kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

উদঘাটিত হলো ‘স্টোনহেঞ্জ’র পাথরগুলোর উৎসের রহস্য

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ জুলাই, ২০২০ ২০:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উদঘাটিত হলো ‘স্টোনহেঞ্জ’র পাথরগুলোর উৎসের রহস্য

ঘটনা খুবই রহস্যজনক। যুক্তরাজ্যের ওয়াল্টশায়ার কাউন্টিতে বিশাল সমতল ভূমিতে খাড়া পাথরের তৈরি এক বিস্ময়কর স্থাপনা রয়েছে। এটি ‘স্টোনহেঞ্জ’ নামে পরিচিত। 'সভ্যতার ইতিহাসে এই রকম স্থাপনা আমরা আরো দেখেছি, এইটা নতুন না।' এই রকম কথা আপনি বলতেই পারেন। কিন্তু রহস্য হচ্ছে এই সমতল ভূমিতে পাথর কোথা থেকে আসলো? বলবেন, ‘এটাতে রহস্যের কী আছে? মানুষ নিয়ে এসেছে এইসব পাথর।' তাতো বটেই মানুষইতো আনবে। তবে জেনে অবাক হবেন যে এটা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন স্থাপনা। প্রায় চারহাজার বছর আগে তৈরি হয় এই স্থাপনা।

বিশাল এই পাথরখণ্ডগুলো কোথায় থেকে, কিভাবে নিয়ে আসা হয়েছে এটা একটা বড় প্রশ্ন। তারচেয়েও বড় প্রশ্ন, এই স্থাপনার উদ্দেশ্য কী? আর কারাই বা বানিয়েছে? যারাই বানাক, স্টোনহেঞ্জ বানানোর ক্ষেত্রে মানা হয়েছে জ্যামিতিক নিয়ম। প্রায় ১৩ ফুট উচ্চতার ধূসর বর্ণের পাথরগুলোকে বিন্যস্ত করা হয়েছে জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্যে।

এখন আপনাকে বিস্মিত করার জন্য নতুন তথ্য দেবো। তথ্যটা পাওয়া গেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে। এই তথ্য জানার পর কিছুটাও হলেও অমীমাংসিত অধ্যায়ের রহস্যের জট খুলবে। স্টোনহেঞ্জের সর্সেন পাথরের উৎস নিয়ে রহস্যটির সমাধান করা হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল, ৬০ বছর পর ফিরে পাওয়া সাইটের একটি অংশ ব্যবহার করে কয়েক দশক পুরনো রহস্যটি উন্মোচন করেছেন।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, রহস্যময় পাথরগুলো যুক্তরাজ্যের ওয়াল্টশায়ার কাউন্টির মারলবোরোগ থেকে আনা হয়। ওই জায়গাটি সাইটটির ১৫ মাইল (২৫ কিলোমিটার) উত্তরে। তবে তারা বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নয়। বলা হচ্ছে, ওয়াল্টশায়ার কাউন্টির যেকোনো জায়গা থেকে আনা হয়ে থাকতে পারে এই পাথরগুলো। তবে আশপাশের কোনো জায়গায় থেকেও আনা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের দাবি।

গবেষকরা স্টোনহেঞ্জের সব সর্সেনের এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স পরীক্ষা করেছিলেন। তাতে দেখা যায়, সবগুলোতে অনুরূপ রসায়নের উপস্থিতি রযেছে। এরপরে গবেষকরা নরফোক থেকে ডেভন পর্যন্ত সর্সেন পাথরগুলোকে নিয়ে অধ্যয়ন করেন। এই পাথরগুলোর রাসায়নিক সংমিশ্রণ আর নতুন করে পাওয়া যাওয়া পাথরটির রসায়নের সঙ্গে তুলনা করেন। এতে মিল পাওয়া যায় পাথরগুলোর উৎসের।

ইংল্যান্ডের ব্রাইটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড নাস ওই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, নবপ্রস্তরযুগীয় অতীতকে বোঝার জন্য একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানকে কাজে লাগানো সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ। অবশেষে প্রত্নতাত্ত্বিকরা বহু শতাব্দী ধরে বিতর্ক করে আসছেন এমন একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল।  ভূ-রাসায়নিক পরীক্ষা করে স্টোনহেঞ্জ সারসেন্সের উৎস অঞ্চল নির্ধারণ করতে আমারা সক্ষম হয়েছি।

সূত্র: বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা