kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

প্রকৌশলী নেবে পাওয়ার গ্রিড, যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

♦ পরীক্ষা ২ ধাপে—লিখিত ও মৌখিক ♦ বিষয়ভিত্তিক ৬০, এমসিকিউ ৪০

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



প্রকৌশলী নেবে পাওয়ার গ্রিড, যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

মডেল : মিশু ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

সহকারী প্রকৌশলী পদে ৫৯ জন ও উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ২০০ জনের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। পদভেদে নির্দিষ্ট বিষয়ের ডিপ্লোমা ও বিএসসি প্রকৌশল সনদধারী প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। অনলাইনে আবেদনের শেষ তারিখ ৭ মার্চ ২০২১। নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শুভংকর পোদ্দার

পরীক্ষার ধরন
পিজিসিবিতে সহকারী প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী দুই ধরনের পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ফরম্যাট একই ধরনের, তবে প্রশ্নের মান ভিন্ন ভিন্ন। দুই পদেই নিয়োগ পরীক্ষা দুই ধাপে হয়। প্রথমে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা, তারপর মৌখিক পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর থাকায় লিখিত পরীক্ষা অনেক গুরুত্ব বহন করে। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে রয়েছে মানসিক দক্ষতায় ২০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর, বাংলা, ইংরেজি ও পাওয়ার সেক্টরে ২০ নম্বর এবং বিষয়ভিত্তিক ৪০ নম্বর। ৪০ নম্বরের বিষয়ভিত্তিক অংশে লিখিত পরীক্ষা হয়। বাকি ৬০ নম্বরের পরীক্ষা হয় এমসিকিউ। এমসিকিউতে ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা যাবে না। প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত খালি পদের সর্বোচ্চ তিন গুণসংখ্যক প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ডাকা হয়।

সাধারণত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রার্থীকে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার কেন্দ্র ও সময়সূচি সময়মতো পিজিসিবির ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হয়।

নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি
♦ লিখিত পরীক্ষা : মানসিক দক্ষতা অংশে মূলত গাণিতিক যুক্তি থেকে প্রশ্ন আসে। সম্ভাব্যতা, সুদকষা, ঐকিক নিয়ম, সেট, সাধারণ পাটিগণিত থেকে গত বছর প্রশ্ন এসেছিল। এগুলো ভালো করে অনুশীলন করতে হবে। বিসিএস পরীক্ষার জন্য বাজারে পাওয়া মানসিক দক্ষতার যেকোনো একটি বই কিনে সেখান থেকে এই বিষয়গুলো দেখে নিতে হবে। এ ছাড়া মানসিক দক্ষতার ওপর অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট আছে। সেখান থেকে নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অংশে ভালো নম্বর তোলা যাবে। বাংলা ও ইংরেজিতে অনেকে কম গুরুত্ব দেয়। বাংলা অংশে ব্যাকরণ ও সাহিত্য থেকে প্রশ্ন আসে। কারক, সমাস, সন্ধি, প্রকৃতি-প্রত্যয় সম্পর্কে নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই পড়া যেতে পারে। বাংলা সাহিত্য যেকোনো বিসিএস প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট বই থেকে পড়ে নেওয়া যায়। ইংরেজি অংশে শুধু ব্যাকরণ থেকে প্রশ্ন আসে। বাক্য গঠন, Analogy, Vocabulary, শূন্যস্থান পূরণ টাইপের প্রশ্ন দিয়ে থাকে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য লেখা যেকোনো ইংরেজি গ্রামার বই থেকে ওই বিষয়গুলো পড়লে এই অংশের প্রস্তুতি হয়ে যাবে।

সাধারণ জ্ঞানের জন্য সিলেবাস বেশ বড়। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে যেকোনো প্রশ্ন আসতে পারে। সিলেবাসের তুলনায় নম্বর এই অংশে কম থাকায় বিস্তারিত পড়া নির্ভর করবে সময়ের ওপর। এ ক্ষেত্রেও যেকোনো একটি বিসিএস প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট বই থেকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশ পড়ে নিলে কম সময়ে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। Power Sector থেকে এমসিকিউ প্রশ্ন আসায় বাংলাদেশের Power Sector সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। Power Division, BPDB, PGCB-এর ওয়েবসাইটে এসংক্রান্ত যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর থাকায় এই অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, সিভিল ও কম্পিউটার সায়েন্সের জন্য ৪০ নম্বরের বিষয়ভিত্তিক অংশে নিজ নিজ বিভাগ অনুযায়ী আলাদা প্রশ্ন থাকে। বাকি ৬০ নম্বর সবার জন্য একই থাকে। সাধারণত প্রতিটি ৫ নম্বরের মোট ৮টি প্রশ্ন থাকে। গাণিতিক সমস্যা, থিওরি—দুটিই থাকতে পারে। স্নাতক পর্যায়ের আবশ্যিক বিষয়গুলো থেকেই প্রশ্ন আসে। তাই তৃতীয়, চতুর্থ বর্ষের ঐচ্ছিক বিষয়গুলো না পড়লেও হবে। নিয়োগ পরীক্ষা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে, প্রশ্নপত্রের ধরন বুঝতে সেখানকার বিষয়ভিত্তিক ক্লাস লেকচার দেখে নিতে পারেন। কারণ, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ই (যেমন—বুয়েট, এমআইএসটি, এইউএসটি) প্রণয়ন করে।

এই অংশে প্রতিটি প্রশ্নে ৫ নম্বর। সুতরাং ভুল করলে পিছিয়ে যেতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে উত্তর করার অনুশীলন করতে হবে। টাইম ম্যানেজমেন্ট এখানে একটি বড় বিষয়। টেকনিক্যাল অংশে কী ধরনের প্রশ্ন আসে সে ব্যাপারে ফেসবুকে বিভিন্ন জব প্রিপারেশন-সংশ্লিষ্ট গ্রুপ থেকে ধারণা নেওয়া যেতে পারে।

♦ মৌখিক পরীক্ষা : সাধারণত মৌখিক পরীক্ষায় একজন প্রার্থীকে প্রথমেই নিজের সম্পর্কে বলতে বলা হয়। নিজের বিষয়ে প্রার্থী যা বলেন সেখান থেকে কোনো পয়েন্ট নিয়ে মৌখিক পরীক্ষার পরবর্তী অংশ অগ্রসর হয়। ভাইভা বোর্ডে পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালকরা এবং এক্সটার্নাল হিসেবে সাধারণত বুয়েটের একজন অধ্যাপক থাকেন। মৌখিক পরীক্ষায় টেকনিক্যাল বিষয়ের সঙ্গে সাধারণ বিষয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। ফ্রেশার প্রার্থীরা নিজের থিসিস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন। যাঁরা কোনো চাকরিতে আছেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কাজের ব্যাপারে ভালোভাবে জেনে নেবেন। Power Sector সম্পর্কে লিখিত অংশে নেওয়া প্রস্তুতি আরেকবার ঝালিয়ে নেবেন। সাম্প্রতিক বিষয়গুলো জানতে নিয়মিত পত্রিকা দেখবেন। বাংলাদেশের ইতিহাস, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নিজ জেলা, উপজেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পিজিসিবি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এ পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রার্থীকে প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও বেতন
চাকরিতে যোগদানের পর একজন নবীন কর্মকর্তাকে ৪৫ দিনের বিভাগীয় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করতে হয়। এ ছাড়া চাকরির বিভিন্ন সময়ে উপসহকারী প্রকৌশলী ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা দেশে, বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হন। পিজিসিবি বেতন স্কেল ২০১৬ অনুযায়ী উপসহকারী প্রকৌশলী ৩৫,০০০ টাকা এবং সহকারী প্রকৌশলী ৫০,০০০ টাকা মূল বেতনসহ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা/বিল, যাতায়াত ভাতা, বৈশাখী ভাতা প্রভৃতি প্রাপ্ত হন। নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার সময়, কেন্দ্র, ফলাফল ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে (http://www.pgcb.gov.bd)

পদসোপান
পিজিসিবিতে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী বা সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি বা উচ্চতর পদে নিয়োগ পান জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। পিজিসিবির পদসোপান হলো

উপসহকারী প্রকৌশলী > সহকারী প্রকৌশলী (কমপক্ষে ৩ বছর) > উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (কমপক্ষে ৪ বছর) > নির্বাহী প্রকৌশলী (কমপক্ষে ৪ বছর) > তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কমপক্ষে ৫ বছর) > প্রধান প্রকৌশলী > নির্বাহী পরিচালক।

একনজরে পিজিসিবি
নিয়োগ পরীক্ষায় পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) সম্পর্কে প্রশ্ন থাকতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলো পিজিসিবি। এটি বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। দেশের সব উচ্চ বিভবের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলো (High Voltage Sub-Station) পিজিসিবির মালিকানাধীন। বর্তমানে পিজিসিবি ১৩২ কিলোভোল্ট, ২৩০ কিলোভোল্ট এবং ৪০০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন লাইনগুলো পরিচালনা করছে। এ ছাড়া ভারত থেকে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে পিজিসিবি নিয়ন্ত্রিত HVDC উপকেন্দ্রের মাধ্যমে। ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, সিভিল, কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পিজিসিবি একটি ভালো প্রতিষ্ঠান। দেশের বাইরে থেকে স্নাতক সম্পন্ন করলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি সাপেক্ষে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। যোগ্যতা ও সিজিপিএ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা