kalerkantho

সোমবার । ২৯ চৈত্র ১৪২৭। ১২ এপ্রিল ২০২১। ২৮ শাবান ১৪৪২

ভাইভায় বাদ পড়লাম, তারপর যেভাবে চাকরি পেলাম

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০২১ ১১:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাইভায় বাদ পড়লাম, তারপর যেভাবে চাকরি পেলাম

৩৮তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন আতিক মাহমুদ। এর আগে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি প্রথম হয়েছিলেন

স্কুল আর কলেজ জীবনে সব সময় প্রথম হতাম। ট্যালেন্টপুলে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি, এসএসসি ও এইচএসসিতে পেয়েছিলাম বোর্ড স্কলারশিপ। রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে (বিজ্ঞান) জিপিএ ৫ নিয়ে পাস করে ২০০৯ সালে ভর্তি হই বুয়েটে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইইই)। অবশ্য ভর্তির পর ধরাবাঁধা পড়াশোনা ছেড়ে আড্ডা, ঘোরাঘুরি আর টিউশনি করে দিন পার করেছি। বাবা বিসিএস ক্যাডার হওয়ায় ক্যাডার সার্ভিসের বেসিক কিছু বিষয় আগে থেকেই ধারণা ছিল। বুয়েট থেকে পাস করে টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে বেসরকারি চাকরি করেছি বছরখানেক। দেশের চাকরির বাজার এবং সমসাময়িক বাস্তবতার ফলে একসময় মনে হয়েছে, আমার জন্য বিসিএস কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি—দুটিই সবচেয়ে ভালো অপশন। এরপর বেসরকারি চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরির জন্য একনিষ্ঠভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।

বিসিএস পরীক্ষায় বেশির ভাগ প্রশ্নই আসে নবম-দশম শ্রেণির গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলা ব্যাকরণ, ভূগোল, সামাজিক বিজ্ঞান ইত্যাদি বই থেকে। বইগুলোর কোন কোন অধ্যায় বা বিষয়বস্তু পড়তে হবে বা বাদ দিতে হবে—এগুলো বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত করি। এরপর মূল বই থেকে পড়া শুরু করি। বুয়েটে পড়ার সময় বহু টিউশনি করেছি। এটা যে কতটা কাজে দিয়েছে, বুঝতে পারলাম বিজ্ঞান আর গণিতের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে। এই দুই বিষয়ে নতুন করে তেমন কিছু পড়তে হয়নি। আগে জিআরই পরীক্ষাটা দেওয়া ছিল। এর ফলে ইংরেজি ভোকাবুলারির পাশাপাশি নিজের মতো করে বানিয়ে লেখার প্রস্তুতিটাও পাকাপোক্ত ছিল। তবে সবচেয়ে কাজে দিয়েছে ইংরেজি আর বাংলা পত্রিকার সম্পাদকীয়, আন্তর্জাতিক আর অর্থনীতির খবরাখবর নিয়মিত পড়ার অভ্যাস। তবে বাংলাদেশের সংবিধান অনেক কষ্টে মুখস্থ করেছিলাম। লিখিত পরীক্ষায় এটাও খুব কাজেও দিয়েছে। বিভিন্ন সাম্প্রতিক সময়ের তথ্যগুলো (ছক, উপাত্ত) একটা আলাদা খাতায় লিখে রেখেছিলাম। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কোটেশনের জন্য একটা আলাদা খাতা বানানো ছিল। লিখিত পরীক্ষায় অনুবাদের নম্বর তুলনামূলক বেশি, তাই এটায় বাড়তি সময় দিয়েছি। আন্তর্জাতিক আর বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে যেকোনো স্থানের নাম শুনলেই গুগল ম্যাপে তার অবস্থান দেখতাম, পাশাপাশি উইকিপিডিয়ায়ও ঢু মারতাম।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় জিআরই পরীক্ষার একটা টেকনিক আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। সেটা হলো ‘ল অব ইলিমিনেশন’ বা বাদ দেওয়ার পদ্ধতির টেকনিক! এই কৌশল প্রয়োগ করতে হলে বুঝে পড়ার বিকল্প নেই। যেকোনো টপিকেরই একটা ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে। চেষ্টা করেছি টপিকের পেছনের গল্পটা জেনে সমসাময়িক অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে রিলেট করে পড়ার (বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক বিষয়বলি, ইতিহাসভিত্তিক অংশগুলো এবং সাহিত্য অংশ পড়ার সময়)। ফলে বিষয়গুলো মনে রাখা সহজ হয়েছে। এমসিকিউতে চারটি অপশনের মধ্যে দু-তিনটি অপশন অনেক ক্ষেত্রেই বাদ দেওয়া যায়। সাহিত্য অংশের প্রস্তুতির সময় একজন লেখকের দর্শন কেমন ছিল, জানতে ইন্টারনেট ঘাঁটতাম। উপন্যাস-কবিতা-গল্পের নামগুলোতে লেখকের মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করতাম। এর ফলে চারটি অপশনের কমপক্ষে দু-তিনটি বাদ দিতে পারতাম অর্থাৎ কনফিউজিং প্রশ্নের অপশনগুলো থেকে উত্তর শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হতো। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিতে পড়াশোনার চেয়ে কৌশলগত পদক্ষেপ কোনো অংশে কম না।

৩৭তম বিসিএসে অংশ নিয়ে নন-ক্যাডার (সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত) পেয়েছিলাম। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পরীক্ষায় (২০১৮) ভাইভা দিয়ে বাদ পড়ে যাই। মন খারাপ হয়েছে; কিন্তু মনোবল হারাইনি। সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দিয়ে প্রস্তুতি আরো জোরদার করেছি।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (জেনারেল) পরীক্ষায় আমি প্রথম স্থান অধিকার করি। নিজের ও পরিচিতদের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেও ভাইভায় খারাপ হলে নন-ক্যাডার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ভাইভায় কৌশলী হতে হবে। ভাইভায় বিনয় অথচ দৃঢ়তা, ভুল স্বীকার করার মানসিকতা, আই কন্টাক্ট বজায় রাখা, হাসিমুখে সাবলীল থাকা, ক্যাডারভিত্তিক প্রস্তুতি, নিজের ডিপার্টমেন্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, নিজ জেলা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও সাম্প্রতিক বিষয়ে ধারণা রাখা এবং ইংরেজিতে উপস্থিত বক্তৃতা করার অভ্যাস একজন প্রার্থীকে অনেকটাই এগিয়ে রাখে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা