kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ে চাকরির ভবিষ্যৎ

অনলাইন ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৩৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ে চাকরির ভবিষ্যৎ

মনসুরুল আজিজ, করপোরেট ও ব্র্যান্ডিং সেক্টরে কাজ করছেন ১৫ বছরেরও বেশি সময়। বর্তমানে তিনি ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন ‘নগদ’-এর হেড অব ব্র্যান্ডিং হিসেবে কর্মরত। ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং সেক্টরে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন খালিদ সাইফুল্লাহ

মার্কেটিংয়ে সফল হতে প্রথমত মার্কেটে বা আশপাশে কী হচ্ছে, সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। কমনসেন্স থাকতে হবে। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা থাকতে হবে।

বর্তমানে ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং ও জনসংযোগ (পিআর) বিভাগে চাকরির সুযোগ কেমন?
যেকোনো সেবা চালু রাখতে হলে মার্কেটিং অবশ্যই করতে হবে, তাই চাকরির সুযোগ প্রচুর রয়েছে। কোনো দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে হলে মার্কেটিং ও জনসংযোগ লাগবেই। সব সেক্টরেই ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ে চাকরির ভবিষ্যৎ খুব ভালো।

করোনাভাইরাসের মতো কঠিন সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কেটিং বাজেট কমাচ্ছে, এতে এই সেক্টরে কেমন প্রভাব পড়বে?
করোনার কারণে খারাপ সময় যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠানই খরচ কমানোর জন্য মার্কেটিং বাজেট কমাচ্ছে; কিন্তু কয়েকটি বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে—যখনই অর্থনীতির একটি খারাপ সময় যায়, তখন যেসব ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে, তারাই লম্বা সময়ে ৮ থেকে ১০ গুণ ফল পায়।

ব্র্যান্ডিং ও জনসংযোগ বিভাগে চাকরির জন্য সফল হতে হলে কী কী গুণ থাকতে হবে?
মার্কেটিং কোনো ‘রকেট সায়েন্স’ না। মার্কেটিংয়ে সফল হতে হলে মার্কেটিং বিভাগেই পড়াশোনা করতে হবে, এমনও না। প্রথমত মার্কেটে বা আশপাশে কী হচ্ছে,  সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। কমনসেন্স থাকতে হবে। ক্রেতার মূল সমস্যা কী, কিভাবে সেটার সমাধান করা যাবে, কম্পানির প্রচারের মাধ্যমে কিভাবে ক্রেতার নিকট পৌঁছানো যায়—এ বিষয়গুলোতে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরা খুব জরুরী। এই পেশায় অবশ্যই সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা থাকতে হবে। এই দক্ষতাগুলো থাকলে প্রার্থী যে বিভাগেই পড়াশোনা করুক, এ পেশায় সফল হতে পারবেন।

এই সেক্টরে ভালো করার জন্য যোগাযোগ দক্ষতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ব্র্যান্ডিং বা জনসংযোগের মূল কাজই হলো যোগাযোগ করা; ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ, টিমের সঙ্গে যোগাযোগ, অংশীদার বা পার্টনারদের সঙ্গে যোগাযোগ, মার্কেটিং আইডিয়া টপ ম্যানেজমেন্টের কাছে উপস্থাপন করা, গণমাধ্যমে উপস্থিতি, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ইত্যাদি। ব্র্যান্ডিংয়ে যোগাযোগ দক্ষতা অনেকটা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই। তাই যোগাযোগ দক্ষতা ভালো না হলে এই সেক্টরে সফল হওয়া অসম্ভব।

যাঁরা ব্র্যান্ডিং ও জনসংযোগে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাঁদের শিক্ষাজীবন থেকেই কিভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
শিক্ষাজীবন থেকেই যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং শেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বা ইভেন্টে অংশ নেওয়ার চেয়ে ক্লাব বা সংগঠন চালানো বা প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজন করা বেশি কার্যকর।

কোনো পণ্য বা সেবাকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কী কী প্রয়োজন?
কোনো প্রতিষ্ঠান বা সেবাকে সফল ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ক্রেতাদের পরিষ্কারভাবে বোঝাতে হবে ওই ব্র্যান্ডটি কী কাজ করে; ক্রেতার জীবনের কোন সমস্যাটি তারা সমাধান করছে। নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধানের এই বিষয়টি সবাইকে জানানো—এটিই ব্র্যান্ডিং; সেটি ফেসবুক, টিভি, সংবাদপত্র বা যে মাধ্যমেই হোক।

নগদে কী কী ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে?
নগদ দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল মোবাইল ফিন্যানশিয়াল প্রতিষ্ঠান, যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য নগদ খুব ভালো পছন্দ হতে পারে। মার্কেটিং-ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি নগদে ফিন্যান্স, মানবসম্পদ, বিক্রয় সব বিভাগেই চাকরির ভালো সুযোগ আছে।

চাকরি ছাড়াও একজন কিভাবে নগদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন বা এজেন্ট হতে পারেন?
নগদে চাকরির পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউটর ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ আছে। বর্তমানে সারা দেশে আমাদের দুই লাখ এজেন্ট আছেন, যাঁদের আমরা ‘উদ্যোক্তা’ বলি, আমরা চেষ্টা করি তাঁদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার। কেউ চাইলে তাঁর এলাকার ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে পারেন।

আপনার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন
বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা বিভিন্ন এলাকায় কাটলেও কৈশোর থেকে আমি ঢাকায়ই থাকি। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০১ সালে এসএসসি এবং ২০০৩ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করি। এরপর বিবিএ করি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করি ২০০৮ সালে। রেজাল্ট বেশ ভালো ছিল, সিজিপিএ ৩.৯৫ (৪.০০-এর মধ্যে) এবং চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল পাই।

ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং সেক্টরে আপনার ক্যারিয়ারের বিস্তারিত জানতে চাই...
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষ থেকেই একটি কমিউনিকেশন এজেন্সিতে খণ্ডকালীন কাজ করি। চাকরিজীবন শুরু হয় বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের মাধ্যমে। এরপর মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকে চাকরি করি। আমার কাজ সাধারণ ব্যাংকারদের মতো ছিল না। মার্কেট রিসার্চ নিয়েই বেশি কাজ করেছি। এ দুটি ব্যাংকে আমার কাজ ছিল বাংলাদেশের কোন এলাকায় ব্যাংকের পরবর্তী শাখা চালু করতে হবে বা ব্যাংকের পরবর্তী সেবা কী হবে, সেটা বের করা।

এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয়েছে। কোন জেলার অর্থনীতি কিভাবে কাজ করে, এটা গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে। রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করি। রবির পর যাই স্টার্টআপ ইনকিউবেশন সেন্টার ‘তরু’তে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে কাজ করছি নগদে। নগদের ফাউন্ডিং টিমের অংশ ছিলাম। এ ছাড়া পাশাপাশি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা