kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

খন্দকার মুনীরুজ্জামান : একজন গ্রহণযোগ্য সম্পাদকের বিদায়

আজিজুল পারভেজ   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ১২:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খন্দকার মুনীরুজ্জামান : একজন গ্রহণযোগ্য সম্পাদকের বিদায়

খন্দকার মুনীরুজ্জামান

খুব ইচ্ছে ছিল সংবাদ এর মাধ্যমে ঢাকার দৈনিকে কাজ শুরু করবো। ২০০০ সালের দিকে একদিন একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে গেলেন পত্রিকাটির সহকারী সম্পাদক মুনীরুজ্জামানের কাছে। বললেন, ওকে কাজে লাগান। মুনীর ভাই বললেন, কাজে তো লাগাতে পারি। কিন্তু মাস শেষে কিছু টাকা তো দিতে হবে। টাকা তো দিতে পারবো না। যারা আছে তাদেরই তো টাকা দিতে পারছি না। আমাকে বললেন, কিছু দিন অপেক্ষা করেন, অবস্থা বদলালে ডাকবো।

আমি অনেক দিন অপেক্ষা করলাম। অবস্থা তো আর বদলায় না। আর কতো অপেক্ষা...এক সময় ঢুকে পড়ি ভোরের কাগজে। কাজ করা হলো না সংবাদে। কাজ করা হলো না মুনীর ভাইয়ের সঙ্গে। 

যায়যায়দিন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাপ্তাহিকে এবং কলামে মুনীর ভাই তথ্যনির্ভর এবং যুক্তিপূর্ণ লেখা পড়ে ওনার প্রতি গভীর ভক্তি তৈরি হয়েছিল। তাছাড়া সংবাদের উপ সম্পাদকীয় বিভাগে যখন কাজ করতেন তখন কয়েকটি লেখা দিয়েছিলাম, যত্নসহকারে ছেপেছিলেন। অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, উদার চিন্তার এই মানুষটির ব্যক্তিত্ব সব সময়ই আকর্ষণ করতো। টেলিভিশনের টকশোতে এই মানুষটিকে দেখলেই রিমোটকন্ট্রোলটা হাত থেকে রেখে দিতাম। তাঁর সময়োচিত প্রাজ্ঞ বক্তব্য মনযোগ দিয়ে শুনতাম। যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য যে অল্প কয়জন সাংবাদিক সর্বজনের কাজে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি তার অন্যতম। আমার ধারণা তিনি লেখায় কিংবা বক্তব্যে যাদের কঠোর সমালোচনা করতেন তারাও তাঁকে সমীহ করতেন। 
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ নিয়ে একটা কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, ১৫ আগস্টের পর কেন হয়নি সম্মিলিত প্রতিবাদ এ নিয়ে তাঁর একটি বিশ্লেষণ আছে। খুব নির্মহ বিশ্লেষণ। যা জানা আমার জন্য খুবই প্রয়োজন। পুরো লেখাটিই প্রয়োজন। কীভাবে পাই? ভাবছিলাম একদিন অফিসে গিয়ে উনার কাছেই চাইবো। করোনাপরিস্থিতির কারণে যাই যাচ্ছি করে আর যাওয়া হলো না। এর মধ্যে খবর এলো করোনা আক্রান্ত হয়ে মুনীর ভাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে রফিক ভাইয়ের (সংবাদের বার্তা সম্পাদক) কাছে ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম, মুনীর ভাইয়ের অবস্থা। বললেন, এখনো অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালেই আছেন। মনে মনে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছি, প্রিয় মানুষটির রোগমুক্তির জন্য। কিন্তু কোনো কিছুই কাজে আসলো না। 

মুনীরুজ্জামান মুনীর ভাই আজ ভোরে ৭টা ২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনা পরবতী নানা জটিলতায় তিনি মারা যান। 

মুনীরুজ্জামান জীবনের প্রথম দিকে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি রণাঙ্গনের সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা। বজলুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বপালন করে আসছিলেন। 

নিষ্ঠাবান এই সম্পাদকের অকাল প্রয়াণ এ দেশের সংবাদিকতা জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। অনন্তের যাত্রায় ভালো থাকুন মুনীর ভাই। সবাই যাকে ভালো বলে সৃষ্টিকর্তাও নিশ্চয়ই তাঁকে ভালোবাসবেন। 

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, কালের কণ্ঠ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা