kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নিয়োগ পরীক্ষার জন্য কম্পিউটার ও আইসিটির প্রস্তুতি

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ১০:২৬ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



নিয়োগ পরীক্ষার জন্য কম্পিউটার ও আইসিটির প্রস্তুতি

মডেল : আজাজুল ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

প্রায় সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কম্পিউটার ও আইসিটির ওপর প্রশ্ন করা হয়। এ ছাড়া কিছু পদে তাত্ত্বিক পরীক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার ও আইসিটির ওপর ব্যাবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়। ব্যাংকসহ বেসরকারি পর্যায়ের নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতেও এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন থাকে। তাই যে নিয়োগ পরীক্ষাতেই অংশ নিন না কেন, এ বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি থাকতেই হবে। চাকরির জন্য কম্পিউটার ও আইসিটিতে কিভাবে কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া যায়, এ ব্যাপারে ৩৮তম বিসিএস অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত) প্রণয় কুমার পাল-এর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কম্পিউটার ও আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে কোন ধরনের বিষয়বস্তু থেকে প্রশ্ন আসবে না আসবে সেটা নির্ভর করছে কোন পদের পরীক্ষা হচ্ছে—সেটার ওপর। পদ ও যোগ্যতা অনুযায়ী সাধারণ ও উচ্চতর প্রশ্ন আসতে পারে। এখানে মূলত সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হবে, যাতে প্রার্থীরা যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষার জন্য এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন। বিসিএস পরীক্ষায় কম্পিউটার ও আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) থেকে ১৫টি প্রশ্ন থাকে, মান ১৫। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষায়ও ৫-১০টি প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার যে সিলেবাস দিয়েছে, সেটার পাশাপাশি আরো কিছু বিষয়বস্তু পড়লে কম্পিউটার ও আইসিটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে যাবে। যেসব বিষয়বস্তুর ওপর দখল থাকলে কম্পিউটার ও আইসিটির লিখিত বা এমসিকিউ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি হয়ে যাবে—

► কম্পিউটার
কম্পিউটার পেরিফেরালস (কি-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ওসিআর, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি), কম্পিউটারের কাঠামোগত ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন প্রসেসর, সিপিইউ, র‌্যাম, রম ইত্যাদি; দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার (কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা ইত্যাদি); বাইনারি বা দ্বিমিক সংখ্যা পদ্ধতি; অপারেটিং সিস্টেমস (মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, লিনাক্স, উবুন্টু ইত্যাদি); কম্পিউটারের ইতিহাস ও প্রকারভেদ; কম্পিউটার প্রগ্রাম; প্রগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ (সি প্লাস, জাভা, এইচটিএমএল, পিএইচপি ইত্যাদি); ডাটাবেইস সিস্টেম (এসকিউএল, ওরাকল, এক্সেল ইত্যাদি); ভাইরাস, অ্যান্টি-ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, ফায়ারওয়াল ইত্যাদি।

► তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
ই-কমার্স; সেলুলার ডাটা নেটওয়ার্ক (জিএসএম/টুজি, থ্রিজি, ফোরজি ইত্যাদি), কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (ল্যান, ম্যান, ওয়াই-ফাই, ওয়াইম্যাক্স ইত্যাদি), ইন্টারনেট, ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েব, দৈনন্দিন জীবনে তথ্য-প্রযুক্তি, স্মার্টফোন, নিত্যপ্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ও প্রযুক্তি পণ্য, ই-মেইল, ফ্যাক্স, ক্লায়েন্ট-সার্ভার ম্যানেজমেন্ট, মোবাইল প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ, তথ্য-প্রযুক্তির বড় প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও তাদের সেবা (গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ইত্যাদি), ক্লাউড কম্পিউটিং; সোশ্যাল নেটওয়ার্ক মিডিয়া (ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি); রোবটিকস, সাইবার ক্রাইম।

এসব তাত্ত্বিক বিষয় পড়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের এসংক্রান্ত খবরও জানা থাকতে হবে। যেমন—দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু হওয়া ডিজিটাল সেন্টার সংশ্লিষ্ট তথ্য, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কত ইত্যাদি।

বিসিএসেহ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষা ও ব্যাংক পরীক্ষার বিগত প্রশ্নের কম্পিউটার ও আইসিটি অংশের বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখলে স্বচ্ছ ধারণা হবে।

তাত্ত্বিক প্রস্তুতি যেভাবে
কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে শুধু মুখস্থ করে তথ্যগুলো মাথায় রাখতে পারবেন না। এ বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে ব্যাবহারিক জ্ঞানের সম্পর্ক আছে। ধরুন, আপনি ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসের নাম মুখস্থ করছেন। বলুন তো, কি-বোর্ড ইনপুট, না আউটপুট ডিভাইস? মাউস অনেকেই চেনেন বা দেখেছেন। এটা একটু মাথা খাটালেই আন্দাজ করা যায়। কারণ কি-বোর্ডের মাধ্যমে যা লিখছেন বা ইনপুট দিচ্ছেন, সেটা কম্পিউটারে যায়, কম্পিউটার থেকে নির্দেশনা কি-বোর্ডে আসে না। সুতরাং এটা ইনপুট ডিভাইস। তাই মূল কথা হলো, বুঝে মাথা খাটিয়ে পড়তে হবে। আজকাল ইন্টারনেট  সহজলভ্য হওয়ায় কোথাও কিছু বুঝতে সমস্যা হলে গুগলে সার্চ দিয়েও দেখতে পারেন।

কোন কোন বই পড়বেন
► নবম-দশম শ্রেণির ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বোর্ড বইটি চাকরির প্রস্তুতির জন্য খুবই দরকারি। এ বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো করে বুঝে বুঝে পড়লে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি অনেকাংশে হয়ে যাবে।

► এ ছাড়া আরো ভালো বা উচ্চতর প্রস্তুতির জন্য একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানের আইসিটি বইটি পড়তে পারেন। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়ার সময় রঙিন কালির কলম দিয়ে চিহ্নিত করে রাখতে পারেন।

তাহলে পরে রিভিশনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

মডেল টেস্টভিত্তিক প্রস্তুতি
► ভালো প্রস্তুতির জন্য নিজেকে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ জন্য মডেল টেস্টের বিকল্প নেই। বাজারে বিভিন্ন মডেল টেস্টের বই পাওয়া যায়, সেখান থেকে এই অংশের মডেল টেস্ট দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করে নিতে পারেন।

► আরো ভালো প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির তথ্য-প্রযুক্তি নৈর্ব্যক্তিক যে বইগুলো বাজারে পাওয়া যায়, সেখান থেকেও অনুশীলন করতে পারেন। মোট কথা, নৈর্ব্যক্তিক ফরম্যাটে আপনার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন এবং আপনার দুর্বল জায়গাগুলো শনাক্ত করে আরো ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

আপডেট থাকুন
► তথ্য-প্রযুক্তির অনেক তথ্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন হচ্ছে। এ জন্য দৈনিক পত্রিকাগুলোর তথ্য-প্রযুক্তির পাতায় চোখ রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নোট করে রাখতে পারেন।

ব্যাবহারিক প্রস্তুতির কার্যকর কৌশল
আগেই বলেছি, কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তির পুরো বিষয়টাই ব্যাবহারিক। এমনকি চাকরি পাওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে আপনার ব্যাবহারিক দক্ষতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

যেসব ব্যাবহারিক দক্ষতা বা জ্ঞান থাকা দরকার—

► দাপ্তরিক কাজে লেখালেখির জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা এমএস ওয়ার্ড সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার। বাংলা ও ইংরেজি উভয় হরফে টাইপিংয়ে দক্ষ হতে হবে। একই সঙ্গে টাইপিং স্পিডও বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রতিদিনই কিছু না কিছু টাইপ করুন। টাইপের সময় কোনো বই বা পত্রিকা দেখে টাইপ করতে পারেন। এভাবে নিয়মিত চেষ্টা করলে টাইপিংয়ে দক্ষতা চলে আসবে। কি-বোর্ডে যথাযথভাবে আঙুল রেখে কিভাবে দ্রুত টাইপ করা যায়, এ ব্যাপারে অনলাইনে সার্চ দিলে টিউটরিয়ালও পেয়ে যাবেন।

► হিসাব ও ডাটা অ্যানালিসিসের কাজে মাইক্রোসফট এক্সেল জানা থাকতে হবে। ইউটিউবে এক্সেল শেখার জন্য টিউটরিয়াল ভিডিও পর্ব আকারে পাওয়া যায়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত বিভিন্ন হিসাব ও একাডেমিক কাজেও চর্চা জারি রাখতে এক্সেল ব্যবহার করতে পারেন। মাসিক আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন এক্সেলে গ্রাফ-চার্ট আকারে তৈরি করার চর্চা করুন।

► বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেজেন্টেশনে অনেকেই পাওয়ার পয়েন্টে কাজ করেছেন। দাপ্তরিক কাজে উপস্থাপনার জন্য এ সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়। যাঁরা এর কাজ জানেন না, টিউটরিয়াল দেখে বা পরিচিতদের সাহায্যে এখনই শিখে ফেলুন।

► ই-মেইল পাঠানো বা চেক করার কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার জানা থাকতে হবে। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ব্রাউজিংয়ে দক্ষতা থাকা তো আবশ্যিকই বলা যায়।

অন্যান্য দক্ষতা
এ ছাড়া বেসিক গ্রাফিক ডিজাইন বর্তমানে প্রায় সব কাজেই লাগে। এ জন্য ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর শিখতে পারেন। পাশাপাশি স্ক্যানার ব্যবহারের নিয়মও শিখে রাখতে পারেন। এসব দক্ষতা বিভিন্ন চাকরির ব্যাবহারিক পরীক্ষায় আপনাকে যোগ্য প্রমাণ করবে।

যেখানে শিখবেন
ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও টিউটরিয়াল পাবেন। ঘরে বসেই এগুলো শিখতে পারবেন। অনলাইনে এসব বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কোর্সের সুযোগ আছে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি (৩, ৬ ও ১২ মাস) কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স করানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা