kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

নির্মমতার করোনাকাল কেঁটে আসুক নতুন ভোর

রাইসুল উদ্দিন সৈকত   

২৬ জুলাই, ২০২০ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্মমতার করোনাকাল কেঁটে আসুক নতুন ভোর

করোনাকালে সারাদেশে আষাঢ়ের অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে। এরইমধ্যে ঈদুল ফিতরের মতো করোনার অভিশাপ নিয়ে হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বর্তমান সময়ে একদিকে যেমন মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব, আবার অন্যদিকে শুরু হয়েছে দুর্যোগের হাতছানি। অর্থাৎ বন্যার অকূল দশা।

আমরা জানি ঈদুল আযহার একটি বিরাট অর্থনীতি রয়েছে। সেখানে মুসলমানদের জন্য ত্যাগের মহিমায় কোরবানি করা ওয়াজিব। সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এবারে করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব। কীভাবে পশু কোরবানি করবে, কোথায় পাবে পশু, কে কিনবে, কীভাবে কিনবে, কীভাবে কোরবানি করার মানুষ পাওয়া যাবে, কোরবানির হাটে যাবে কীভাবে ইত্যাদি নানা ধরনের চিন্তা-ভাবনা। সরকার থেকে ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে সীমিত আকারে হবে কোরবানির পশুর হাট। এর আগে আমরা দেখেছি, করোনার জন্য রমজান মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও তারাবি নামাজ আদায়েও কিছুটা শিথিলতা আরোপ করা হয়েছিল। তেমনিভাবে মুসলানদের অন্যতম ফরজ কাজ হিসেবে পবিত্র হজ পালনেও এবারে শিথিলতা আরোপ করা হয়েছে। সেজন্য উৎসবপ্রিয় বাঙালিকে মেনে নিতেই হবে বিধাতার প্রাকৃতিক এ নিয়তি। চলুন আমরা যতটুকু পারি সীমিত আকারেই পালন করি আমাদের পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসব। 

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ভালোবাসা আর নির্মমতার করোনাকাল পেরিয়ে নতুন ভোর আসবেই। আমরা সফল হবোই। শুধু এই সময়টুকু আমাদের সাহস আর ধৈর্য ধরে মোকাবিলা করতে হবে। করোনাকালে আমরা দেখেছি, ডাক্তার, নার্স, সাংবাদিক, পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রাণ বাজি রেখে দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে প্রাণপণে লড়াই করে গেছেন এবং যাচ্ছেন। সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছেন করোনার বিরুদ্ধে। এছাড়াও  জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ যুবসমাজের কেউ কেউ যখন আইসোলেশন সেন্টার, অক্সিজেন সিলিন্ডার অ্যাম্বুলেন্সসহ করোনা যুদ্ধ মোকাবেলার বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছেন তখন আমরা হারানো শক্তি ফিরে পাই। তারা রাত-দিন চব্বিশ ঘণ্টা অসহায় মানুষদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনায় আক্রান্ত মৃত মানুষের দাফন ও সৎকারে যখন কেউ এগিয়ে আসছিল না, তখন পরম মমতায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। অসহায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, দাঁড়াচ্ছে। রান্না করা খাবার থেকে শুরু করে, শুকনো খাদ্য সামগ্রী, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সামগ্রী ও নগদ টাকা দিয়ে যে যার মত সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী, কর্মজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। তাঁরা হোম কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন নিশ্চিত করা, বিপদগ্রস্ত মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ, রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফন ও দাহ, গ্রামে গ্রামে ঘুরে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছেন। মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে  আবার অনেকেই করোনায় সংক্রমিতও হয়েছেন। তবুও তাঁরা এ কাজ চালিয়ে গেছেন এবং যাচ্ছেন। তবে সরকারি হাসপাতাল ও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে সব ধরনের দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করার নজরদারিতেও রাখতে হবে। করোনা মহামারির এই মহাদুর্যোগের ভেতর দিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নতুন অবয়বে মাথা তুলে দাঁড়াবে সেটি আমাদের প্রত্যাশা। এর দায়িত্ব নিতে হবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে। অবশ্য এই দুঃসময়ে পিছিয়ে নেই আমাদের সংবাদকর্মীরাও। করোনা মোকাবিলায় মানুষকে সচেতন করার কাজটি নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন তাঁরা। ঝুঁকি, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তাঁরা মাঠে থেকে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। 

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে যে সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে গত মার্চ মাস থেকে। এতে করে, চলতি বছর করোনা মহামারিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি এতোটাই গতিহীন হবে। যে কারণে করোনা পরবর্তী বিশ্ব চরম অর্থনৈতিক স্থবিরতায় দিশেহারা হয়ে পড়বে। যা হোক বেঁচে থাকতে হলে লড়াই করতে হবে এবং সকল প্রতিকুলতায় লড়াই করেই বাঁচতে হবে এমন বাস্তবতায় প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি। করোনাকালে অত্যন্ত দক্ষতায় মহা ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলা সম্ভব হয়েছে। 

আসুন কভিড-১৯ পরবর্তী নতুন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রয়াসী হই। পারস্পরিক সহযোগিতা, সাম্য, সহানুভূতি, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার নতুন বন্ধন গড়ে তুলি। দৃঢ়তা, সাহস আর উদ্যম দিয়ে প্রতিষ্ঠা করি স্বপ্নের বাংলাদেশ। নতুন সভ্যতার জাল বুনে একটি মানবিক বাংলাদেশ উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়াই হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আগামীর এই আহ্বানে লক্ষ্য পূরণে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। 

লেখক : চেয়ারম্যান, এলবিয়ন গ্রুপ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা