kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

একশনএইড আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা

‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকারের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ১৭:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকারের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’

সমাজের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া নারী সহিংসতা বন্ধে শুধু সরকারের ওপর দায়িত্ব দিয়ে দিলেই হবে না। প্রয়োজন সকলের আন্তরিক সহযোগিতা। কারণ সকলের সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণ ছাড়া সরকারের একার পক্ষে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার সকালে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত “সহিংসতা মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে” শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন অতিথিরা। আর এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২০-এর উদ্বোধন করে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতাগুলোর চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয় এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা হয়। ওয়েবিনারে একশনএইডের বিভিন্ন সময়ের জরিপের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বলা হয়, ২০১৭ সালে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় অপরাধ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করতে নারীরা অনিরাপদ বোধ করেন। বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ নারী মনে করেন অপরাধীকে দোষারোপ না করে বরং নারীকেই দোষারোপ করা হয়। আর ৫৭ শতাংশ নারী মনে করেন অপরাধকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় না। 

২০১৮ সালে একশনএইড পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা যায়, নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি হয় ঘরোয়া সহিংসতার মাধম্যে। জরিপে বলা হয়, নারীর প্রতি সহিংসতাবিষয়ক দায়েরকৃত মামলায় প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে দুই জনই ঘরোয়া সহিংসতার শিকার।

ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্যে একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড সদস্য এম নাসিমুল হাই বলেন, বর্তমান সময়ে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনা আমাদের বিবেককে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। আমরা আশা করবো এই ধরনের ঘটনা যেনো ভবিষ্যতে আর না ঘটে ।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অতীতে সিটি করপোরেশনে নারী ও শিশুবিষয়ক কোনো পৃথক কমিটি ছিল না, আমরা নতুন করে এই বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করেছি। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য আর কী কী করা যায় তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি এবং আমরা চাই সবাই আমাদের সহযোগিতা করবেন। 

তিনি আরো বলেন, মহাখালীতে নারীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। আমরা আগামী জানুয়ারি থেকে ৪৬ হাজার লাইট রাস্তায় লাগানোর  পরিকল্পনা নিয়েছি যাতে নগরবাসী স্বচ্ছ ও আলোকিত ঢাকায় চলাচল করতে পারে। আর আগামী মাসেই সবাই মিলে সবার ঢাকা নামে নতুন এপ আসছে যেখানে নগরবাসী খুব সহজেই যেকোনো ধরনের অভিযোগ প্রদান করতে পারবেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টোরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য পাঁচটি ফেক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ- প্রথমত সরকারের সকল পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা, দ্বিতীয়ত জনপ্রতনিধিদের অংশগ্রহণ ও  জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানো, তৃতীয়ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান, চতুর্থত সুশীল সমাজের অন্তর্ভুক্তীকরণ যারা সমাজের কথাগুলোকে তোলে ধরেন এবং পঞ্চমত শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ও সামাজে প্রভাবশালী ব্যক্তির সক্রিয় ভূমিকা পালন। 

ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়ার প্রবণতা দুঃখজনক উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সামাজিক মাইন্ড সেট যদি পরিবর্তন না করা যায় তাহলে কেবল আইন দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার নারীকে সামাজিক নিরাপত্তায় বলয়ের মধ্যে আনতে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল এ আসা কেসগুলোকে রেকর্ড রাখতে হবে এবং মনিটরং ম্যাকানিজম তৈরি করতে হবে। 

সমাপনী বক্তব্যে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, আমরা চাই আর কোনো নারী যাতে নির্যাতনের শিকার না হয়। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সকলের পাশাপাশি কর্পোরেট সেক্টরকও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। 

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জ করে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দূরীকরণের দিবস থেকে শুরু করে ১০ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পর্যস্ত ‘১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ ক্যাম্পেইনটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদযাপন করা হয়। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ১৮৭টি দেশের ৬০০০ এরও বেশি সংস্থা এই প্রচারে অংশ নিয়ে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা