kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বৈশ্বিক মহামারির সংকটকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

ড. আবদুল্লাহ আল মূইদ   

২০ জুন, ২০২০ ১২:৫৮ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বৈশ্বিক মহামারির সংকটকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কভিড-১৯ বিস্তারের এই সময়ে সব কিছু প্রায় থেমে থাকলেও থেমে নেই শহরের ময়লা-আবর্জনা ও পয়োবর্জ্য পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ। বাংলাদেশে ৫০ থেকে ৬০ লাখ পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন, যাঁরা প্রতিদিনই তাঁদের নীরব অথচ অতি প্রয়োজনীয় কাজের মাধ্যমে আমাদের শহরগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করে চলেছেন। এই দুর্যোগে শহরকে বাসযোগ্য ও সচল রাখতে বীরের মতোই কাজ করে চলেছেন তাঁরা। অথচ এ কাজ করতে গিয়ে তাঁরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিতে পড়ছেন, নানা ধরনের অসুখে ভোগার পাশাপাশি কমছে তাঁদের গড় আয়ু। তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমরা প্রায়ই দেখি, বাংলাদেশে সেপটিক ট্যাংকে কাজ করার সময় অনেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মৃত্যু ঘটেছে, যদিও সব মৃত্যুর খবর প্রকাশিতও হয় না। ভারতে গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মৃত্যু ঘটে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে কোনো স্বীকৃত পরিসংখ্যান না থাকলেও অনুমান করা হয়, দেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি প্রতিবেশী দেশের তুলনায় কম নয়। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই সব কর্মীর জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক আইনি কাঠামো এবং এর প্রয়োগও যথেষ্ট দুর্বল। বিশেষত অনানুষ্ঠানিক খাতে জড়িত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিষয়ে প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্য তাঁদের পেশাগত ও সামাজিক সমস্যা তৈরির পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা তীব্রতর করে তুলেছে।

আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক, সুবিধাপ্রাপ্তিতে তারতম্য হলেও ভোগান্তি একই রকম। বাংলাদেশে সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে নিবন্ধিত স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে মাঝে কিছু সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়ে থাকে; যদিও বিগত কয়েক দশকে এসব পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাঁদের শারীরিক, আর্থিক, সামাজিক ও মানবসম্পদের উন্নয়নের বিষয়টি বরাবরই উদ্বেগজনক। ঋণ গ্রহণ বা বিকল্প পেশা খোঁজার সময়ও তাঁরা বৈষম্যের শিকার।

অন্যদিকে বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক খাতে জড়িত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আর্থিক এবং কাজের নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন; প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও তাঁদের অনুকূলে নয়। অথচ একই ধরনের সেবা প্রদান করে নিবন্ধিত স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের আংশিক স্বাস্থ্য বীমাসহ স্থায়ী আয় এবং অন্যান্য সুবিধা ভোগ করছেন, সরকারি ‘এম্পিয়ার্স ইউনিয়ন’-এর সদস্য পদ পেয়েছেন। অবশ্য স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও কিছু কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। যেমন—বিকল্প পেশা গ্রহণ করলে সুইপারদের ক্ষেত্রে সরকারি কলোনিতে আবাসন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্যানিটেশন বা পয়োবর্জ্য পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত কাজের ক্ষেত্রে বলা যায়, বাংলাদেশে এখনো যান্ত্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ল্যাট্রিন খালি করার জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহূত হয়ে থাকে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—উভয় গোষ্ঠীর পয়োবর্জ্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। টয়লেট থেকে শুরু করে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পর্যন্ত স্যানিটেশন ভ্যালু চেইনজুড়ে বিভিন্ন ধাপে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অত্যন্ত অনিরাপদ পদ্ধতিতে পয়োবর্জ্য নিয়ে কাজ করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থাকে না। সাধারণত অনানুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার এবং বেসরকারি অপারেটরদের পক্ষে কাজ করেন। অনেক সময় ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অনেক শ্রমিকই সচেতনতার অভাবে কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই পয়োবর্জ্যের পুলগুলোতে ডুব দিয়ে কাজ করেন, যেখানে মিথেন গ্যাস এবং অন্যান্য বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরির ফলে প্রায়ই তাঁদের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা ক্ষতিপূরণ বা কোনো আইনি সুরক্ষা পান না; কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা চুক্তিভিত্তিক উপায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সমাজে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাঁরা নানাভাবে উপেক্ষিত ও অবহেলিত। সমাজের প্রতি তাঁদের সেবার কখনো কোনো স্বীকৃতি মেলেনি, বরং তাঁরা সমাজ কর্তৃক ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁদের ছেলে-মেয়েরা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভালো কাজ পায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চাকরির দক্ষতা বা মৌলিক শিক্ষাসহ বিবিধ বিষয়ে পিছিয়ে থাকার কারণে মা-বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এই পেশাই তাঁদের শেষ ভরসা। অনেককে আবার টাকার পরিবর্তে শুধু খাবারের বিনিময়ে কাজ করতে হয়। পরিচ্ছন্নতাকাজের সময় দীর্ঘস্থায়ী বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে এইসব কর্মীর শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দেয়, যার মধ্যে মাথা ব্যথা ও জ্বর অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে তাঁরা কলেরা, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, হেপাটাইটিস বা পোলিওর মতো গুরুতর রোগেও আক্রান্ত হন।

প্রচলিত নীতিমালা এবং বাস্তবায়নকৌশল
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং তাঁদের সামগ্রিক জীবনমানের উন্নয়নে দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ভালো অভ্যাসের বেশ কিছু উদাহরণ তৈরি হয়েছে। এই পেশার কর্মীরা মৌসুমি চাহিদা, তাঁদের সরঞ্জাম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত আর্থিক ব্যয় নিজেরাই বহন শুরু করছেন। আজকাল অনেক পৌরসভায়ই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আয় আগের চেয়ে বেড়েছে। জমি অধিগ্রহণ এবং সরাসরি আর্থিক সহায়তার মতো সুবিধাও ভোগ করছেন তাঁরা। এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ল্যাট্রিন পিট খালি করার কাজে যুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশে নীতি ও আইনি কাঠামোতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে সুষ্ঠু বিধি-বিধান থাকলেও তার বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে। বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (ওএসএইচই) এনজিওদের সহায়তায় ২০১৫ সালে /////ফিক্যাল স্লাজ ম্যানেজমেন্টের//// জন্য পেশাগত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এটি খুলনা সিটি করপোরেশন এবং ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া পৌরসভা গ্রহণ করেছে। এরপর খুলনা সিটি করপোরেশন ৪০টিরও বেশি ব্যক্তিগত ম্যানুয়াল পিট এম্পটিয়ারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং তাঁদের নিরাপদ পরিষেবা সরবরাহকারী (আইএসএফ-ইউটিএস এবং এসএনভি ২০১৯) হিসেবে প্রশংসাপত্র দিয়েছে।

২০১৬ সালের পিট এম্পটিয়ারস সম্মেলনে এলজিডির প্রতিনিধিরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের (পিট এম্পটিয়ার) জীবনযাত্রা, বাস্তবতা ও প্রতিবন্ধকতাগুলো জানার পর তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ম্যানুয়াল স্ক্যাভিং বন্ধের বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এ সময় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মাধ্যমে পৌরসভা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ছাড়া আইটিএন-বুয়েটের সহযোগিতায় ২০১৭ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ডিপিএইচইর মাধ্যমে প্রণীত ‘পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি কাঠামো’তেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা বিধান সম্পর্কিত একটি স্পষ্ট ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘পিট খালি করার প্রক্রিয়াটিতে যথেষ্ট ঝুঁকি আছে বিধায় সিটি করপোরেশনগুলো এ ব্যাপারে উপযুক্ত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নির্দেশিকা অনুসরণ করবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জাতীয় স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নির্দেশিকাটি প্রস্তুত ও অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত সিটি করপোরেশনগুলো এজাতীয় নির্দেশিকা ও ভালো অনুশীলনগুলো কোথাও বাস্তবায়িত হয়ে থাকলে তা অনুসরণ করবে।’ তবে বর্তমানে এই নীতিমালা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে সব আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব নীতিমালা কার্যকরের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রচেষ্টার অভাব রয়েছে।

কভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভূমিকা, এ ক্ষেত্রে আশু করণীয় ও সুপারিশ
বর্তমানে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে দেশের আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ড হ্রাস পেলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সেবা কার্যক্রম থেমে নেই। তাদের অমূল্য এই জনস্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার সম্ভব হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আমাদের ব্যাপকভাবে সহায়তা করছে। বিড়ম্বনার বিষয় হলো, এই প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করতে তাদের নিজস্ব স্বাস্থ্য ও জীবন-জীবিকা আরো বেশি ঝুঁকির মুখোমুখি।

— করোনাভাইরাস সংকটের এই সময়ে পয়োবর্জ্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জনসংখ্যার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে রক্ষা করা প্রয়োজন। পয়োবর্জ্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সরঞ্জাম (যেমন—গ্লাভস, মাস্ক, পিপিই, গগলস) এবং উপযুক্ত জীবাণুনাশক সরবরাহ করার মাধ্যমেই কেবল এটা নিশ্চিত করা সম্ভব।

— পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যাতে সাবধানে এবং নিয়মিতভাবে প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করেন তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিসরে তাঁদের দক্ষতা বিকাশ কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। সামাজিক দূরত্বের পদ্ধতিসহ অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী এবং কিভাবে তা অনুসরণ করা যায়—এসব বিষয়ে যথাযথ নির্দেশনা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

— বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতা (হাইজিন) কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এটিকে কেবল করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়ানোর জন্য নয়, স্বাস্থ্যবিধির অনুশীলনকে একটি আদর্শ নিয়ম হিসেবে গড়ে তুলতেই এটা প্রয়োজন।

— জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারকগণ কর্তৃক পরিচ্ছন্ন ও পয়োবর্জ্য শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

— কভিড-১৯-এর বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং পরবর্তী পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও পয়োবর্জ্যকর্মীদের কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগগুলোর স্থায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়সহ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনয়ন পরিষদগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের মধ্যে অংশীদারির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

— পরিমাণগত ও গুণগত উপায়ে ব্যাপক পরিসরে গবেষণার মাধ্যমে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিত অ্যাডভোকেসি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কভিড-১৯ সংকটের পর ময়লা-আবর্জনা ও পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনাকাজের জন্য বিভিন্ন বিকল্প প্রযুক্তি অন্বেষণের জন্যও গবেষণার প্রয়োজন।

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখন উন্নত স্যানিটেশন সুবিধাসহ টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে এবং এই হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সরকারের সদিচ্ছা, প্রয়োজনীয় নীতিমালা, সুষ্ঠু আইনি কাঠামো প্রণয়ন এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও সরকার বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে কভিড-১৯ পরিস্থিতি উত্তরণে করণীয় বিষয়ে সরকারের নির্দেশনাসহ পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসন বিষয়ক গাইডলাইন এবং পরিচালনা পদ্ধতি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। এমনকি এই সংকট-পরবর্তী সময়েও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পেতে আমাদের এ বিষয়ে টেকসই পদ্ধতির অনুসন্ধান অত্যন্ত জরুরি।

লেখক : হেড অব পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা