kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৩ আগস্ট ২০২০ । ২২ জিলহজ ১৪৪১

শোবার ঘরে কিলবিল করছে গোখরা সাপ, সবগুলো ধরে জারে ভরলেন গৃহকর্তা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুলাই, ২০২০ ১৪:৪৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শোবার ঘরে কিলবিল করছে গোখরা সাপ, সবগুলো ধরে জারে ভরলেন গৃহকর্তা!

দুই একটা নয়, শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে এল একে একে ২০টি গোখরো সাপের বাচ্চা! হাড়হিম করা এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের দাসপুরের সামাট গ্রামের বটব্যাল পরিবার। তবে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও সাপগুলোকে মেরে ফেলেননি তারা। বনদপ্তরে খবর দিয়েছেন।

শনিবার বনকর্মীরা গিয়ে সাপগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। বনদপ্তরের ঘাটাল রেঞ্জের কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মুদিকোরা বলেন, 'ওই পরিবারকে অনেক ধন্যবাদ। তারা সাপগুলোকে মেরে ফেলেননি। বনকর্মীরা গিয়ে সাপগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে।'

বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দাসপুরের সামাট গ্রামের দিবাকর বটব্যালের বাড়ির মেয়েরা শোবার ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন। সেসময়ই আচমকা একটি গোখরো সাপ বেরিয়ে আসে। আতঙ্কিত মেয়েরা চিৎকার করতে করতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। দিবাকরবাবু ঘরে ঢুকে দেখেন, সেখানে একটি গর্ত রয়েছে। সেই গর্ত খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একে একে ২০টি বিষধর গোখরো সাপের বাচ্চা। প্রথমে বেশ ভয় পেলেও, পরে সাহস সঞ্চার করে সাপগুলোকে না মেরে একটি বড় জারে রেখে দেন দিবাকরবাবু। সাপ ধরতে তাকে সাহায্য করেন তার দাদা শ্যামসুন্দরবাবু ও তার এক বন্ধু সঞ্জীব চন্দ।

দিবাকরবাবু বলেন, 'বাড়ির ভিতরে কবে যে এই ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে জানতে পারিনি। সেই গর্তেই যে এতগুলো গোখরো সাপ বাসা বাঁধবে, তাও আমাদের নজরে আসেনি। আমরা খুব ভাগ্যবান বলতে পারেন।'

দিবাকরবাবুদের সাহসিকতায় মুগ্ধ ঘাটালের রেঞ্জার বিশ্বনাথ মুদিকোরা। তিনি বলেন, 'ওই তিনজনকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। সাহস করে যে সাপগুলোকে ধরে রেখেছেন, তার জন্য ওদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।' তিনি জানিয়েছেন সাপগুলো এক একটি দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত লম্বা। সামান্য অসতর্ক হলেই বড়সড় বিপদ ঘটে যেতে পারত।

তবে বিষধর গোখরা কেন গৃহস্থের ঘরে? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লকডাউনে পথঘাট ফাঁকা পেয়ে সাপের দল বেরিয়ে পড়েছিল। এরপর তারা এই ঘরে ঢুকে আস্তানা গেড়েছে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা