kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

পথে পথে

শামসুদ্দীন মোল্লা মোশতাক হননি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন

লায়েকুজ্জামান    

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শামসুদ্দীন মোল্লা মোশতাক হননি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন

 অধ্যাপক সাইদুর রহমান তারঁ শতাব্দীর স্মৃতি বইয়ে বঙ্গবন্ধু, শামুসদ্দীন মোল্লা ও তাদের আরেক সহপাঠী সরোয়ারজান মিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ মুলক একটি লেখা লিখেছেন। লেখক উল্লেখ করেছেন শামসুদ্দীন মোল্লা নীতি বদলায়নি,সে শেখ মুজিবের সঙ্গেই ছিল।’অধ্যাপক সাইদুর রহমান কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ(বর্তামান মাওলানা আজাদ কলেজ) বঙ্গবন্ধুর শিক্ষক ছিলেন। দর্শন বিষয় পড়াতেন। তিনি বেকার হোস্টেলের সুপারও ছিলেন। স্মৃতি লিখেছেন বেকার হোস্টেল নিয়ে। 

ওই কলেজে একই ক্লাসে পড়তেন বঙ্গবন্ধু, শামসুদ্দীন মোল্লা ও ফরিদপুরের আরেকজন সরোয়ারজান মিয়া। সেই থেকে শামসুদ্দীন মোল্লা বঙ্গবন্ধুর বন্ধু রাজনীতির অনুসারী। যদিও শামসুদ্দীন মোল্লা বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বয়েসে এক বছর এক মাসের ছোট ছিলেন। তারঁ জন্ম ১৯২১ সালের ২০ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায়। আজ শামসুদ্দীন মোল্লার জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হলো। 

শামসুদ্দীন মোল্লা প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের সবাই মোশতাক হয় না,সবাই বেঈমান হয় না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার,ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকার রাজপথে প্রথম প্রকাশ্য মিছিল বের হয় ৩ নভেম্বর। সে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন শামসুদ্দীন মোল্লা। সেনা বাধা উপেক্ষা করে মিছিল যায় বত্রিশ নম্বরে। বত্রিশ নম্বর বাড়ির গেটে বসে মোনাজাতের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শামসুদ্দীন মোল্লা। ওই দিন বিকেলেই জিয়া সরকার শামসুদ্দীন মোল্লাকে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়ে মাইকিং করে। ভারতে গিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকেন তিনি এবং যশোরের রওশন আলি। 

শামসুদ্দীন মোল্লা যখন ভারতে আশ্রয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সংগঠিত হচ্ছেন,দেশের ভেতর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে যোগ দিতে থাকলেন ঠিক সেই ভারতে সরকার পরিবর্তন হয়ে গেল। ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতা হারালেন। ক্ষমতায় আসলেন শরনসিং। তিনি এসে এদের ভাতা বন্ধু করে দিলেন। 

পরবর্তীতে বনগাঁ এলাকার কংগ্রেস দলীয় এমপি শামসুদ্দীন মোল্লাকে ডেকে বললেন,'আমি একটা পথে আপনাদের সহযোগিতা করতে পারি,কাজের বিনিময়ে খাদ্য। আপনাদেরকে রাস্তায় মাটি কাটতে হবে,তার বিনিময়ে খাবার খাবেন। বাধ্য হয়ে সে পথই ধরলেন। রাস্তায় মাটি কাটতে হয়েছে শামসুদ্দীন মোল্লাসহ প্রতিবাদে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের।'

শামসুদ্দীন মোল্লা ও বঙ্গবন্ধুর মাঝে ঘনিষ্ট হন তাদের আরেক বন্ধু শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন। বঙ্গবন্ধু উদ্যোগ নিয়ে শামসুদ্দীন মোল্লার বোনকে বিয়ে দেন সিরাজুদ্দীন হোসেনের সঙ্গে। 
 
বর্ণাঢ্য রাজনীতিক জীবনের অধিকারী শামসুদ্দীন মোল্লা রাজনীতির পাশাপাশি ছিলেন আইনজীবী ও সাংবাদিক। কাজ করেছেন দৈনিক ইত্তেফাকে। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক সমিতির সভাপতিও হয়েছিলেন। বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,সহসভাপতি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ফরিদপুর জেলা বারের সভাপতি ও বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

আজীবন বিপ্লবী এই নেতা মৃত্যুর পূর্বমহূর্ত পর্যন্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী। জিয়া সরকার তাকে মন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন,ঘেন্নাভরে প্রত্যাখান করেছেন। দল বদলাননি,আদর্শ বদলাননি। খ্যাতিমান এই রাজনৈতি নেতা ১৯৯১ সালের ১০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। 



সাতদিনের সেরা