kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

উত্তর জানুন: বিসিএস নিয়ে কার কী প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক   

৯ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:০৫ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



উত্তর জানুন: বিসিএস নিয়ে কার কী প্রশ্ন

মডেল : লিহু ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

৪৩তম বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রার্থীদের নানা রকম প্রশ্ন থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের প্রশ্নের জবাব খুঁজেছেন ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা রবিউল আলম লুইপা

আবেদনের যোগ্যতা, পাসের সাল ও বিষয়
প্রশ্ন : অ্যাপিয়ার্ড বা অবতীর্ণ প্রার্থী কারা? আমার অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা ৩০ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে শেষ হবে। সে ক্ষেত্রে আমাকে জানুয়ারির ৩১ তারিখে আবেদন করতে হবে, নাকি এর আগে করলেও হবে? আর অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট কখন লাগবে—আবেদনের সময়, নাকি আবেদনের পর?

উত্তর : যেসব প্রার্থীর অনার্স চতুর্থ বর্ষের সব পরীক্ষা বিসিএস আবেদনের শেষ তারিখের আগে (৩১ জানুয়ারি ২০২১) শেষ হবে, কিন্তু ফলাফল প্রকাশিত হবে না, তাঁদের অ্যাপিয়ার্ড বা অবতীর্ণ প্রার্থী বলা হয়। এসব প্রার্থীর ক্ষেত্রে আবেদন ফরমে পরীক্ষা শুরু ও শেষের তারিখ লিখতে হয় এবং প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষার সময় ‘বিসিএস আবেদনের শেষ তারিখের আগে সব পরীক্ষা শেষ হয়েছিল’ মর্মে প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হয়।

প্রশ্ন : তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস কোর্স) বা ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে কি বিসিএস দেওয়া যায়?

উত্তর : বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, এইচএসসি পাসের পর চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি (স্নাতক) থাকতে হবে। এ অবস্থায় আপনার সমাধান হচ্ছে, ডিগ্রি পাস কোর্সের পর দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স সম্পন্ন করা অথবা ডিপ্লোমার পর বিএসসি সম্পন্ন করা।

প্রশ্ন : আমি অন্য বিষয়ে অনার্স করে হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্স করলে কি শিক্ষা ক্যাডারে (প্রভাষক-হিসাববিজ্ঞান) আবেদন করতে পারব? সিজিপিএ যদি ভালো না হয়?

উত্তর : সব প্রফেশনাল ক্যাডারে আবেদন করার জন্য আপনাকে সেই বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন ফরমের শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনার্স ও মাস্টার্সের বিবরণ লিখলেই আপনার বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রফেশনাল ক্যাডারের তালিকা পাবেন।

সিজিপিএ ভালো হলে মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীকে বোর্ড ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে; কিন্তু এটি যে খুব বেশি প্রভাব ফেলে, তা নয়।

প্রশ্ন : অনার্সের চতুর্থ বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা ২০১৫ সালে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেশনজটের কারণে ২০১৬ সালে পরীক্ষা হয়েছে। আর ফল প্রকাশিত হয়েছে ২০১৭ সাল। আবেদনের সময় ‘পাসের সাল’ কোনটি দেব?

উত্তর : আপনার অনার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত বা ফল প্রকাশের সাল যা-ই হোক না কেন, আপনার অনার্স যে সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল (২০১৫ সাল), সেটিই আপনার পাসের বছর বলে বিবেচিত হবে। এ ধরনের ইস্যুতে কারো বিভ্রান্তি থাকলে সার্টিফিকেটে উল্লিখিত ‘পাসের সাল’ দেবেন।

ক্যাডার চয়েস ও নন-ক্যাডার
প্রশ্ন : ক্যাডার চয়েসের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র ক্যাডার কি পছন্দক্রমের মাঝামাঝিতে রাখতে পারব? প্রফেশনাল ক্যাডারের পর জেনারেল ক্যাডার কি দেওয়া যাবে?

উত্তর : পররাষ্ট্র ক্যাডার অনেক প্রার্থীরই পছন্দক্রমের প্রথমে থাকে, তবে খুব অল্পসংখ্যক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সুতরাং এই মেধাতালিকার প্রথম দিকে থাকা প্রার্থীদের মাধ্যমেই এ পদগুলো শেষ হয়ে যায়। তাই কোনো প্রার্থী প্রথমে অন্যান্য ক্যাডার দিয়ে পরে পররাষ্ট্র ক্যাডার পছন্দক্রমে রাখলে সেটি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। একইভাবে প্রফেশনাল ক্যাডারের চেয়ে সাধারণ ক্যাডারে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি হয়। তাই আপনি মেধাতালিকায় থাকলে আপনার প্রথম পছন্দ প্রফেশনাল ক্যাডারটিই পেয়ে যাবেন। পরের পছন্দক্রমের জেনারেল ক্যাডারগুলো সে ক্ষেত্রে কোনো কাজেই আসবে না। প্রফেশনাল ক্যাডার প্রথম পছন্দ হলে শুধু প্রফেশনাল ক্যাডারে আবেদন করাই ভালো। এতে ভাইভা বোর্ড আপনাকে প্রফেশনাল জ্ঞান দিয়ে মূল্যায়ন করতে চাইবে এবং পারফরম্যান্স ভালো হলে ভাইভায় অধিক নম্বর পেয়ে প্রতিযোগিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।

প্রশ্ন : আমি যদি শুধু টেকনিক্যাল কিংবা প্রফেশনাল ক্যাডারে আবেদন করি, তাহলে কি বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারের চাকরি পাব? কিংবা ধরুন, আমি উভয় ক্যাডারে পরীক্ষা দিয়ে টেকনিক্যালে অকৃতকার্য হলে এবং শুধু জেনারেল ক্যাডারে ভাইভা দিলে কি টেকনিক্যাল নন-ক্যাডারে সুপারিশ পাব?

উত্তর : আপনি জেনারেল/টেকনিক্যাল/উভয় ক্যাডার যেভাবেই আবেদন করুন না কেন, মেধাতালিকা অনুযায়ী নন-ক্যাডারে চাকরি পাবেন। যে নন-ক্যাডারে সুপারিশ করা হবে, সেটির নিয়োগবিধির শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার মিল থাকতে হবে। যেমন ধরুন, নন-ক্যাডারের তালিকায় থাকা সব প্রার্থীরই এনবিআরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, কিন্তু জেলা লাইব্রেরিয়ান পদে সুপারিশ পেতে হলে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে স্নাতক থাকতে হবে। সুতরাং এখানে অনার্স বিষয়টা মুখ্য, আপনি কোন ক্যাডারে আবেদন করেছিলেন, সেটি মুখ্য নয়।

প্রশ্ন : আমি পররাষ্ট্র ক্যাডার প্রথম চয়েস দিতে চাই, কিন্তু বৈশ্বিক জ্ঞান বা ইংরেজিতে দক্ষ না হলে পররাষ্ট্র কিংবা পরের চয়েসের ক্যাডারগুলো পেতে কি সমস্যা হবে?

উত্তর : যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী ক্যাডার চয়েস দেওয়া উচিত। প্রার্থী যে ক্যাডারই প্রথম চয়েস দিক, ভাইভা বোর্ড সে ক্যাডারের জন্য তাকে যোগ্য মনে করলে ২০০-এর মধ্যে ১৮০-১৯০ যেমন দিতে পারে, অযোগ্য মনে করলে ৮০-৯০ দিয়েও ফেল করিয়ে দিতে পারে (১০০-তে পাস)। আর ভাইভায় ফেল মানে লিখিত পরীক্ষায় যত ভালোই করেন, আপনি বাদ পড়বেন এবং ফার্স্ট চয়েসের ভুলের কারণে সব ক্যাডারই আপনার হাতছাড়া হতে পারে! এখানে উদাহরণ হিসেবে পররাষ্ট্রের কথা বললাম, অন্য ক্যাডারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।

মেডিক্যাল ও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট
প্রশ্ন : আমার একটি সাধারণ রোগ (যেমন—মাইগ্রেন অথবা চর্মরোগ) আছে। আমি কি মেডিক্যাল টেস্টে বাদ পড়ব? সে ক্ষেত্রে আমি কি পুলিশ ক্যাডার চয়েস দিতে পারব?

উত্তর : বিসিএসের সব ক্যাডারের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বুকের এক্স-রে, দৃষ্টিশক্তি ও ইউরিন পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার রিপোর্টে খারাপ কিছু না এলে এবং দৃশ্যত কোনো সমস্যা না থাকলে মেডিক্যাল পরীক্ষায় আপনার বাদ পড়ার কথা না। আপনার মেডিক্যাল বা পুলিশ ভেরিফিকেশনে যদি নেতিবাচক রিপোর্ট আসে এবং পরবর্তী সময়ে যদি শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক কিংবা ইতিবাচক পুলিশ রিপোর্ট আসে, তাহলে আপনি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন।

ভুল তথ্য ও সংশোধন
প্রশ্ন : বিসিএস প্রিলিমিনারি ফরম পূরণের সময় কয়েকটি জায়গায় ভুল করেছি। এখন আমি কী করব?

উত্তর : এখানে সমাধান দুই ভাবে—১. এখনো যদি আবেদন ফি জমা দেওয়া না হয়, তাহলে আবার নতুন করে ফরম পূরণ করুন। তখন নতুন ইউজার আইডি পেলে সেটি ব্যবহার করে টাকা জমা দেবেন। ৭২ ঘণ্টা পর প্রথম ইউজার আইডি ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

২. এরই মধ্যে টাকা জমা দিয়ে থাকলে আবেদন ফরমে দেওয়া ভুল তথ্য আপনি সংশোধন করতে পারবেন না, শুধু সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃপক্ষ সংশোধন করতে পারবে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনের নিচতলায় হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করে আবেদনের সময় শেষ হওয়ার আগেই ভুল সংশোধনের আবেদন করুন।

প্রশ্ন : আমার এসএসসি সার্টিফিকেটে মায়ের নামের বানান ভুল এসেছে। তবে এইচএসসি, অনার্স সার্টিফিকেট এবং মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের বানান ঠিক আছে। আমি কি এখন এ অবস্থায় আবেদন করতে পারব? নাকি আগে বানান ঠিক করাতে হবে?

উত্তর : আপনি আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফরমে যেসব তথ্য দেবেন, পরবর্তী সময়ে লিখিত অথবা মৌখিক পরীক্ষার আগে সার্টিফিকেটগুলোর হার্ড কপি চাওয়া হবে এবং আবেদনের তথ্যের সঙ্গে সার্টিফিকেট মিলিয়ে দেখা হবে। সার্টিফিকেটের হার্ড কপি জমা দেওয়ার আগেই ভুলগুলো সংশোধন করে ফেলতে হবে।

অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা বিসিএসে অংশ নিতে পারবেন!

অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, উপ-উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
৩০ নভেম্বর ২০২০ তারিখে প্রকাশিত ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, অ্যাপিয়ার্ড হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ৩১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখের মধ্যে চতুর্থ বর্ষের সব পরীক্ষা শেষ হতে হবে। এরপর ৮ ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের অনার্স শেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কিন্তু করোনার কারণে সব পরীক্ষা পশষ করা হয়নি, সেসব পরীক্ষার্থীরা অ্যাপিয়ার্ড হিসেবে ৪৩তম বিসিএসে অংশ নিতে পারবেন। এ নিয়ে অনেক প্রার্থীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য হলো—
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আশা করছি, পিএসসি শিগগিরই আবেদনের সময় বাড়াবে। এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের অনার্স শেষ বর্ষের স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর পরীক্ষা ১৭ জানুয়ারি ২০২১ থেকে শুরু হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে পরীক্ষা শেষ করার পর প্রার্থীরা (পিএসসির সময়সীমা অনুযায়ী) আবেদন করতে পারবেন। তবে এই মুহূর্তে আবেদন করতে পারবেন না, কারণ এখনো পরীক্ষা শেষ হয়নি। অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার্থীদের বিসিএসের সুযোগ করে দিতেই এই করোনার মধ্যেও বাড়তি বরাদ্দ (স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা ও মাস্ক সরবরাহ বাবদ) দিয়ে এত দ্রুত পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে; তা না হলে আরো পরে পরীক্ষা নেওয়া হতো।

লক্ষ্য করুন
বিসিএস নিয়ে আপনাদের আরো কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে আমরা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা