kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ৯ মার্চ ২০২১। ২৪ রজব ১৪৪২

আমাদের ঢাকা, আমাদের ঐতিহ্য সাকরাইন

এফ এম শরিফুল ইসলাম শরিফ   

১৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমাদের ঢাকা, আমাদের ঐতিহ্য সাকরাইন

'এসো ওড়াই ঘুড়ি বাংলার ঐতিহ্য লালন করি'- এই স্লোগানকে সামনে রেখে উদ্‌যাপিত হচ্ছে এবারের সাকরাইন উৎসব। প্রায় দুইশত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বয়ে চলেছে আমাদের ঢাকা। সাকরাইন বা ঘুড়ি উৎসব তেমনি একটি পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এই উৎসবে যুগ যুগ ধরে বহন করে চলেছে ঢাকাবাসী। মূলত পৌষ সংক্রান্তি বা পৌষে শীতের আমেজকে বাড়তি মাত্রা দিতে ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে এই সাকরাইন উৎসব পালিত হয়ে থাকে। 


আজকের উৎসব আয়োজন চলছে

উৎপত্তিগত জায়গায় সংস্কৃত শব্দ 'সংক্রান্তি' ঢাকাইয়া অপভ্রংশে সাকরাইন শব্দের রূপ নিয়েছে। বাংলা পৌষ মাসের শেষ ও মাঘ মাসের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী এই ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে থাকে পুরান ঢাকাবাসী। দিনভর ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি আর রং-বেরংয়ের ফানুস উড়িয়ে আমরা সাকরাইন উৎসবকে আনন্দঘন করে তুলে থাকি। কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী এমনকি বয়ঃবৃদ্ধরাও এই উৎসবে সামিল হন। দিনভর ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় বিভিন্ন আয়োজনে সকলে আনন্দে মেতে ওঠে পুরান ঢাকাবাসী। ঘুড়ি তৈরিতে রয়েছে শৈল্পিক নিদর্শন। সঠিকভাবে, সঠিক মাপে ঘুড়ি তৈরি করতে না পারলে আপনার ঘুড়ি আকাশের নীল রঙ ধরতে পারবে না। এজন্য বাহারি রংয়ের ঘুড়ি তৈরি করা হয় সাকরাইন উৎসবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে  গোয়াদার, চোকদার, মাসদার, গরুদান, লেজলম্বা, চারভুয়াদার, পানদার, লেনঠনদার, গায়েল ঘুড্ডিগুলো অন্যতম। বাহারি রংয়ের কাগজ, পলিব্যাগ ও বাঁশের অংশবিশেষ দিয়ে তৈরি হয় এসব ঘুড়ি। সাথে থাকে বাহারি রংয়ের নাটাই, এছাড়া নাটাই ও ঘুড়িতে সংযোগ করা হয় বাহারি রংয়ের সুতা। সেসব সুতাগুলার মধ্যে রয়েছে রক সুতা, ডাবল ড্রাগন, কিং কোবরা, ক্লাক ডেভিল, ব্ল্যাক গান, ডাবল গান, সম্রাট, ডাবল ব্লেট, মানজা, বর্ধমান, লালগান ও টাইগারসুতা অন্যতম।

এ সকল বাহারি ঘুড়ির মালিকদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা। বাসার ছাদে এসব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রতিযোগিদের মাঝে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ নির্ধারণ করা হয়। ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় মূলত একসাথে ঘুড়ি ওড়ার পর যিনি যতো বেশি উড়ন্ত ঘুড়ির সুতা দিয়ে ঘুড়ি কাটতে পারবে এবং শেষ পর্যন্ত উড়ন্ত ঘুড়ি অক্ষত রাখতে পারবে তিনি হবেন চ্যাম্পিয়ন। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও হয় জাঁকজমকপূর্ণ। নানা রকমের খাবারের আয়োজন থাকে এই অনুষ্ঠানে। উৎসব উদযাপনে রাতে কিশোর-যুবকেরা মুখে কেরোসিন নিয়ে আগুনের লেলিহান রাশি তৈরি করে, যা সবার মাঝে উচ্ছ্বাসপূর্ণ আবহ নিয়ে আসে।

এবারের সাকরাইন উৎসবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের তত্ববধানে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তিনি ঢাকার ১০০ জন নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ১০০টি ঘুড়ি ও নাটাই উপহার দিয়েছেন স্ব স্ব এলাকায় সাকরাইন উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য। যা নিশ্চয় উৎসবের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে।

লেখক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা