kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৩০ বছর ধরে তিন কিলোমিটার লম্বা খাল একাই কাটলেন তিনি!

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩০ বছর ধরে তিন কিলোমিটার লম্বা খাল একাই কাটলেন তিনি!

অসাধ্য সাধন করে ফেলেছেন ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলার এক কৃষক। তাঁর গ্রামে কৃষিকাজের জন্য পানির বড় সঙ্কট। তাই তিনি পণ করেছিলেন, গ্রামে পানি আনবেনই। যেমন কথা তেমন কাজ, হাতে নিলেন কোদাল। তাই দিয়ে একা একাই টানা ৩০ বছর মাটি কাটলেন। মাটি কেটে তৈরি করলেন তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল! সেই খাল দিয়ে এখন পানি পৌঁছেছে তার গ্রাম কোঠিওয়ালায়।

অসাধ্য সাধন করা ওই ব্যক্তির নাম লাউঙ্গি ভূঁইয়া। এখন বয়সের ভারে অনেকটাই নুইয়ে পড়েছেন তিনি। তবে তার এত বছরের কষ্টের ফল ভোগ করছেন এখন ওই গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামের কাছের পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বৃষ্টির পানি যেন নদী না গিয়ে সরাসরি গ্রামে পৌঁছাতে পারে সেজন্য বছরের পর বছর ধরে খাল কেটে গেছেন তিনি। ফলে এখন কৃষিকাজে পানির সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে গেছে।

লাউঙ্গি ভুঁইয়া ছোট থেকেই দেখে এসেছেন যে গ্রামে সব মৌসুমেই পানির অভাব থাকে। সে কারণেই চাষের কাজ ঠিক ভাবে করতে পারেন না কৃষকরা। প্রতিদিনের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের পাশাপাশি পানির সমস্যা ছিল প্রকট। দীর্ঘদিনের এই সমস্যায় বিপদে দিন কাটাচ্ছিলেন গ্রামবাসীরা। তাই সমাধানের পথ খোঁজার দায়িত্ব একার কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন লাউঙ্গি। কোদাল নিয়ে নেমে পড়েছিলেন খাল কাটতে।

লাউঙ্গির কথায়, 'গত ৩০ বছর ধরে প্রতিদিন গ্রামের কাছের জঙ্গলে চলে যেতাম আমি। সঙ্গে থাকত আমার গবাদি পশুর দল। ওদের জমিতে ছেড়ে দেওয়ার পর শুরু হতো আমার খাল কাটার কাজ। একমনে কোদাল দিয়ে মাটি কাটতে থাকতাম। গ্রামের কেউ আমার এই কাজে সহযোগিতা করেনি। অনেকে তো পানির সমস্যার জন্য শহরেই চলে গেছে। তবে ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে পারিনি আমি।'

গয়া থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের কোঠিলওয়া গ্রামের চারপাশ ঘন জঙ্গলে ঘেরা। চারদিকে রয়েছে পাহাড়। কথিত আছে এই গ্রামে নাকি মাওবাদীদের আশ্রয় দেওয়া হয়। চাষবাস আর পশুপালনই এখানকার গ্রামবাসীদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু পানির অভাবে সেই চাষের কাজেও নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল।

লাউঙ্গি বলেন, 'বর্ষার মৌসুমে দেখা যায় বৃষ্টির পানি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নদীতে নামছে। এর থেকেই মাথায় এসেছিল যে একটা খাল যদি কাটা যায় তাহলে পানির সমস্যা মেটানো যাবে। ফলে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।'

স্থানীয় এক বাসিন্দা পাত্তি মাঝি জানিয়েছেন, ৩০ বছর ধরে একক দক্ষতায় ওই খাল কাটার কাজ করছেন বৃদ্ধ লাউঙ্গি। আজ খাল কাটা হয়ে যাওয়াতে শেষ পর্যন্ত সুবিধা পাবে সাধারণ মানুষ। পানির সমস্যা মিটবে। কৃষিজমিতে সেচের পানির অভাবও মিটবে।

সূত্র : নিউজ ১৮।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা