kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

পোস্টার-ব্যানারবিহীন এক যুবলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ১৪:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পোস্টার-ব্যানারবিহীন এক যুবলীগ নেতা

রাত পোহালেই ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। এই দিনটিতে জাতির জনক বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল হায়েনারা। শোক দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী সাধারণত নেতাকর্মীদের ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু এবং ওনার পরিবারের ছবির চেয়ে নেতাদের ছবিগুলো বড় বড় করে টানানো হয়। সেই পোস্টার-ব্যানার এলাকার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, সড়ক এবং মহাসড়কে সাঁটানো হয়। নিজেকে প্রচার করতেই যেন ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠেন নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ শোক দিবস পালন করার নামে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে চাঁদা ওঠানো হয় লাখ লাখ টাকা। সেই চাঁদার টাকায় নিজেদের মধ্যে হয় ভাগ-বাটোয়ারা। এমন চিত্র দেখা যায় বাংলাদেশের অনেক এলাকায়। কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখা যায় গাজীপুরে এক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার ক্ষেত্রে। এমন নেতার নিজের এলাকায় নেই কোনো পোস্টার নেই কোনো ব্যানার। 

এমনটা যে এবারের জাতীয় শোক দিবসে ঘটছে তা নয়। তিনি নিজের ছবি দিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো পোস্টার করেননি। নিজের প্রচার-প্রচারণার চেয়ে শুধু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেই অসহায় মানুষের পাশে থেকছেন। দরিদ্র অনাহারী, এতিম প্রতিবন্ধীদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন। নিজের খামারের মাছ, গরুর দুধ অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি আকরাম হোসেন বাদশা। ২৩ বছর ধরে আমেরিকার শিকাগোতে বিলাসী জীবনযাপন শেষে মাটির টানে পরিবার নিয়ে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুপ্রেমী বাদশা দেশে ফিরে শ্রীপুরের প্রহলাদপুর নিজ গ্রামে মাছ এবং গরুর খামার করেছেন। খামার থেকে আয়ের টাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। 
 
ছবিতে দেখা যাচ্ছে শোক দিবস উপলক্ষে আকরাম হোসেন বাদশা  খাবার তুলে দিচ্ছেন এতিমদের প্লেটে প্লেটে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গাজীপুরের তিন শতাধিক এতিম ছাত্রদের মাঝে বিশেষ খাবার বিতরণ করেছেন যুবলীগ নেতা আকরাম হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে জেলার রাজবাড়ী ইউনিয়নের দারুল ইনসাফ মাদ্রাসায় তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এ খাবার বিতরণ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে তাঁর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের স্মরণে প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া এবং পরে খাবার বিতরণ করা হয়।
 
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকেও অতি সাধারণ জীবনযাপন করা মানুষটির এই বিষয়টি দৃষ্টান্ত অবশ্যই। নিজের খামারের খাসির মাংস তিনি বিলিয়ে দেন এতিমদের মধ্যে। তারা একবেলা খেয়ে জাতির জনকের জন্য দোয়া করবে যুবলীগ নেতা বাদশার এটাই প্রত্যাশা। শুধু শোক দিবসে নয়, যেখানেই দরিদ্র এবং অসহায় মানুষের হাহাকার সেখানেই সাধ্যমত পাশে থাকার চেষ্টা করেন তিনি।  

পোস্টার-ব্যানার করতে যে ব্যয় হয়, তা দিয়ে অনেক মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেয়া যায়। বরং এ ধরনের কাজে মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। আমাদের শোক যদি আমাদের মানবিক করে তোলে, আমাদের দেশপ্রেমিক করে তোলে, আমাদের ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শেখায়, তবেই কেবল সুন্দর একটি দেশ পেতে পারি আমরা। 

পোস্টার-ব্যানার দিয়ে পাড়া-মহল্লায় নিজেকে জাহির করা নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে নীরবে মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। তাহলেই সোনার বাংলা হয়ে গড়ে উঠবে বাংলাদেশ, বিশ্বাস আকরাম হোসেন বাদশার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা