kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজে ম্যুরাল ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’

অনলাইন ডেস্ক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৭:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার ভাসানটেক সরকারি কলেজে ম্যুরাল ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’

বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন আন্দোলন, সংগ্রাম করে গেছেন। তারই নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের বিজয় লাভ পর্যন্ত বাংলার গণমানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রতিটি লড়াইয়ে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল অগ্রণী, ছিলেন সর্বদা সোচ্চার। পরবর্তী প্রজন্মকে দেশের স্বাধীনতার কথা জানাতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ‘রাজনীতির কবি’ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত করার প্রয়াস স্মারক  ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ ম্যুরাল। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত হয়েছে ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ শিরোনামে এই ম্যুরাল। কলেজে মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট স্মৃতিচিহ্ন উপস্থাপনের, স্বাদেশিক চেতনার স্মারক স্থাপনের স্বপ্ন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি দিয়ে ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। ১৮ ফুট দীর্ঘ স্মারক ম্যুরালটি কলেজের শহীদ মিনারের সামনে স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি ম্যুরালটির উদ্বোধন করেন ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক)। মুজিব জন্মশতবর্ষে গৃহীত কলেজের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম উদ্যোগ ছিল- বঙ্গবন্ধুর স্মারক স্মৃতি হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে ম্যুরাল নির্মাণ। 

ম্যুরালটির স্থপতি খ্যাতনামা ভাস্কর চৌধুরী জাহানারা পারভীন। ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুনের পরিকল্পনা, নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধানে ম্যুরাল নির্মাণ কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান রফিকের নেতৃত্বে সদস্যবৃন্দ।

খ্যাতিমান অভিনেতা ও সংসদ সদস্য ফারুক ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার চেতনাকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন জানালেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। ছাত্রছাত্রীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষে এই ম্যুরালটি নির্মিত হয়েছে। ম্যুরালে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোও চিহিৃত হরা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ বির্নিমাণে শিক্ষার্থীদের সঠিক জ্ঞানোর্জনের কোন বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশের জন্মের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই ম্যুরালে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের বিজয়কাল পর্যন্ত জাতির জন্য বিভিন্ন গুরুত্ববহ সময় চিত্রিত করা হয়েছে।’ যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ বাঙালির হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। সঠিক ইতিহাসের চর্চাকে গতিশীল করতে ম্যুরাল স্থাপনের আর একটি উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধিৎসুদের চেতনা বিকাশে ম্যুরালটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আমাদের আশাবাদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা