kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

করোনাকালের কথা-৩

ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)   

৯ জুলাই, ২০২০ ১০:১৬ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



করোনাকালের কথা-৩

১৭-০৬-২০২০ বুধবার

রাত-০২:০০
ডা. আকবর ভাইয়ের সঙ্গে প্রাত্যহিক ফোনালাপটা মাত্রই শেষ হলো। ৩২ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু আমাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আর সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন। কিউবান কলিগদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। অগ্রগতি ভালোই। ওখানে ২০ জনেরও বেশি রোগীকে ন্যাসভ্যাক দিয়ে কভিডের চিকিৎসা করা হয়েছে। এখানে আছি আমরা আরো চারজন। তাদের সঙ্গে আমাদেরটা আর সঙ্গে কিছু বেসিক ল্যাবরেটরি ডাটা জুড়ে দিয়ে একটা ভালো সায়েন্টিফিক পাবলিকেশনের প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। 

ঘুমাতে যাব, এখন পর্যন্ত সাতজনই অ্যাসিম্পটোমেটিক। একটু হালকা লাগছে। বিকন ফার্মার পল্লব আর ডা. সুনান জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আমাদের হাসপাতালে ভর্তির খরচের দায়িত্বও নেবে তাঁদের কম্পানি। যদিও মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত তারা এই খরচটুকু করার সুযোগ পাবে না। তার পরও পৃথিবী থেকে ভালোত্বটা যে শেষ হয়ে যায়নি ভাবতেই ভালো লাগছে। ভালো টি-বোন স্টেক, তার চেয়ে ভালো রিসার্চ রিলেটেড ডেভেলপমেন্ট আর তার চেয়েও ভালো কিছু ভালো মানুষের ভালো কিছু কথা—ঘুমটা ভালোই হবে।

সন্ধ্যা-০৬:০০
আবারও আলমগীরের ফোন। এবার অবশ্য অত বেশি দুঃসংবাদ নেই তাঁর ঝুলিতে। এই দফায় পজিটিভ মাত্র একজন। ড্রাইভার কাওসার। এখন আর দু-একটা পজিটিভ রিপোর্ট আর তেমন একটা গায়ে লাগে না। বাসার কভিডকালীন প্রশাসনটাও দাঁড়িয়ে গেছে। ওকে দ্রুতই আইসোলেশনে পাঠিয়ে ওষুধের ব্যবস্থা করলাম। ওর ঠাঁই হয়েছে বাসার পেছনের স্টাফ অ্যাকোমেডশনের তিনতলায় সাবেরের পাশের ঘরটাতে। ওদের দুজনের আইসোলেশন নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব ড্রাইভার নাসিরের ওপর আর বাসার তিনতলায় রিমার আইসোলেশনের দায়-দায়িত্ব রাবেয়ার কাঁধে। সুকন্যা দ্রুতই তহবিল ছাড় করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।
সবচেয়ে সন্তুষ্টির ব্যাপার আম্মার রিপোর্টটা নেগেটিভ এসেছে। সঙ্গে আম্মার দেখাশোনার দায়িত্বে যে দুটো মেয়ে, তাদেরগুলোও। নেগেটিভ মুনমুন, জুয়েল আর ওদের বাসার অন্যরাও। এখন তোড়জোড় চলছে আম্মাকে মুনমুনের বাসায় পাঠানোর। জিনিসপত্র গোছানো, দরজা-জানালা ঠিকঠাকমতো বন্ধ করে দোতলার লকডাউন নিশ্চিত করা। এসব জিনিস বলার চেয়ে করাটা ঢের বেশি কঠিন। বাংলাদেশ নামক এত বড় সংসারটা যাঁর দায়িত্বে সেই বড় আপার জ্বালাটা অল্প হলেও টের পাচ্ছি মনে হচ্ছে।

রাত-০৮:০০
আম্মা মাত্রই গাড়িতে উঠলেন। জানালা দিয়েই বিদায় জানালাম। বুকের ভেতরে একটা চিনচিনে ব্যথা। জানি না এই যাওয়া কত দিনের। আর ফিরে আসাটাই বা কবে, কিভাবে? গাড়িতে ওঠার আগে আম্মা জানতে চাইলেন বাসার আর কে কে অসুস্থ। সুকন্যা-সূর্য ঠিক আছে কি না। তারপর অসহায় হাসি এবং গাড়িতে চড়ে ভিনবাসে যাত্রা!

১৮-০৬-২০২০ বৃহস্পতিবার
রাত-১১:০০
সারা দিন লেখার সময় পাইনি। সত্যি বলতে কী, দম ফেলার ফুরসতও না। একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির চাচা আর সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল ভাইয়ের যুক্ত স্বাক্ষরে একটা বিবৃতি গেছে প্রেসে দুপুর নাগাদ। প্রথমে বুঝিনি। বুঝতে বুঝতে বিকেল হয়েছে। আমি এই জীবনে এক সন্ধ্যায় যে এত ফোনকল আগে কখনো রিসিভ করিনি সে কথা হলফ করে বলতে পারি। বিরক্ত হইনি, অবাক হয়েছি, সঙ্গে আপ্লুতও। এত মানুষ যে আমাদের এত বেশি ভালোবাসে, কভিড না হলে জানা সম্ভব ছিল না। লম্বা এ তালিকায় আছেন যেমন মন্ত্রিপরিষদের মাননীয় সদস্যবৃন্দ, তেমনি মাননীয় সংসদ সংসদবর্গ, আছেন তেমনি আওয়ামী লীগ আর নির্মূল কমিটির সহযোদ্ধারা। আছেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের সাথিরা। সাবেক ছাত্রলীগ যেমন আছেন, তেমনি আছেন ছাত্রলীগের বর্তমানরাও। আছেন রোটারিয়ান, চিকিত্সক, স্কুল আর কলেজজীবনের ফেলে আসা বন্ধু-বান্ধব। নামিদামি থেকে শুরু করে ছোটখাটো সংবাদকর্মী আর আমার অসংখ্য রোগীও আছেন। 

ভোরের পাতা আর দ্য পিপলস টাইমসের সম্পাদক সৈয়দ ইরতেজা হাসান জানালেন কাকরাইলের তাবলিগ জামাতের মসজিদে বাদ মাগরিব সুরা ইয়াসিনের খতম শেষে দোয়া হয়েছে। আগামীকাল বাদ জুমা দোয়া হবে আজমিরে খাজা বাবার দরগায় আর দিল্লিতে হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারেও। উদ্যোক্তা যথাক্রমে ভারতের জাইডাস ফার্মাসিউটিক্যালসের পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বড়কর্তা আমিরুজ্জামান আর নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের এমবিএ করা খাদেম ফিদা নিজামী।

চট্টগ্রামের জয় জ্যোতি ভিক্ষুর সঙ্গে আমার পরিচয় সামান্যই। ইনবক্সে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের নন্দন কানন বৌদ্ধবিহারে সন্ধ্যায় আমাদের রোগমুক্তির জন্য আয়োজন করছেন অষ্টপরিষ্কারদানসহ ভৈষজ্য সংঘদান এবং সূত্রপাঠের। দুই বেলা করে পূজা চড়াচ্ছেন বন্ধু দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য ঢাকায় আর সিআরআইয়ের ছোট ভাই প্রতীক চক্রবর্তীর মা বগুড়ায়। কাল জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়া হবে বসুন্ধরার বড় মসজিদেও। আমার এক রোগী দৌড়ঝাঁপ করে আয়োজন করেছে। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির ভাই তাহাজ্জুতের নামাজ শেষে টেক্সট পাঠিয়েছিলেন। মোনাজাতে নাম নিয়ে দোয়া করেছেন আমাদের জন্য, করবেন ফজরেও। শাকিল ভাই বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই বলতেন ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’!
তবে নিউটনের তৃতীয় সূত্রটিও আরেক দফা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। উত্তমদা, নুজহাত আর আমার অসুস্থতার খবর দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিদার একটি সংগঠন। তাতে ‘হাঁ হাঁ’ পোস্ট দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছে অনেকেই। যত্ন করে একটা স্ক্রিন শট রেখে দিয়েছি। মামলা করার জন্য না। ওরা মামলারও অযোগ্য! রেখে দিয়েছি অবিশ্বাসীদের বিশ্বাসের জন্য আর স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনার প্রতি অচেতন মানুষগুলোর ব্যাপারে সচেতন মানুষগুলোকে আরেকটু সচেতন করে তোলার তাগিদে। আর পাশাপাশি নিজেকেও মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দিতে যে বেঁচে থাকতে হবে এবং যেতে হবে আরো অনেকটা পথ। হাল ছাড়া যাবে না মোটেও।

১৯-০৬-২০২০ শুক্রবার
সন্ধ্যা-০৬:০০
সিটি স্ক্যানের রিপোর্টটা হাতে পেয়েছি সকালে। গতকাল সকাল সকাল চোরের মতো গিয়ে সিটি স্ক্যান করে এসেছিলাম আমরা তিনজন, সঙ্গে হেলাল আর লেমন। ব্লাড টেস্টগুলোর রিপোর্ট ঠিকই আছে। রক্ত জমাট বেঁধে তালগোল পাকানোর আশঙ্কা আছে বলে মনে হচ্ছে না। শুধু চেস্টের সিটি স্ক্যানে খানিকটা ছন্দঃপতন। আমার ডান ফুসফুসের মধ্যাঞ্চলে একটা শ্যাডো। আমাদের ভাষায় যেটা কনসোলিডেশন আর কভিডের ভাষায় পাঁচ কি ছয় নম্বর বিপদ সংকেত। রেডিওলজিস্ট প্রফেসর সালাউদ্দিন আল আজাদের সঙ্গে ফোনে কথা বললাম। ভদ্রলোক আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন। গলায় জোরটা শুধু খানিকটা কম। আশ্বস্ত হলামও ঠিকঠাক। এখন আমার বাঁচার আশার ল্যাম্পপোস্টটা ইমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. ফায়জুল হক। 
হোয়াটসঅ্যাপে রিপোর্টগুলো পাঠিয়ে তারপর কথা সারলাম মাত্রই। আগে থেকেই ওর সঙ্গে চুক্তি ছিল আমার কভিড হলে ও টেলিমেডিসিনে চিকিত্সার দায়িত্ব নেবে। ইমন কথা রেখেছে। আমি অ্যাগ্রেসিভ চিকিত্সায় বিশ্বাসী। আগে থেকেই ক্ল্যাগজেন ইঞ্জেকশন নিচ্ছিলাম। ইমন সঙ্গে একটা অ্যান্টিবায়োটিক যোগ করে দিল। এখন সত্যি সত্যিই আশ্বস্ত বোধ করছি। ঢাকা সিএমএইচের ওপর কভিড চিকিত্সায় পুরো জাতির যে অগাধ আস্থা, তার বেশ কিছুটা কৃতিত্ব আমার এই বন্ধুটির প্রাপ্য। কথায় আছে, আপনা-আপনি বাজে শুধু ধর্মের ঢাক। বাকিগুলো বাজাতে হয়। আমি না হয় আমার বন্ধুর ঢাকটা বাজিয়ে একটু পুণ্যই কামাই করলাম।

রাত-১১:০০
মাত্রই একটা লাইভ শেষ করলাম। ফার্মানিউজবিডির। ফেসবুক পেজে সংযুক্ত ছিলেন স্বাচিপের জিএস অধ্যাপক ডা. আজিজ ভাই আর ফার্মাসিস্ট কাম সাংবাদিক কাম রবীন্দ্র গবেষক সুভাষ সিংহ রায়। জম্পেশ আলোচনা। বরং বলা ভালো, আড্ডাই হলো হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ আর স্বাস্থ্য খাতের নানা ঝুটঝামেলা নিয়ে।

ডিনার শেষে এখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আজ একটু আগেভাগেই ঘুমাতে যাব ভাবছি। ফুসফুসকে একটু বিশ্রাম দেওয়া আর কি। সকালে সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট পাওয়ার পর থেকেই অবশ্য ফুসফুসের যত্নে মনোযোগী হয়েছি। পেটের ওপর ভর দিয়ে শোওয়ার প্র্যাকটিসটা তো কয়েক দিন ধরেই করছিলাম। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বেলুন ফোলানোর কসরতও।

ঘুমানোর আগে কয়েকটা কভিড প্রজ্ঞা শেয়ার করি। ঘড় ঝাড়ু দেওয়াটা একটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেই সঙ্গে মোছাটাও। তা সে যত ভালো ঝাড়ু আর ফ্লোর সুইপই হোক না কেন। এক দিন করেই শিক্ষা হয়ে গেছে। এখন নুজহাত দায়িত্ব নিয়েছে বলে বাঁচোয়া। তাই বলে দিনে তিন বেলা প্লেট-বাসন ধোয়টাও কিন্তু খুব মামুলি না। আরেকটা ব্যাপার—টাওয়েল অপেক্ষা গামছা শ্রেয়তর। এটি ধোয়া ডালভাত। আধা মগ পানিতে জেটে চুবিয়ে সহজেই একটি আস্ত গামছা ধুয়ে ফেলা যায়। এটি শুকায়ও খুব তাড়াতাড়ি। অতএব হাইজেনিক। পাশাপাশি টাওয়েলের পরিবর্তে গামছার ব্যাপক প্রচলন দেশীয় কুটিরশিল্পের জন্য প্রণোদনাদায়ী। অতএব কভিড-উত্তর নিউ নরমাল জীবনে টাওয়েলকে তিন তালাক।

২০-০৬-২০২০ শনিবার
দুপুর-০৩: ১৫
গত দুই দিনে দুজন বিশিষ্টজন আম পাঠিয়েছেন। দুজনের বাড়ি দেশের ‘ম্যাংগো ক্যাপিটাল’ রাজশাহীতে। একজন মন্ত্রিপরিষদের মাননীয় সদস্য, অন্যজন আওয়ামী লীগ এবং পাশাপাশি নির্মূল কমিটির বড় নেতা। দুজনই বলেই পাঠিয়েছিলেন। কারোটাই আসেনি। আম পাইনি জানিয়ে বিব্রত করতে চাইনি দুজনের কাউকেই। করোনা বাড়িতে মানুষ আসে না, আম আসবে কোত্থেকে? ব্যতিক্রম দিব্যেন্দু-পর্ণা দম্পতি। পেশাগত জায়গা থেকে পরিচয়, এখন একসঙ্গে রোটারিয়ান। করোনাকাল সামাজিকতার সময় নয়। মানা করেছিলাম তাই, শোনেনি। জানালার বাইরের তারের লক্ষণ রেখার ওপারে দাঁড়িয়ে মলিন হাসিতে আনন্দ বিতরণের ব্যর্থ চেষ্টা করে মাত্রই বিদায় নিল। রেখে গেছে ব্লিচিং পাউডারের দ্রবণে সিক্ত একটা ফুলের তোড়া। করোনা কাদায় নরম হূদয়ে যে গভীর দাগটা রেখে গেল, জানবে না তা হয়তো কোনো দিনও।

বিকেল-০৫:০০
করোনাকালে লেখালেখি অনেক সহজ। হাতে সময় বিস্তর। হাসপাতাল আর চেম্বারের ঝামেলা নেই। সমস্যা একটাই। আমি বাংলায় টাইপটা করতে জানি না। তবে বিপদ পড়লে কাকেরও তো বুদ্ধি খোলে। ঠিক ঠিকই সে হাঁড়ির তলানিতে পড়ে থাকা পানি পানের ব্যবস্থা করতে পারে। অতএব আমার বুদ্ধিই বা খুলবে না কেন? লেখা রিডিং পড়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজে পাঠিয়ে দিলাম ডা. সুনানকে। খানিক পরেই টাইপ করে পাঠিয়ে দিল মেসেঞ্জারে এবং সেখান থেকে সেটা সোজা জাগোনিউজের ড. হারুন রশিদের ইনবক্সে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কী সাবলীল প্রয়োগ। আবাহনী আর জাতীয় দলের একসময়ের ক্রিকেটার রামচাঁদ গোয়ালা কাকা সম্প্রতি মারা গেছেন। ১৯৮৮ থেকে ৯৬ পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময় তাঁর ভাড়াটে হওয়ার সুবাদে তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। সে সময়টায় ছাত্রদলের তাণ্ডবে হোস্টেল থেকে বহিষ্কৃত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের ছেলেগুলোকে ব্রাহ্মপল্লীতে বাসা ভাড়া পেতে সাহায্য করা আর সে সময়কার পরিভাষায় তাদের ‘শেল্টার’ দেওয়ার একটা বড় জায়গা ছিলেন তিনি। নিভৃতচারী এই মানুষটির জীবনের এ অধ্যায়টি না তুলে ধরলে নিজের কাছেই অপরাধী মনে হচ্ছিল। সেই দায়িত্ববোধের জায়গাটা থেকেই অভিনব কায়দায় এই লেখাটি লেখা। আশা করি সামনে একই কায়দায় আরো কয়েকটি লেখা প্রকাশ করা যাবে।

রাত-১০:৩০
মাত্রই রাজ টিভির একটা টক শো শেষ করলাম। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. রুহুল হক স্যারের সঙ্গে সুভাষদা আর আমি। স্যার স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো নিয়ে ভালো ভালো কিছু কথা বললেন। উঠে এলো হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগের বিষয়টিও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কুম্ভকর্ণদের কর্ণকুহরে এসব কথা ঢোকে বলে অবশ্য শোনা যায় না। 

লেখক : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, লিভার বিভাগ 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় 
ও সদস্যসচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা