kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি টিকা: কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ?

ড. বি এম রাজ্জাক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:৫৬ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি টিকা: কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ?

কোভিড-১৯, করোনা ভাইরাস হিসেবেই বেশি পরিচিত। মহামারির কারণে এখন সারা বিশ্বে এটি অতিপরিচিত শব্দ। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। অন্যান্য দেশেও ভাইরাসটি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। পৃথিবীতে প্রায় ২১৮টি দেশে এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসে বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৫০,৫১,৭১৪, মৃত্যু ১৮,৪৫,১৩০ এবং জীবন ফিরে পেয়েছেন ৬,০১,৯৪,৯১১ জন। (তথ্য সূত্র : ওয়ার্ল্ডোমিটারস, ০৩ জানুয়ারি, ২০২১)।

আক্রান্ত প্রতিটি দেশ ‘লক ডাউন’ ও নানা বিধিনিষেধ জারি করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত। তবে সবার চোখ এখন বহুল আকাঙ্খিত প্রতিষেধকের (ভ্যাকসিন) দিকে। অনেক দেশ নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ভ্যাকসিন তৈরির। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মান, রাশিয়ার মতো দেশের সহযোগিতায় ভারত ও বাংলাদেশও টিকা উৎপাদনের দৌড়ে আছে।

পৃথিবী সেরা ওষুধ প্রস্তুত কোম্পানিগুলো অবিরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষেধক আবিস্কারের জন্য। যেমন-অ্যাস্ট্রাজেনেকা/অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ফাইজার/বায়োনটেক, মর্ডানা, গ্যামেলিয়া, নোভাভ্যাক্স, জনসন অ্যান্ড জনসন/জনসেন, সনোফি/জিএসকে, কিউরভেক, সিনোভেক, উহান/সিনোফার্ম। অনেকে সফল হয়েছে। অনেকের উৎপাদিক টিকা অনেক দেশ অনুমোদনও দিয়েছে।

প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক আশার আলো নিয়ে পৃথিবীর বুকে প্রথম সফল বার্তা নিয়ে এলো ফাইজার/বায়োনটেক ভ্যাকসিন। তাদের সফলতার খবরে দুনিয়াজুড়ে নেমে এসেছে স্বস্তি, আবার বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এরই মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য গত ৮ ডিসেম্বর প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করে ফাইজার/বায়োনটেকের। প্রথম ভাগ্যবান ব্যক্তি হলেন যুক্তরাজ্যের এক দাদি, ৯১ বছর বয়সী মার্গারেট কেইনান। তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ইউনিভার্সিটি হসপিটাল কভেনট্রিতে। (তথ্য সূত্র : বিবিসি, ডিসেম্বর ৮, ২০২০)

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা গত ১৪ ডিসেম্বর ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে উল্লেখ্য যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা, তারা প্রত্যেকে ফাইজার/বায়োনটেক ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেছে (তথ্য সূত্র : বিবিসি, ডিসেম্বর ১৪, ২০২০)।

এ ভ্যাকসিনটি দেওয়ার জন্য কতিপয় নিয়ম রয়েছে, যা মানতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। যেমন প্রথম ডোজ গ্রহণ করার পর ১২ দিনের মধ্যে এটি অনাক্রম্যতা (ইমিউনিটি) গড়তে শুরু করবে। ২১ দিনের দিন দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে এবং পূর্ণ অনাক্রম্যতা হবে ২৮ দিনের মধ্যে (সূত্র: বিবিসি, ডিসেম্বর ৮, ২০২০)। সুতরাং দুটি ডোজ দিতে হবে প্রত্যেককে। এখানে ভিন্ন কোনো পন্থার সুযোগ নেই।

আমরা যদি এর দামের দিকে তাকাই তাহলে দেখব বহুল জনসংখ্যাবেষ্টিত দেশ বা গরিব দেশের জন্য এটা পাওয়া অনেকটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। কারণ সকল জনগণের জন্য সরবরাহ হবে অনেক ব্যয়বহুল। চারটি কোম্পানির ভ্যাকসিনের মূল্য তালিকা দেখা যেতে পারে।

১. অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন ২ ডোজ ৪ মার্কিন ডলার (৩৩৬ টাকা)

২. মর্ডানা ২ ডোজ ৩৩ মার্কিন ডলার (২৭৭২ টাকা)

৩. ফাইজার বায়োনটেক ২ ডোজ ২০ মার্কিন ডলার (১৬৮০ টাকা)

৪. গ্যামেলিয়া (স্পুৎনিক ভি) ২ ডোজ ১০ মার্কিন ডলার (৮৪০ টাকা)

(সূত্র : বিবিসি, ডিসেম্বর ৪, ২০২০)

এখন আমাদের আলোচনা বা জানার বিষয় বাংলাদেশ কোন পদ্ধতি বা পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে? কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ? বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬,৪৬,৮৯,৩৮৩ জন (সূত্র : ইউএন ডাটা ২০২০) সেই হিসাবে বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রায় ৩৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন। মূল্য হবে অনেক। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আনার প্রক্রিয়ায় আছে বাংলাদেশ। দাম হবে (১৬.৫ কোটি´৪ডলার)= ৬৬ কোটি ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৬ কোটি ডলার´৮৪ টাকা= ৫৫৪৪ কোটটিাকা। শুধু তাই নয় এর সাথে রয়েছে বহন খরচ, লোকবল নিয়োগ, সংরক্ষণ ও বণ্টন খরচ। বাংলাদেশ সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করেছে (সূত্র : প্রথম আলো ১৪ জুন ২০২০)। এদিকে ভ্যাকসিন কিনতে বাংলাদেশকে ২৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (সূত্র : প্রথম আলো, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০)।

বিবিসি বাংলার (২৩ নভেম্বর ২০২০) মতে, বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য করোনার ভ্যাকসিন কেনার জন্য বিপুল অর্থের যোগান নিশ্চিত হয়নি। তাই কর্মকর্তারা বলেছেন তারা বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার বা সোয়া চার হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থে দেড় হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন কেনার দৌঁড়ে আছে। (বিবিসি বাংলা, ২৩ নভেম্বর ২০২০)।

যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেছেন, করোনা ভ্যাকসিন কিনতে ৭৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (তথ্য সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন, ডিসেম্বর ২০২০)।

বাংলাদেশ সরকার ৩ কোটি করোনা ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে যা দেশের মানুষের ৫ ভাগের এক ভাগ। এরপরও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এ উদ্যোগের জন্য। বাংলাদেশ তার জন্মলগ্ন থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়েছে এবং তা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু করোনার ভ্যাকসিন কিভাবে শুরু করবে? কোথা থেকে প্রথম? কে পাবে? তালিকা করার কথা শোনা যাচ্ছে। তার কোনো পরিস্কার চিত্র এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে আমি যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন বণ্টন পদ্ধতি আলোচনা করছি যা বাংলাদেশ প্রয়োগ করতে পারে। তবে উন্নত দেশগুলো এক্ষেত্রে একটু বাড়তি সুবিধা পাবে কারণ তাদের জাতীয় ও তথ্য ব্যবস্থাপনা (ন্যাশনাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) আছে; যেখানে সকলের তথ্য তাদের স্থানীয় ডাক্তার বা চিকিৎসক দেখতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন।

বাংলাদেশ এ জায়গায় এসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। কারণ কিভাবে বা কোথা থেকে ভ্যাকসিন শুরু করবে? যুক্তরাজ্য তাদের ভ্যাকসিন নয়টি স্তরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দিবে। সেই অনুযায়ী প্রত্যেকের বাসায় ডাকযোগে বা টেলিফোন করে ভ্যাকসিন দেওয়ার তারিখ নিশ্চিত করবে। আমরা এখন ওই নয়টি স্তুরকে দেখে নিই-

১. প্রাপ্ত বয়স্ক যারা কেয়ার হোমে থাকে এবং তাদের যারা সেবা যÍ দেয়।

২. ৮০ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী এবং সম্মুখ স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কর্মী।

৩. ৭৫ বছর ও তার থেকে বেশি বয়সী।

৪. ৭০ বছর ও তার থেকে বেশি বয়সী এবং যারা চিকিৎসারত অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ব্যক্তি।

৫. ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সী।

৬. গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে থাকা ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ব্যক্তি।

৭. ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী।

৮. ৫৫ বছর ও তার বেশি বয়সী।

৯. ৫০ বছর ও তার বেশি বয়সী ব্যক্তি।

এছাড়া শিক্ষক, যান ব্যবস্থাপনায় যারা নিয়োজিত ও সশস্র বাহিনীর সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের এ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা ভ্যাকসিন বণ্টন নিয়ে কোনো সমালোচনা চোখে পড়েনি। কারণ তারা কোনো জাতি, গোষ্ঠী বা বর্ণকে প্রাধান্য দেয়নি। প্রাধান্য দিয়েছে মানুষ ও তার শারীরিক অবস্থা, কর্ম ও বয়সকে।

বাংলাদেশ জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বা ফেব্র“য়ারি মাসের প্রথম দিকে ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে করোনা ভাইরাসের টিকা পাওয়ার আশা করছে। এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ার ইসলাম জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে তিন কোটি ডোজ টিকা জনগণকে বিনামূল্যে দেবে সরকার (সূত্র : বিবিসি বাংলা, ৩০ নভেম্বর ২০২০)।

আমরা খুব আশাবাদী সরকার জানুয়ারি মাসেই করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুর করবে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা বা অন্য কোনো দেশের মডেল অনুসরণ করবে কিনা? বা সেটা বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ হবে কিনা? এ বিষয়ে সরকার অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ার আশংকা রয়েছে। সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনায় কিছু সমাধানের কথা ভাবতে পারে সরকার।

প্রথমত, সরকার কোন শ্রেণির মানুষদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করবে বা কোন শ্রেণির তালিকা তৈরি করেছে? এক্ষেত্রে সরকার যদি উন্নত দেশের ফর্মূলা ব্যবহার করতে চায় তাহলে পারবে কিনা? যেমন-যুক্তরাজ্য প্রত্যেকটি মানুষের নাম, ঠিকানা, চিকিৎসা, রোগ ও ওষুধ ব্যবহারের তথ্য জাতীয় ডাটা সেন্টার ব্যবহার করে অনায়াসে পদক্ষেপ নিতে পারে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সরকারকে প্রথমে বুঝতে হবে সাধারণ মানুষ কি প্রত্যাশা করে, কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা শ্রেণি যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়। সেদিকটা লক্ষ্য রেখে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সারা দেশে ক্যাম্প তৈরি করে বয়স, কর্ম বা শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তালিকা তৈরি করতে পারলে এর সমাধান সহজ হবে। এজন্য সৎ দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য স্থানীয় প্রতিনিধি আনসার, পুলিশ বা অন্য বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা যেতে পারে। তারা তালিকা প্রণয়ন করবে এবং বাস্তবায়নের বিষয়টি দেখবে সরকার।

দ্বিতীয়ত, ভ্যাকসিন সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কারণ এটি সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। সেজন্য সরকারকে সঠিক যন্ত্রপাতি, ফ্রিজার সংগ্রহ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সরকারের উচিত দক্ষ সৎ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া। এর পর একটি তদারকি দল গঠন করা যারা নিয়মিত তদারক করবে যে ভ্যাকসিন সঠিক তাপমাত্রায় আছে কিনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তৃতীয়ত, প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে ২১ দিনের দিন। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ কোনোভাবেই এটা অমান্য করা যাবে না। তাহলে কিভাবে এটি ঠিক রাখবে? এক্ষেত্রে একটি দক্ষ দল থাকবে যারা দ্বিতীয় ডোজের তালিকা করে প্রথম ডোজের দিন রোগীর কাছে পরবর্তী ডোজের তারিখ দিয়ে দিবে। শুধু তাই নয়, মোবাইল ফোনে বা ম্যাসেজ দিয়ে রোগীদের মনে করিয়ে দিতে হবে। এজন্য সরকার মোবাইল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে এই সেবার জন্য।

চতুর্থত, বাংলাদেশ সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তারা কিনবে, যা বর্তমান জনসংখ্যার ৫ ভাগের একভাগ। তাহলে বাকি জনগণের জন্য সরকার কতদিনে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করতে পারবে? অন্যদিকে সকল জনগণকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়াও বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সেজন্য ব্যক্তিমালিকানার এজেন্টদেরকে অনুমতি দেওয়া ভ্যাকসিন ক্রয় ও বিক্রির জন্য। এক্ষেত্রে সরকার চাইলে কিছু আর্থিক সহায়তা করতে পারে, যাতে বঞ্চিত মানুষগুলো কম মূল্যে কিনতে পারে। তবে সরকারকে মূল্য নির্ধারণ ও তদারক করতে হবে প্রতিনিয়ত, যাতে কেউ কোনো ফায়দা লুটতে না পারে।

পঞ্চমত, প্রাকৃতিক দূর্যোগ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর কোনো শেষ নেই। ভবিষ্যতে আবার অন্য কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এ রকম দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য এখনই মুখ্য সময়। সেই জন্য সরকারের প্রতি আমার পরামর্শ একটি জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার তৈরির কাজে হাত দেওয়া, যেখানে প্রত্যেক মানুষের নাম, ঠিকানা, পেশা, রোগ ও ওষুধ ব্যবহারের সকল তথ্য থাকবে; যা একজন চিকিৎসক সহজে দেখে কোনো কোন ওষুধ বা চিকিৎসা দিতে পারে। এই পদ্ধতি সব উন্নত দেশে বিদ্যমান। যদিও এটি চ্যালেঞ্জের কাজ। তবে সরকার পদক্ষেপ নিলে সম্ভব। এজন্য বিশ্বব্যাংক, এডিবি বা অন্য উন্নত দেশ থেকে আর্থিক সাহায্য চাইতে পারে। প্রযুক্তিগত সাহায্যের জন্য যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এটি বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অনেক দক্ষতার পরিচয় দিবে।

ষষ্ঠত, সরকার সকল মানুষকে তিনটি ভাগে ভাগ করে ভ্যাকসিন বণ্টন করতে পারে। যেমন-যারা অতি গরিব ও নিুবিত্ত তাদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া। এর আওতায় সরকারি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

যারা মধ্যবিত্ত তারা অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে ভ্যাকসিন পেতে পারে। এর আওতায় সরকারি দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।

আর যারা উচ্চবিত্ত, তারা পুরো টাকা পরিশোধে ভ্যাকসিন পেতে পারে। এর আওতায় সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তারা অনুমোদিত বেসরকারি এজেন্টদের কাছ থেকে কিনে ভ্যাকসিন নিতে পারে।

সপ্তমত, করোনা মোকাবেলায় সরকারের সম্মুখ ভাগে যে সব বিভাগ দায়িত্ব পালন করছে; যেমন-ডাক্তার, নার্স, পুলিশ বাহিনী, যান ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন; তাদেরকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়ার আওতায় আনা।

(লেখক- প্রভাষক, লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, লন্ডন)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা