আছে, শুদ্ধভাবে লিখতে পারেন না। যাঁরা সঠিকভাবে কমিউনিকেশন (হোক বাংলা কিংবা ইংরেজি) করতে পারেন না, প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত তাঁদের অ্যালাউ করে না। প্রার্থীদের প্রফেশনাল ডিসিপ্লিনগুলো জানা উচিত।

এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কী?
সুযোগ পেলে নিজের অবস্থা অনুযায়ী যেকোনো কাজে ঢুকে পড়া। কাজসংশ্লিষ্ট বেশির ভাগই বিষয় ও ব্যবস্থাপনা ওয়ার্ক এনভায়রনমেন্টেই শেখা হয়। কাজের প্রতি একনিষ্ঠ থাকা, কাজ করার মানসিকতা তৈরি করাটাও জরুরি।

সিভি বা রিজিউমি নিয়ে আপনার পরামর্শ কী?
বর্তমানে সিভি তৈরি করা তেমন কঠিন কিছু না। অনলাইনের এই যুগে সিভির উপযুক্ত ফরম্যাট জেনে নেওয়া খুব সহজ। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে আবেদন করতে হয়, অনলাইন ফরম থাকে। ইচ্ছা করলে বিডিজবস বা লিংকডইনে যথাযথ তথ্য পূরণ করেও একটা সিভি তৈরি করে নেওয়া যায়।

যাঁরা বিডিজবসে প্রফাইল খুলেছেন, তাঁদের ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী? এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা সাধারণত কোন ভুলগুলো বেশি করছেন?
যাঁরা বিডিজবসে প্রফাইল খুলছেন বা বিডিজবসে সিভি তৈরি করছেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, সব সময় তথ্যগুলো আপডেট রাখা উচিত। নিয়মিত বিডিজবসে এসে দেখতে হবে, তার জন্য উপযোগী কোনো চাকরির সুযোগ আছে কি না। অনেক ক্ষেত্রে একটা অভিযোগ পাওয়া যায়, কম্পানিগুলো সিভি দেখে তাঁদের সঙ্গে যখন যোগাযোগ করে, তখন তাঁদের পাওয়া যায় না। আবার এমনও হয়, আসতে বলা হলো কিন্তু তাঁরা নির্দিষ্ট দিন উপস্থিত থাকেন না। এটা এক ধরনের অপেশাদারি ব্যাপার। আমাদের বিডিজবসে এই ধরনের কার্যরেকর্ড থাকে। এ ধরনের প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যোগ্য মনে করে ডাকার চিন্তা করে, তারা পুরনো এই রেকর্ডগুলো দেখে প্রার্থীর ব্যাপারে পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। এ রকম অপেশাদারি আচরণের কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীরও চাকরি হাতছাড়া হতে পারে!

আপনাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কোন ধরনের প্রার্থীরা চাকরির জন্য বেশি ডাক পাচ্ছেন? নিয়োগকর্তারা কোন ধরনের প্রার্থীদের বেশি পছন্দ করেন?
কোনো প্রার্থী যদি ইন্টারভিউতে প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি আসলে কাজটা পছন্দ করেন, কাজটা করতে চান, সে ক্ষেত্রে যোগ্যতা কম হলেও তাঁকে নিয়ে নেওয়া হয়। কারণ কম্পানিগুলো তখন চিন্তা করে, এই প্রার্থী কাজটি করার ব্যাপারে বাড়তি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কাজের ব্যাপারে প্রার্থীর কমিটমেন্ট ঠিক থাকলে তাঁর অন্যান্য যোগ্যতা বা দক্ষতায় ঘাটতি থাকলেও সেই প্রার্থীকে নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। দক্ষতার ঘাটতিগুলো ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে মেকআপ হয়ে যায়। প্রার্থীর প্রফেশনাল ইথিকস ও কমিউনিকেশন স্কিল কেমন, এগুলোও গুরুত্ব পায়।

বিডিজবসে দক্ষতাসংক্রান্ত ট্রেনিং ও কোর্স করানো হচ্ছে। এগুলো কাদের জন্য? এগুলোর গুরুত্ব কতটুকু?
বিডিজবসের শুরু থেকেই ট্রেনিং ও কোর্স করানো হয়। প্রফেশনাল পর্যায়ে যে দক্ষতাগুলোর প্রয়োজন হয়, সেগুলো কিন্তু আমাদের একাডেমিক পর্যায়ে শেখানো হয় না। আমরা সেগুলোর ট্রেনিং করাই। এই ট্রেনিংগুলোর উদ্দেশ্য সার্টিফিকেট না, মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—দক্ষতার উন্নতি করা, প্রফেশনাল ক্ষেত্রে তাঁর যে জায়গায় ঘাটতি আছে সেই ঘাটতিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করা। এখানে ট্রেনার হিসেবে থাকেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ইন্ডাস্ট্রিতে ১০-১৫ বছরের অভিজ্ঞ সিনিয়র পজিশনে থাকা স্পেশালিস্ট। আমরা কোনো একাডেমিক ব্যক্তি বা ভার্সিটির টিচারদের ট্রেনার হিসেবে আনি না।

‘বিডিজবসে আবেদন করেও ডাক পাই না’—এমনও অনেক প্রার্থী বলেন, এর কারণ কী?
বিডিজবসের মাধ্যমে চাকরির আবেদন করেও ডাক না পাওয়ার কারণ হলো, চাকরির বাজারের চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক গুণ বেশি। চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর এমনও হয়, একেকটা পদের বিপরীতে ৩-৪ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন।

বেশির ভাগ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট পদের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বা বাছাই পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় না। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে যাঁরা ফ্রেশার, তাঁদের ডাক না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ জন্য আমি প্রথমেই বলেছি, যাঁরা ফ্রেশার তাঁদের যেকোনো চাকরিতে প্রথমে ঢুকে পড়তে হবে। এতে তাঁর অন্য ভালো একটা কম্পানিতে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এ জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজে ঢুকে পড়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খালিদ সাইফুল্লাহ



সাতদিনের সেরা