kalerkantho

রবিবার। ১ ভাদ্র ১৪২৭। ১৬ আগস্ট ২০২০। ২৫ জিলহজ ১৪৪১

সেতু কর্তৃপক্ষে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

সহকারী পরিচালক। সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল)। সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল)। সহকারী প্রগ্রামার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ জুলাই, ২০২০ ০৯:০৫ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সেতু কর্তৃপক্ষে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

সহকারী পরিচালক, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) ও সহকারী প্রগ্রামার নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। আবেদন করা যাবে ৯ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদে বিগত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পর্কে জানাচ্ছেন ২০১৬ সালে উপসহকারী পরিচালক (পদ্মা সেতু প্রকল্প) পদে প্রথম স্থান অধিকার করা রবিউল আলম লুইপা (বর্তমানে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত)

জনবল কাঠামো অত্যন্ত ছোট হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন পর পর বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার ধরন, মানবণ্টন ও সিলেবাস দেওয়া হয় না। তবে বিগত উপসহকারী পরিচালক (পদ্মা সেতু প্রকল্প), সহকারী পরিচালক, সহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ পরীক্ষা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিবারই ৮০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নসংবলিত লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ভাইভায় ২০ নম্বর বরাদ্দ ছিল। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নের ধরন ছিল বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগ প্রশ্নের সমন্বিত রূপ; বাংলা ছাড়া সব বিষয়ে প্রশ্নের মাধ্যম হলো ইংরেজি। উপসহকারী পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ সাধারণ কোরে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও মানসিক দক্ষতা, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটার মিলিয়ে ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়। সে ক্ষেত্রে মানবণ্টনটা হতে পারে বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ও মানসিক দক্ষতা ২০ এবং বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ২০। অন্যদিকে উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলীসহ কারিগরি কোরে সাধারণ কোরের বিষয়গুলোর সঙ্গে কারিগরি বিষয়ের (সিভিল/মেকানিক্যাল) প্রশ্ন্নগুলো যুক্ত হয়ে মোট ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়। সে ক্ষেত্রে মানবণ্টনটা হতে পারে বাংলা ১০, ইংরেজি ১৫, গণিত ও মানসিক দক্ষতা ১০ এবং বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ১৫ এবং কারিগরি বিষয় (সিভিল/মেকানিক্যাল) ৩০। প্রশ্নের ধরন কিছুটা পরিবর্তন হলে ৫০-৬০টি এমসিকিউর সঙ্গে ২০-৩০ নম্বরের লিখিত প্রশ্ন যোগ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রে প্রশ্নের সঙ্গেই উত্তর লেখার নির্ধারিত জায়গা দেওয়া থাকবে এবং বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ বা রচনা ও অঙ্ক (লিখিত) থাকতে পারে। তাই একজন পরীক্ষার্থীকে দুই স্তরেই প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এমসিকিউ অংশের প্রস্তুতি
বাংলা : ৮০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন করা হলে বাংলায় সাধারণ কোরে ২০টি এমসিকিউ এবং কারিগরি কোরে ১৫টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকতে পারে। বিসিএস ও পিএসসির অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির মতো একই ধাঁচের প্রশ্ন করা হবে। বিগত প্রশ্ন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাহিত্য অংশের চেয়ে ব্যাকরণ অংশ থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সাহিত্য অংশ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম এবং বাংলা ব্যাকরণ অংশ থেকে ধ্বনি, শব্দভাণ্ডার, বানান, বাক্য শুদ্ধিকরণ, সন্ধি, সমাস, বাগধারা ও সমার্থক শব্দ অধ্যায়গুলো থেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন। বাংলা প্রস্তুতির জন্য প্রফেসরস বা অন্য যেকোনো প্রকাশনীর বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির বই দেখা যেতে পারে।

ইংরেজি : ৮০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন করা হলে ইংরেজিতে সাধারণ কোরে ২০টি এমসিকিউ এবং কারিগরি কোরে ১৫টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকতে পারে। বিগত প্রশ্ন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এখানে ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির মতো একই ধাঁচের প্রশ্ন করা হয় এবং বিগত সময়ে ইংরেজি সাহিত্য থেকে কখনো প্রশ্ন করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে ইংরেজি ব্যাকরণের Spelling mistakes, Sentence correction, Phrase and Idioms, Translation, Subject-verb agreement, Synonyms-Antonyms অধ্যায়গুলো থেকে বেশি বেশি প্রশ্ন করা হয়। ইংরেজি অংশে ভালো করার জন্য ইংরেজি শব্দভাণ্ডারের ওপর আপনার ভালো দখল থাকতে হবে। ইংরেজি অংশের প্রস্তুতির জন্য সাইফুরস ইংলিশ গ্রামার বা অন্য যেকোনো প্রকাশনীর আইবিএ ভর্তি সহায়ক গ্রামার বই দেখতে পারেন।

গণিত : ৮০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন করা হলে গণিতে সাধারণ কোরে ২০টি এমসিকিউ এবং কারিগরি কোরে ১০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকতে পারে। বিগত প্রশ্ন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এখানে ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির মতো একই ধাঁচের প্রশ্ন করা হয় এবং প্রশ্নের ভাষার মাধ্যম ইংরেজি। বিগত সময়ে দেখা গেছে, গণিত অংশের Number (সংখ্যা), Unitary method (ঐকিক নিয়ম), Time-distance-speed (সময়-দূরত্ব-গতিবেগ), Percentage (শতকরা), Profit and Loss (লাভ-ক্ষতি), Ratio-Proportion (অনুপাত-সমানুপাত), Mensuration (পরিমিতি) থেকে বেশি বেশি প্রশ্ন করা হয়। গণিতের প্রস্তুতির জন্য সাইফুরস বা জাফর ইকবাল আনসারির ব্যাংক ম্যাথ বই থেকে অনুশীলন করা যেতে পারে।

সাধারণ জ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটার : ৮০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন করা হলে এই অংশ থেকে সাধারণ কোরে ২০টি এমসিকিউ এবং কারিগরি কোরে ১৫টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকতে পারে। বিসিএস ও পিএসসির অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির মতো একই ধাঁচের প্রশ্ন করা হয়। বিগত প্রশ্ন পর্যালোচনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশের জন্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচিতি, ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা, শিল্প-সংস্কৃতি-সম্মাননা, প্রশাসনিক কাঠামো, সংবিধান ও চলতি ঘটনাবলি থেকে এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশের জন্য জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক সংগঠন, বিভিন্ন দেশ ও স্থানের উপনাম, নদ-নদী, বিভিন্ন প্রণালি ও চলতি ঘটনাবলি থেকে বেশি বেশি প্রশ্ন করা হয়। সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রস্তুতির জন্য যেকোনো প্রকাশনীর বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি বই দেখতে পারেন। বিগত বছরের প্রশ্নে সাধারণ বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়ক ২-৩টি প্রশ্ন এই অংশে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ জন্য সাধারণ বিজ্ঞান অংশে পদার্থ, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া, চিকিৎসাবিজ্ঞান, মানবদেহ ও ভূগোল এবং কম্পিউটার অংশে কি-বোর্ডের শর্টকাট, ইনপুট-আউটপুট, কম্পিউটার ভাইরাস ও রক্ষণাবেক্ষণ, ইন্টারনেট, ফাইল ফরম্যাট, নেটওয়ার্কিং ইত্যাদি অধ্যায় থেকে প্রশ্ন করা হতে পারে। সাধারণ বিজ্ঞান প্রস্তুতির জন্য প্রফেসরস বা ওরাকল প্রকাশনীর বিসিএস প্রিলিমিনারি সাধারণ বিজ্ঞান বই এবং কম্পিউটার প্রস্তুতির জন্য ইজি পাবলিকেশনসের ইজি কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি বইটি দেখতে পারেন।

কারিগরি বিষয়াবলি
আপনি কারিগরি কোরের কোনো পদে (যেমন—সহকারী প্রকৌশলী) আবেদন করে থাকলে সাধারণ কোরের মৌলিক বিষয়াবলির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পঠিত বিষয় (সিভিল/মেকানিক্যাল) থেকে এমসিকিউ আকারে ৩০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর করতে হবে।

এ অংশের প্রস্তুতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই ও বিদেশি সাইট (যেমন : indiabix.com) থেকে এমসিকিউ’র প্রস্তুতি নেবেন।

মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য উপস্থিত হতে বলা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মৌখিক পরীক্ষার মতোই মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করা হবে। মৌখিক পরীক্ষার ২০ নম্বরের মধ্যে একাডেমিক পরীক্ষায় চারটি ফার্স্ট ক্লাসের জন্যও নম্বর বরাদ্দ থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা