kalerkantho

সোমবার । ২৯ চৈত্র ১৪২৭। ১২ এপ্রিল ২০২১। ২৮ শাবান ১৪৪২

বাংলাদেশি কারিগুরুদের সম্মাননা জানাতে ‘ব্রিটিশ কারি ডে’

উদযাপন করছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারারস

অনলাইন ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৮:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশি কারিগুরুদের সম্মাননা জানাতে ‘ব্রিটিশ কারি ডে’

৬০ এবং ৭০ দশকে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়া প্রতিভাবান মানুষের হাত ধরেই ব্রিটিশ কুলিনারি শিল্পের ভিত্তি রচনা হয়েছিল। এই শিল্পের নেপথ্য কারিগর বাংলাদেশি এসব কারিগুরুর সাফল্য উদযাপন ও তাঁদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে ব্রিটিশ কারি ডে। 

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারারস অ্যাসোসিয়েশন, দ্য গিল্ড অব বাংলাদেশি রেস্টুরেস্টস এবং স্পাইস বিজনেস ম্যাগাজিনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হচ্ছে। কভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে কারি দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে রেস্টুরেন্টগুলো এদিন তাদের সেরা ডিশটি তৈরি করবেন এবং সেগুলো বিভিন্ন হাসপাতাল, মসজিদ, গির্জা এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্কুলের শিশু ও কভিড মোকাবেলায় নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে বিতরণ করে দেবেন। এ লক্ষ্যে দেশসেরা শেফ ও নন্দিত রাঁধুনিদের তৈরি বেশ কিছু রেসিপি তুলে ধরা হয়েছে ব্রিটিশ কারি ডে’র নিজস্ব ওয়েবসাইটে (www.britishcurryday.org)। সেখানে ভিজিট করলেই যে কেউ জানতে পারবেন এ বিষয়ে।

এ বছর ব্রিটিশ কারি ডে’র প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘ব্যাক দ্য ভাজি’ যার মধ্য দিয়ে মূলত স্মরণ করা হবে সেই সত্যটি যে, জনপ্রিয় তথাকথিত ‘ইন্ডিয়ান’ ডিশগুলো (যেমন, অনিয়ন ভাজি এবং চিকেন টিক্কা মাসালা) প্রকৃতপক্ষে তৈরি হয়েছিল ব্রিটেনের বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টকর্মী এবং শেফদের হাত ধরেই। ব্রিটিশ রানির আনুকূল্য ব্রিটিশ কুলিনারি শিল্পের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য তুলে ধরতে এখন থেকে প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর ‘ব্রিটিশ কারি ডে’ হিসেবে পালিত হবে। এর ফলে হাজার হাজার পাউন্ডের তহবিল গঠন করাও সম্ভব হবে যা কাজে লাগবে স্থানীয়, জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক যে কোনো সংকটে। 

তিল তিল করে গৌরবমণ্ডিত এই শিল্প গড়ে তুলেছেন প্রায় অর্ধশতক আগে বাংলাদেশ থেকে সে দেশে যাওয়া আমাদের পূর্বপুরুষরাই। তারা সেখানে গিয়েছিলেন নিজেদের আর্থিক উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে এবং একপর্যায়ে দুই দেশের স্বাদবিজ্ঞান ও রন্ধনকৌশলের অনন্য ফিউশন ঘটানোর মধ্য দিয়ে ভিত্তি রচনা করেন এ শিল্পের।

ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডের জনক এবং স্পাইস বিজনেস ম্যাগাজিনের প্রকাশক এনাম আলি এমবিই বলেন, দুঃখজনকভাবে প্রথম প্রজন্মের কারি-গুরুদের অনেকেই আমাদের ছেড়ে গেছেন। তাছাড়া মহামারির প্রেক্ষিতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন আরো অনেকেই। ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে দূর জন্মভূমি ছেড়ে একদিন তারা এসে পা রেখেছিলেন এই অচিন দেশে। পরবর্তীতে অদম্য মনোবল আর অমানুষিক পরিশ্রমের সুবাদেই তারা আজকের এই সুবিশাল শিল্পকাঠামো গড়ে তুলতে সমর্থ হন। বাংলাদেশের জন্য তাদের অবদান অপরিসীম। প্রথম প্রজন্মের এই মানুষগুলোর জীবনে সুখ-বিলাসিতা ছিল না, সবই তারা ত্যাগ করেছেন পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য। তাদের সেই ত্যাগেরই ফসল এসব কারি-গুরুর উদ্ভাবিত ‘চিকেন টিক্কা মাসালা’ আজ ব্রিটেনের জাতীয় ডিশ। 

ব্রিটেনে ১২ হাজারের বেশি রেস্টুরেন্ট নিয়ে গড়ে ওঠা ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারারস অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশ কারি ডে উদযাপনে সম্মতি ও উৎসাহ দিয়েছেন ব্রিটিশ রানি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা