kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

গদ্যে-পদ্যে বঙ্গবন্ধু : পারভীন রেজার অনন্য কথামালা

রায়হান উল্লাহ   

১১ ডিসেম্বর, ২০২০ ১০:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গদ্যে-পদ্যে বঙ্গবন্ধু : পারভীন রেজার অনন্য কথামালা

কথা ও কবিতায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ব্যক্ত করেছেন কথাসাহিত্যিক পারভীন রেজা। বলা চলে- গদ্যে-পদ্যে প্রিয় মুজিবকে আমরা পাই পারভীন রেজার শক্তিশালী লেখমালায়। 

কিছু অনন্য পঙক্তি ও শব্দের বুননে বঙ্গবন্ধুকে পাই ‘কথা ও কবিতায় বঙ্গবন্ধু’ বইটিতে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এ বইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রদীপ। মোমিন উদ্দীন খালেদের চমৎকার প্রচ্ছদে ১১২ পৃষ্ঠার বইটিতে আমরা পাই কবি পারভীন রেজার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ২৩টি কবিতা। প্রবন্ধকার কিংবা কথাকার পারভীন রেজার বঙ্গবন্ধুর সামগ্রিক জীবন তুলে ধরা ১২টি গদ্যও পাই বইটিতে। অনন্য কবি ও কথাসাহিত্যিক পারভীন রেজার অনবদ্য আরেকটি শ্রম পাই বইটিতে। বঙ্গবন্ধুর পুরো জীবনকে তিনি গ্রন্থনা করেছেন ‘একনজরে বঙ্গবন্ধু’ রচনায়। 

সহজেই বইটি একটি প্রামাণ্য দলিল হতে পারে। যতটুকু জানি, কবিতা ও গল্পে বঙ্গবন্ধুকে খুব বেশি বলা হয়নি। তা-ও কবি ও গদ্যকার একজনই। অনন্য কাজটি করেছেন পারভীন রেজা। সহজাতই তিনি প্রকৃষ্ট মুজিবপ্রেমিক। দেশকে যিনি এনে দিয়েছেন তিনি সব বাঙালির প্রিয় হওয়ার কথা। বঙ্গবন্ধু তেমনই; এবং একজন। তাঁকে নিয়ে লেখা গর্বের। গর্বিত হওয়ার মতো কাজ করেছেন পারভীন রেজা। 

প্রসংগত তাঁর স্বামীও মুজিব ও তাঁর পরিবার এবং সর্বোপরি দেশকে ভালোবাসার মানুষ, একজন সফল মানুষ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী তিনি। তারই সহধর্মিণী যখন দেশের একজন সূর্যসন্তানকে কবিতায় ধরেন, তা গুরুত্বপূর্ণ না হয়ে যেতে পারে না। মুজিবকে ধারণ করেছেন বলেই কাজটি সহজ হয়েছে। 

আর এত সব হয়েছে একজন লেখকের আশ্রয়ে। লেখক পারভীন রেজা বরাবরই ঈর্ষণীয়। তার জীবনী দেখলে তা সহজেই বোঝা যায়। বইটির ফ্লাপে লেখক পরিচিতিতে বলা আছে- ‘সাহিত্যের প্রতি শৈশব থেকেই কবি পারভীন রেজার প্রবল আগ্রহের উন্মেষ ঘটে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় খুলনার দৈনিক অনির্বাণ এবং দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায়। যাপিত জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ, হাসি, কান্নার সমন্বিত অনুভূতি হৃদয়পটে লালন করে, নিভৃতে এঁকে চলেন কবিতার বর্ণিল প্রান্তর। ছায়া সুনিবিড় নিসর্গের মায়া ও স্বদেশের প্রতি নির্জলা মমতা সত্তায় বহন করে, জীবনকে ভালোবেসে জীবনের সান্নিধ্যে এক নির্মল প্রবাহ নিয়ে সদর্পে এগিয়ে চলে তাঁর সাহিত্য সাধনা।’

একজন কবির সাহিত্য সাধনাই পাই আমরা ‘কথা ও কবিতায় বঙ্গবন্ধু’ বইটিতে। তা একজন ব্যক্তি ও চিরনায়ক মুজিবকে নিয়ে। এ লেখকের মহানুভবতা। কবি পারভীন রেজা নিয়মিত দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন প্রবন্ধ, কলাম ও সাহিত্য লেখেন। পারভীন রেজার প্রকাশিত গ্রন্থ দশটিরও বেশি। এর মাঝে অধিকাংশই কাব্যগ্রন্থ। 

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়নি এখনো। ‘কথা ও কবিতায় বঙ্গবন্ধু’ বইটিতে বঙ্গবন্ধুর কিছু বিরল চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যে চিত্রগুলো দেশের স্বাধীনতার অনন্য দলিলও। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর জীবনকে ছবির দ্বারা ঘটনাপ্রবাহ আকারে সাজানো হয়েছে। এতে যেমন আছেন যুবক বঙ্গবন্ধু; তেমনি আছেন বিদ্রোহী নজরুলের পরশে বঙ্গবন্ধু। একজন শিল্পপ্রেমিক। নজরুলকে বাংলায় বরণকারী মহান নেতা। বইটিতে পারভীন রেজা মহান মুজিবকেই নানা বাঁকে দেখিয়েছেন। একজন শিল্পী, মুজিবপ্রেমিক পারভীন রেজার সাফল্য কামনা করি। হয়তো আগামীতে তাঁর আরো মহান কাজ পাব বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। 

‘কথা ও কবিতায় বঙ্গবন্ধু’ বইটিতে আমরা পারভীন রেজার কিছু হৃদয়গ্রাহী কথায় দাগ কাটতে পারি। কথাগুলো বোঝায় পারভীন রেজা শক্তিমান কথাকার। আরো এগিয়ে একজন মুজিবীয় যোদ্ধা; সর্বোপরি দেশপ্রেমিক। মুজিবপ্রেম দেশপ্রেমের বড় অনুষঙ্গ। 

বইটির ১৪ পৃষ্ঠায় সাহসী খোকা কবিতার শেষ দুটি লাইন এমন- ‘দিনে দিনে হলেন জাতির পিতা/পরাধীন জাতি পেল স্বাধীনতা।’ মনোমুগ্ধকর ইতিহাস কবি বলে গেলেন দুই লাইনে, অল্প কথায়। কিন্তু এর ভাব যেন একটি ইতিহাস।
 
বইটির ৬২ পৃষ্ঠায় খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু নামের কবিতায় পারভীন রেজা গোপালগঞ্জের খোকা কিভাবে একজন মুজিব-বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন, তাই বর্ণনা করেছেন ছন্দে। তিনটি লাইন উদ্ধৃত করা যেতে পারে— ‘প্রথম প্রতিবাদ উচ্চারিত হলো/স্কুলের ভাঙা ছাদে.../ পানিঝরা উৎকণ্ঠার আবেগে।’ পাঠক ধরতে পারছেন একজন কবি কিভাবে কবিতায় ইতিহাস বলেন। পারভীন রেজা এখানেই অতুলনীয়।

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কথা মুজিবকে নিয়ে সমান্তরাল বয় পারভীন রেজার সূক্ষ্ম ও মার্জিত দৃষ্টিতে। কবি ও কথাসাহিত্যিক পারভীন রেজা সার্থক। পাঠকের জন্য এক মলাটে একটি বই নিয়ে এসেছেন, যাতে গদ্য-পদ্য দুই ধরনের ভাবই মিলবে। আসলে অনেক ধরনের ভাব মিলবে; একজন মুজিবকে পূর্ণাঙ্গ মিলবে।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা