kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

টিকা কিংবা ওষুধ চলতি বছরেই সমাধান আসছে

অনলাইন থেকে   

২৩ জুলাই, ২০২০ ১৪:৪৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টিকা কিংবা ওষুধ চলতি বছরেই সমাধান আসছে

জানুয়ারির শুরুতে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা কভিড-১৯-এর টিকা উদ্ভাবনের কাজ শুরু করেন। ওই সময় রোগটির প্রাদুর্ভাব খুব সামান্যই ছিল এবং এর কোনো নামও ছিল না। এর মধ্যে ছয় মাস হয়ে গেছে, ছয় লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অক্সফোর্ড টিমও মহামারিটির সংক্রমণ থামিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ কম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা এরই মধ্যে টিকাটিকে বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে এবং কয়েক বিলিয়ন ডোজ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে এখনো দুটি মৌলিক প্রশ্ন রয়ে গেছে—টিকাটি কি নিরাপদ ও কার্যকর হবে? গত ২০ জুলাই লেনসেটে প্রকাশিত তাদের গবেষণাপত্রে উত্তর দুটির পূর্ভাবাস পাওয়া গেছে। গত এপ্রিলে এক হাজার মানুষের ওপর এই পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।

অক্সফোর্ডের জেনার ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং গবেষণাপত্রটির অন্যতম লেখক অ্যাড্রিয়ান হিল বলেছেন, নতুন টিকাটি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উজ্জীবিত করতে পেরেছে। এ ছাড়া এটি হবে যথেষ্ট সহনীয় ও নিরাপদ। এই টিকা একই সঙ্গে শরীরের অ্যান্টিবডি ও মূল্যবান টি-সেল উৎপাদন করতে পারে। অ্যান্টিবডি ও টি-সেল হলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুটি প্রধান অস্ত্র। এরা প্রথমে পুরনো রোগজীবাণুকে শনাক্ত করে এর পথ রোধ ও অকার্যকর করে দেয়। পরবর্তী ধাপে আক্রান্ত দেহকোষ চিহ্নিত করে মেরে ফেলে এবং শরীরের ভেতরে ভাইরাসটির পুনঃ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। ড. হিলের মতে, অক্সফোর্ডের টিকার পরীক্ষায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক সংক্রমণে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, এই টিকার ক্ষেত্রেও এর মাত্রা একই পাওয়া গেছে। তবে টি-সেলের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। আর এই টিকাগুলো আমেরিকার বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান মডার্নার উদ্ভাবিত টিকার চেয়েও পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রয়েছে।

কভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা এমন কিছু রোগী আছে, যাদের স্বাভাবিক অ্যান্টিবডির মাত্রা খুব দ্রুত নেমে যায়। অক্সফোর্ডের টিকায় টি-সেলের ইতিবাচক সাড়া ওই সব রোগীকে নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে পারছে। সেরে ওঠার পরও ওই সব ব্যক্তির অ্যান্টিবডি হ্রাস পাওয়ার অর্থ হচ্ছে তাদের প্রতিরোধব্যবস্থা অতীত সংক্রমণকে মনে রাখতে পারে না। সাধারণ সর্দির জন্য যেসব ভাইরাস দায়ী, সেসব ভাইরাসের সংক্রমণও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে না। কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য টি-সেল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা সম্ভবত শরীরে খুবই দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, যা অক্সফোর্ডের টিকায় রয়েছে।

এখন পর্যন্ত চারটি টিকার প্রাথমিক পর্বের পরীক্ষার ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। অক্সফোর্ড, মডার্না ছাড়াও ফাইজার টিকা উদ্ভাবনের তথ্য তুলে ধরেছে। চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকস অক্সফোর্ডের ঘোষণার দিনই নিজেদের সাফল্যের খবর দিয়েছে। এসবের ফলে চলতি বছরের শেষের দিকে একটি সফল টিকা বাজারে আসছে—এই প্রত্যাশা জাগিয়ে রাখছে। তবে কঠিন শোনালেও টিকা কার্যকরের সব তথ্য পাওয়া এখনো বহুদূর। এ ক্ষেত্রে সাধারণত অ্যান্টিবডি ও টি-সেল উভয়ই প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত প্রতিরোধব্যবস্থা প্রশমনের জন্য টি-সেলের বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। শুধু চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলই এ সন্দেহ দূর করতে পারে।

এখন অক্সফোর্ডের টিকা পরীক্ষার আরেকটি ধাপে অগ্রসর হচ্ছে। এই ধাপে ব্রিটেনে এক হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালাতে এরই মধ্যে লোক সংগ্রহ প্রায় শেষ হয়েছে। ব্রাজিলে দ্রুত স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহ করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় মাত্র পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে আমেরিকায় শুরু হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী মাস অর্থাৎ আগস্ট শেষে গবেষকদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে, টিকাটি কাজ করবে কি না। তবে টিকার প্রাথমিক পর্বের পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে টিকাটির জরুরি অনুমোদন দেওয়া নিয়েও ভাবতে হবে। এটা ঘটতে পারে অক্টোবরের শুরুতে।

অক্সফোর্ডের টিকার ঘোষণার দিনে কভিড-১৯-এর সম্ভাব্য চিকিৎসার একটি ঘোষণাও এসেছে। ব্রিটিশ বায়োটেকনোলজি কম্পানি সিনায়েরজেন জানিয়েছে, ‘ইন্টারফেরোন বিটা’ উপকরণ দিয়ে তৈরি একটি ওষুধের কাজ তারা শেষ করে এনেছে, যার গবেষণার ফলাফল শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। ১০০ জন লোকের ওপর এই ওষুধ পরীক্ষায় আইসিইউতে ভর্তি হওয়া রোগী তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমিয়ে আনা গেছে।

পর্যবেক্ষক মহল অবশ্য এই পরীক্ষার ব্যাখ্যা তুলে ধরার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। কারণ সিনায়েরজেন এখনো এটা প্রকাশ করেনি যে তারা কিভাবে এই পরীক্ষা চালিয়েছে। এ ছাড়া তাদের গবেষণার পিয়ার রিভিউও পাওয়া যায়নি। যাই হোক, এই দাবি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এই উদ্যোগ কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় সক্ষমতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে দুটি ঘোষণা এই আশাই জোগাচ্ছে যে চলতি বছরের কোনো একসময় কভিড-১৯ থেকে নিষ্কৃতির কৌশল পাওয়া যাবে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : আফছার আহমেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা