kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সোসাইটির ওয়েবিনার

দ্বিজাতি-তত্ত্বের ৭৪ বছরের প্রেক্ষাপট ও তিন দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ২১:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্বিজাতি-তত্ত্বের ৭৪ বছরের প্রেক্ষাপট ও তিন দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

প্রথমবারের মতো অক্সফোর্ডের তিনটি সোসাইটির আয়োজনে অনলাইনে একটি বিশেষ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার যৌথ আয়োজক ছিল অক্সফোর্ড বাংলাদেশ সোসাইটি, অক্সফোর্ড ইন্ডিয়া সোসাইটি ও অক্সফোর্ড পাকিস্তান সোসাইটি। সম্প্রতি অক্সফোর্ডে পিএইচডি অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান সাজিদের উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা দ্বিজাতি-তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির ৭৪ বছরের প্রেক্ষাপট, ফলাফল, গবেষণা, দেশবিভাগের কারণ ও তার পরবর্তী বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচক প্যানেলে বিশেষ প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। এছাড়া বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রাইভেট সেক্টরের প্রধান বিশেষজ্ঞ ড. আখতার মাহমুদের সঞ্চালনায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক ফয়সাল দেভজী, লাহোরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ইয়াকুব খান বাঙ্গাশ ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক হারম্নন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যই দেশভাগ চেয়েছিলেন উল্লেখ করে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রের শুধুমাত্র একটি বৈশিষ্ট্য থাকতে পারেনা। দেশবিভাগের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে স্থায়ী সংখ্যাগুরু ও স্থায়ী সংখ্যালঘুত্বের বিষয়টি। অখণ্ড ভারতে একটি অংশে মুসলিমরা এবং অন্য অংশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদের বঞ্চিত মনে করত। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগও হয়ে উঠেছিল ধর্মভিত্তিক স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ার।” এটিকেই তিনি দেশবিভাগের যৌক্তিকতা মনে করেন।

প্রফেসর ফয়সাল দেভজী দেশবিভাগের বিষয়টিকে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটি অনেকটা পিতৃপ্রদত্ত সম্পত্তি দুই ভাইয়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মতো। দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘাত এড়াতে তাদের আলাদা করে বন্ধুত্ব তৈরী করে দেওয়ার মতোই হিন্দু ও মুসলিমদের আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল।”

দেভজীর মতে, জিন্নাহ ইউরোপীয়ান সোস্যাল কনট্রাক্টের বিষয়টিই দ্বিজাতিতত্ত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

আলোচনায় ড. হারুন-অর-রশিদ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিভক্তির কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, “১৯৪৬-এর লাহোর প্রস্তাবে বাঙালি জাতির স্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়। পশ্চিম পাকিস্তান বাঙালিদের সংস্কৃতি ও স্বার্থকে অবহেলা করার কারণেই ১৯৫৫ সালে পৃথকভাবে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বার্থ আদায়ে আওয়ামী লীগের উত্থান ঘটে।”

সভায় ড. ইয়াকুব খান বাঙ্গাশ বলেন, “জিন্নাহ ইসলামিক রাষ্ট্র চেয়েছিলেন; কিন্তু তার চিন্তাভাবনা ছিল আধুনিক।’’
বাঙ্গাশের মতে, পাকিস্তানে সংসদ ব্যতীত আর কোথাও পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের আলোচনা হতো না। ঢাকার নবাব খাজা নাজিমুদ্দিন ও তত্কালীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ কখনো বাঙালি জনগণের স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করেননি। তারা নিজেরাও ছিলেন উর্দুভাষী। সে কারণেই পরবর্তীতে বাঙালিরা বঞ্চিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে পৃথক হয়েছে।”

আলোচনায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি ও ১৯৬৫ এর যুদ্ধের কথা পুনরুধ্বনিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা