kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা

মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ১৪:৪৯ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা

বৈচিত্র্যপূর্ণ আমাদের দেশ। আমাদের বৈচিত্র্যতা সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক, প্রথাগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, জাতিগত, জন্মগত ও অন্যান্য। নানা কারণে সমাজের মানুষ বৈষম্যের শিকার। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-মূর্খ, অগ্রসর-অনগ্রসর, ধর্ম-গোত্র, রাজনৈতিক ধারা-মতবাদসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমরা দেখছি বৈষম্যের বিচিত্র রূপ। বৈষম্যের বিরোধ শুধু মানুষের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নয়। বৈষম্য মানবীয় আত্মার একপ্রকার পরাজয়। সমাজের সক্ষম মানুষ কর্তৃক অসহায় মানুষেরা প্রতিনিয়ত পরাজিত হচ্ছে। সমৃদ্ধির বলয়ে প্রবেশ করার সম্পর্ক কি তাদের আছে? যারা সমাজের অবজ্ঞার শিকার। তারাই আজ সমাজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত।

‘প্রান্তিক’ এবং ‘প্রান্তিকতা’ বিষয়ে আমাদের অনেকেরই ধারণা অস্পষ্ট। বিভিন্ন মানদণ্ডে মানুষের ‘প্রান্তিকতা’ বিবেচনা করা যায়। আর্থ-সামাজিক বিবেচনায় ‘প্রান্তিকতা’ হচ্ছে মানুষের চরম নিম্নাবস্থা। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে তাদের কোনো অর্জন নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি পান করা, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সঞ্চয়, মাথাপিছু আয়সহ প্রভৃতি সূচকে তাদের অবস্থা শোচনীয়। অবস্থাগত কারণে সমাজ তাদের প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা প্রদর্শন করছে। এই প্রান্তিকতার মাঝে যাদের অবস্থান তারাই ‘প্রান্তিক’ মানুষ ।

কেমন চলছে দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবন? শহর এবং গ্রামের অনেক প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে। বিশেষত, নাপিত, ধোপা, দিনমজুর, সিএনজিচালক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কৃষি শ্রমিকসহ অনেকের সঙ্গে। এই করোনাকালে তাদের অনেকের সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ হচ্ছে। শুনছি তাদের দুর্দশার কথা। আবার অনেকে মোবাইল ফোনে আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির আবদার করেছে। ব্যক্তিগতভাবে সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি অনেককেই। অনেক প্রতিবন্ধী ও অসহায় ব্যক্তির কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। অনাহারে বা অর্ধাহারে চলছে প্রান্তিক মানুষের জীবন। তারা এখন কর্মহীন। সংজ্ঞাহীন তারা। ব্যক্তিক উন্নয়ন নয় এবং সমৃদ্ধিও নয়। শুধু খেয়ে বেঁচে থাকাই তাদের জীবনের একমাত্র ব্রত। 

বহুল জনতা ও জাতি-গোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশ। এখানে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় দীর্ঘকাল থেকে অবহেলিত এবং অনগ্রসর। দেশের দলিত ও হরিজন সম্প্রদায় চরমভাবে অবহেলিত। তারা নিজ পেশার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সমাজের সেবা করছে। তারা আমাদের সেবাশ্রমিক। যেমন : জেলে, কামার, কুমার, মুচি, ঋষি, বেহারা, নাপিত, ধোপা. হাজাম, নিকারি, পাটানি, তেলি, ডোম, বাঁশফোর, তেলেগু ইত্যাদি। এসব সম্প্রদায় সমাজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। 

দেশে আছে ‘বেদে’ সম্প্রদায়। যারা যাযাবর শ্রেণি। মালবেদে, সাপুড়িয়া, বাজিকর, টোলা, রিরসিকারী, সান্দার, গাইন বেদেসহ আটটি গোত্রে বিভক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। তাদের পেশা তাবিজ বিক্রি, সর্পদর্শন চিকিত্সা, সাপের খেলা দেখানো, আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যসেবা, ভেষজ ওষুধ বিক্রি, কবিরাজি, বানর খেলা, জাদু ইত্যাদি। এই করোনাকালে এসব সম্প্রদায়ের মানুষেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন। এই দুর্যোগে তারা করুণ জীবন যাপন করছে।

হিজড়া সম্প্রদায় মানববৈচিত্র্যের একটি অন্যতম দিক এবং জনসংখ্যার অতি ক্ষুদ্রতম অংশ। তারা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত। তারা সমাজের তৃতীয় লিঙ্গ বা ট্রান্সজেন্ডার। চিকিত্সাশাস্ত্র মতে, ক্রমোজমগত ত্রুটির কারণে তারা যৌন প্রতিবন্ধীতার শিকার এবং লিঙ্গ সংকটে ভোগে। সাধারণ পরিবারে তাদের জন্ম। জন্মজটিলতায় আক্রান্ত এই জনগোষ্ঠী নিজ পরিবার থেকে বিতাড়িত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের জরিপ মতে, দেশে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১০ হাজার। এই জনগোষ্ঠী পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম অবজ্ঞা এবং বৈষম্যের শিকার।

জনবৈচিত্র্যের এই দেশে বৃহত্তম বাঙালি জনগোষ্ঠী ছাড়াও ৪৫টির বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। পাহাড় সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। তারা বেশির ভাগই ভূমিহীন, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এসব প্রান্তিক মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করে। বৃহত্তর ময়মনসিংহে—গারো, কোচ, বানাই, ঢালু, হাদি ও বর্মণ জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে—চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চংগ্যা, ম্রো, লুসাই, বোম, পাংখো জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। উত্তর বঙ্গে—সাঁওতাল, মুণ্ডা, মাহাতো, ওঁরাং, মালো, পাহান, সিং, মাহালি, পাহাড়িয়া বসবাস করছে। কক্সবাজারে রাখাইন এবং সিলেটে গারো ও খাসিয়া উপজাতি বসবাস করছে। বর্তমান করোনাকালে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পিছিয়ে পড়া ৯ পেশার ৫৩ লাখ প্রান্তিক মানুষের সংখ্যা নিরূপণ করেছে। তাদের মধ্যে বেদে ৬৯ হাজার ২১ জন, কুমার এক লাখ ৫১ হাজার ৫৯৮ জন, জেলে ৩১ লাখ ৯ হাজার ৯৯৩ জন, কামার এক লাখ ৩৮ হাজার ১৯৩ জন, স্বর্ণকার এক লাখ ৮৯ হাজার ৯৬২ জন, বাঁশ-বেতের কাজ তিন লাখ ৩২ হাজার ৯৯২ জন, কাঠমিস্ত্রি সাত লাখ ২৫ হাজার ৬০১ জন, মিষ্টি প্রস্তুতকারক দুই লাখ ২০ হাজার ৭০০ জন এবং নাপিত তিন লাখ ৩০ হাজার ৪৮০ জন। আবার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশে মোট বস্তির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৪৩টি। যেখানে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ২২ লাখ ৩২ হাজার। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে সারা দেশের অসহায় মানুষগুলো বস্তিবাসী হচ্ছে। এসব মানুষ প্রান্তিক জীবন যাপন করছে। মানুষ হিসেবে তারা মৌলিক অধিকারবঞ্চিত। জীবন প্রত্যাশা বলতে তাদের কিছুই নেই। 

দেশের প্রান্তিক মানুষগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থা কেমন? তাদের নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন? এ বিষয়ে গবেষণা বা সমীক্ষা খুবই সীমিত। মানবাধিকার সংগঠন ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ গত ২০১৬ সালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনচিত্র নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। এই গবেষণায় সাত বিভাগের ১৮টি জেলার দুই হাজার খানা (পরিবার) থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, প্রান্তিক মানুষগুলো যৌন সহিংসতা, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, সম্পত্তির অধিকার হনন, মানবপাচার, কম দামে জিনিস বিক্রিসহ নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। প্রকাশিত জরিপে বিভিন্ন তথ্য ফুটে উঠেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৩৮.৭১ শতাংশ পরিবারের নিজস্ব কোনো জমি নেই। ৩৫.৮৯ শতাংশ প্রান্তিক মানুষকে বছরজুড়ে খাদ্য সংকটে পড়তে হয়। মাত্র ৬.৫৮ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ফরমাল সেক্টরে কাজে নিয়োজিত। ২১.৯ শতাংশ পরিবারের সদস্যারা যেকোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। ৩৩.৬৭ শতাংশ প্রতিবন্ধী পরিবার সহিংসতার শিকার। দুঃখজনক বিষয়, সমাজের মূলধারার মানুষ দ্বারা ৩২.৩ শতাংশ প্রান্তিক মানুষ মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারিতে দেশের মানুষের টিকে থাকার সম্পর্ক নয়। করোনাকালীন লকডাউনে দেশের বিরূপ চিত্র ফুটে উঠেছে। যেমন—দেশের মানুষ কর্মহীন হয়েছে, চাকরিচ্যুত হয়েছে, বেতন বন্ধ হয়েছে, শহর ছেড়েছে, ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, প্রান্তিক কৃষক খামারি নিঃস্ব হয়েছে ইত্যাদি। লকডাউন পরিস্থিতিতে প্রান্তিক মানুষদের অবস্থা চরম পর্যায়ে। সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ‘কোস্ট ট্রাস্ট’ উপকূলের ছয় জেলার ২৪০টি দরিদ্র, নারীপ্রধান ও নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর জরিপ চালায়। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, লকডাউনে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, খাদ্য সংকটে পড়েছে ৫৭ শতাংশ পরিবার, মহাজন থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছে ৬৩ শতাংশ পরিবার, সঞ্চয় ভেঙেছে ৪৮ শতাংশ পরিবার এবং গরু-ছাগল বিক্রি করেছে ৩৫ শতাংশ পরিবার।
 
বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা আমাদের স্বাধীনতার মহান অঙ্গীকার। সংবিধানে নাগরিকের মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুস্পষ্ট ঘোষণা আছে। সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে মানুষের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার বিষয়ে উল্লেখ আছে। তা ছাড়া অনুচ্ছেদ ১৯-এ সুযোগের সমতা, অনুচ্ছেদ ২৭-এ আইনের দৃষ্টিতে নাগরিকের সমান অধিকার এবং অনুচ্ছেদ ২৮-এ ধর্ম-গোষ্ঠী-বর্ণ-নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে নাগরিকের প্রতি বৈষম্যহীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবিধানিক নির্দেশনা আছে। জাতিসংঘ ‘মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র-১৯৪৮’-এর ২২ নম্বর ধারায় ‘সমাজের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেরই সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার’ আছে মর্মে ঘোষণা আছে। বর্তমান বৈশ্বয়িক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ‘এজডিজি-২০১৫’-এর অন্যতম লক্ষ্য No One left Behind অর্থাত্ কাউকে পেছনে রেখে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। 

বর্তমান সমাজকল্যাণবান্ধব সরকার দেশের অসহায় ও বিপন্ন মানুষের তরে সামাজিক নিরাপত্তাবলয়কে সুদৃঢ় করছে দিন দিন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের অসহায়, নিগৃহীত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, ক্যাপিটেশন গ্রান্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় এক কোটির বেশি ব্যক্তিকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে সম্পৃক্ত করেছে। বিশেষত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তথা হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর এবং ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি, ব্যক্তিগত অনুদান ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। তা ছাড়া মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় (ভিজিডি ও মাতৃত্বকালীন ভাতা) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় (ভিজিএফ, খোলাবাজারে চাল বিক্রি, কাবিটা) প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। 

পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় প্রান্তিক মানুষগুলোর টিকে থাকা এক মহাচ্যালেঞ্জ। ধনিক শ্রেণির প্রভাব ও আধুনিক সভ্যতার কবলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আজ নিষ্পেষিত। জীবনসংগ্রামে জয়ী হওয়ার প্রচেষ্টায় তারা ব্যর্থ হয় বারবার। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় তারা নিগৃহীত। অসহায় প্রান্তিক মানুষের নিঃশর্ত পরাজয়ে ক্রমেই গড়ে উঠছে অভিজাত সমাজ। এই আভিজাত্যের মাঝেই বিধ্বস্ত মানবতা। মহাকালে এ আভিজাত্যই হবে বিত্তবানদের পরকালীন মুক্তির মহাঅন্তরায়। বৈষম্য নয়। বরং সমৃদ্ধ জীবনের অংশীদার হোক সবাই। জয় হোক অসহায় প্রান্তিক মানুষদের।

লেখক : সহকারী পরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয়, চট্টগ্রাম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা