kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

[ও আমার দেশ]

রাজশাহীর রংমিস্ত্রি

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০২১ ০৯:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীর রংমিস্ত্রি

দেয়ালগুলোই তাঁর ক্যানভাস। বাড়ির নয়, শহরের। রাজশাহী শহরের প্রায় ২০০ দেয়াল আবুল বাশার এঁকে ফেলেছেন এরই মধ্যে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার ছাত্র। আল সানি শুনেছেন তাঁর গল্প

কোথাও হাতে আঁকা নকশা দেখলে তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম, মানুষ এত সুন্দর কাজ কিভাবে করে? আঁকাআঁকিতে আগ্রহটা সেই ছোটবেলাতেই তৈরি হয়। ১২ বছর হয়ে গেল তুলি নিয়েছি হাতে। এখন আরো নতুন নতুন তুলি নিচ্ছি। কোনোটা মোটা, কোনোটা লম্বা, কোনোটা বা সুচালো।

দাদা বললেন
বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় পড়ব। আত্মীয়-স্বজন তো শুধু ডাক্তার নয়তো ইঞ্জিনিয়ার হতে বলে। অনেকে আবার ধর্মের দোহাইও দেয়। কিন্তু আমি যে ছবি আঁকতে চাই। শেষে আমার দাদা আর সাগর মামার সমর্থন পেলাম। দাদা ছিলেন মৌলভী। তিনিই সবাইকে বোঝালেন, ‘চারুকলা মানেই বিপথে যাওয়া নয়।  এটাও শেখার বিষয়। জীবনে বড়ে হতে হলে সব ধরনের শিক্ষারই দরকার আছে।’

২৩ জন!
প্রথম চেয়েছিলাম নিজের ঘর রাঙাতে। কিন্তু মা রাজি হলেন না। বাইরে অন্য কোথাও রং করতে বললেন। কিন্তু অন্য কাউকে রাজি করাতে পারিনি। শেষে একটা ছোটখাটো দোকান ভাড়া নিলাম। ভাবলাম, দোকানটাই রাঙাব। দোকানের ঝাঁপ লাগিয়ে কাজ করতাম। শেষ করতে লাগল ১৯ দিন। যখন ঝাঁপ খুলে দেখালাম পড়শিদের, সবাই অবাক। লোকে বলাবলিও করল। ২৩ জনের কাছ থেকে নতুন কাজের ফরমায়েশ পেলাম। কিন্তু বিনীতভাবে ‘না’ বলে দিয়েছি। এদের কেউই শুরুর দিকে আমার কাজের মূল্যায়ন করেনি।  

ডাকটা শুনলে ভালো লাগে
রাজশাহী উপশহরের ১১ ফুট উঁচু ও ৫৯ ফুট দীর্ঘ একটি দেয়াল এঁকেছি টানা ১০ দিন ধরে। এটাই এখন রাজশাহীর সবচেয়ে বড় দেয়ালচিত্র। রাজশাহীকে সবাই তো পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে জানে। আমরা চাই, একদিন ক্যানভাসের নগরী বলেও চিনুক। আমাকে এখন অনেকেই রংমিস্ত্রি বলে ডাকে। ডাকটা আমার অনেক পছন্দ।

শিল্প গণমানুষের
অনেক মানুষই এখনো শিল্পকলাকে বড়লোকদের শখের ব্যাপার ভাবে। আসলে কিন্তু তা নয়। দেয়ালে এঁকে তাই আমরা বলতে চাইছি, শিল্পে সবার অধিকার। যাদের টাকা আছে তারা ঘরে নিয়ে ক্যানভাস ঝোলাক, ক্ষতি নেই তাতে। কিন্তু শিল্প সবার। সারা পৃথিবীতে এখন স্ট্রিট পেইন্টিং, গ্রাফিতি খুব জনপ্রিয়। এসব মাধ্যমে মানুষ তাঁর নিজের কথা বলে, বলে আরো আরো মানুষের কথা, গাছের কথা, মাছের কথা। পথ চলতি ক্লান্ত মানুষ যদি দেয়ালচিত্র দেখে একটু ক্লান্তি ভোলে তবেই আমরা সার্থক।

ইচ্ছা করে
আমার সঙ্গে এখন ছয়জন কাজ করছে। সবাইকে ভালো সম্মানী দিয়েই নিজের সঙ্গে রাখতে পারছি। দেয়ালচিত্রের কাজ ২০০ ছুঁয়েছে এরই মধ্যে। ২০টার মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়েও দেয়ালচিত্রের কাজ করেছি। ছোটদের এসব দেখানোর আনন্দটাই আলাদা। এখন কিন্তু এটা আমার পেশাও। ইচ্ছা আছে দেশের সব দেয়ালকেই ক্যানভাস বানানোর। তাই বিফাইন নামের একটা সংগঠনও গড়েছি।



সাতদিনের সেরা