kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নিরোগ করতে প্রাণীদের জিন বদল, বাড়বে মাংসের মান

অনলাইন ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৩:০৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিরোগ করতে প্রাণীদের জিন বদল, বাড়বে মাংসের মান

পরিবর্তিত জিনের ফলে গরু, ছাগল থেকে শুরু করে শুকরের এমন স্পার্ম তৈরি করবেন বিজ্ঞানিরা, যা রোগের সঙ্গে লড়বে এবং মাংসের গুণগত মান অনেক ভালো হবে৷ যেসব প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাদের ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন হবে বলে৷

জানা গেছে, জিন পরিবর্তনকারী প্রযুক্তির নাম ক্রিসপর-ক্যাস ৯৷ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গবেষকরা এটা বানিয়েছেন৷ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন শুক্রাণু তৈরি করা যাবে; যা গরু, ছাগল, শুকরকে অনেকটাই নিরোগ করবে এবং মাংসের গুণগত মান বেড়ে যাবে৷ ফলে পশুপালকরা স্বাস্থ্যবান পশু পালন করতে পারবেন এবং তাদের লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির রিপ্রোডাকটিভ বায়োলজিস্ট জন ওটলি এ ব্যাপারে জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদনে দক্ষতা বাড়বে৷ বিশ্বে খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে যে সমস্যা আছে, তা কমে যাবে। নতুন প্রজাতির প্রাণী কম পানি পান করবে, কম খাবার খাবে, তাদের অনেক কম অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে৷

এর আগে প্রাণীদের জিনে পরিবর্তন ঘটানো নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে৷ নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হওয়া স্বাভাবিক৷ অনেক সমালোচক প্রাণীর জিনে কোনো ধরনের পরিবর্তন করার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন৷ তারা মনে করেন, প্রাণীর জিন পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করা হবে৷ যার ফল ভয়ঙ্কর হতে পারে৷

এদিকে গবেষকদের দাবি, প্রাণীদের জিনে তারা এমন পরিবর্তন করছেন, যা খুব স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে৷ ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রশ্ন নেই৷ তবে বর্তমানে এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিধিনিষেধ আছে৷ ফুড চেইনের ক্ষেত্রে জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সারোগেট পিতা তৈরি করা যায় না৷ তাদের বাচ্চাদেরও জিনগত পরিবর্তন ঘটানো যায় না৷

ওটলির টিম নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা করছে, তা হলো- সারোগেট পিতারা নিজেরা সন্তান উৎপাদন করতে পারবে না৷ তবে তাদের শুক্রাণু প্রতিস্থাপন করে গরু, শুকর, ছাগলের বাচ্চা উৎপাদন করা যাবে৷ তারা এই কাজে সফলও হয়েছেন৷

যুক্তরাজ্যের এডিনবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের রসলিন ইন্সটিটিউটের বিশেষজ্ঞ ব্রুস হোয়াইটল বলেছেন, বোঝা যাচ্ছে, প্রযুক্তি নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই৷ এটা ব্যবহার করা যেতে পারে৷ এখন দেখতে হবে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা আমাদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাবার জোগাতে পারি কি না৷ 

সূত্র : ডয়চেভেলে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা