kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

ভালো মানুষটি ডাকাত জানত না স্ত্রীও, ৪০ বছর পর খুঁজে পেল পুলিশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ জুন, ২০২০ ০৯:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালো মানুষটি ডাকাত জানত না স্ত্রীও, ৪০ বছর পর খুঁজে পেল পুলিশ

ভোরের আলো উঁকি দিয়েছে মাত্র, ব্রুকলিনে নিজের বাসায় চা বানাচ্ছেন চেরিল লাভ। দরজায় করাঘাতের শব্দ পেয়ে খুলে দিলেন, পুলিশ ঢুকেই সোজা তার স্বামীর কক্ষে। তিনি এখনও ঘুমচ্ছিলেন। পুলিশ জিজ্ঞেস করল, তোমার নাম কি? উত্তর এলো- ‘ববি লাভ’। এটা তোমার আসল নাম না, আসল নামটি বল? এবার আস্তে আস্তে নিজের নামটি জানালেন ‘ওয়াল্টার মিলার’। এবার পুলিশ উত্তর দিল, ‘তুমি অনেক বছর পালিয়েছিলে।’  

চেরিল লাভ বলেন, ‘এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা দেখে আমি চিৎকার করে কান্না করতে লাগলাম এবং বললাম ববি এসব কি হচ্ছে?’ এবার ববি স্বীকার করলেন ৪০ বছর আগে করা তার অপকর্মের ঘটনা। ২০১৫ সালে ববির নতুন করে গ্রেফতারের এ ঘটনা আমেরিকান মিডিয়াগুলোতে উঠে আসে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। চেরিল বলেন, ‘আমি তাকে বিয়ে করার পর ৪০ বছর একসঙ্গে কাটিয়েছি, আমাদের চারটি সন্তান হয়েছে। অথচ তার মধ্যে কোন অপরাধীর আচরণ দেখিনি।’ 

দ্যা নিউজ অ্যান্ড অবজার্ভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৭ সালে রেলিগ কারাগার থেকে পালিয়ে যান ওয়াল্টার মিলার। ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুন্ঠনের দায়ে ৩০ বছরের কারাদন্ড প্রাপ্ত ছিলেন তিনি। ৪০ বছর ফেরারি থেকে ২০১৫ সালে তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে নর্থ ক্যারোলিনাতে নিয়ে যায় পুলিশ এবং সেখানে একবছর সাজা খেটে প্যারোলে কারামুক্ত হন। এবার তিনি দীর্ঘ কয়েক দশকের মিথ্যা, আতঙ্ক ও কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেন।

কি ঘটেছিল তার জীবনে? ৬৯ বছরের ববি ডেইলি নিউজকে বলেন, ‘ ১৯৬৪ সালে নর্থ ক্যারোলিনায় থাকতাম। ১৪ বছর বয়সে একটি গানের কনসার্টে গিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হই এবং পুলিশ গ্রেফতার করে। সেখান থেকে বের হওয়ার পর পরবর্তীতে কিছু কিশোরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। ওরা ব্যাংক ডাকাতি করত। আমিও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ব্যাংক ডাকাতি শুরু করলাম। আমরা প্রচুর টাকা আয় করতাম এবং উল্লাস করে জীবনকে উপভোগ করতাম। এভাবে দুর্ধর্ষ একটি গ্যাংগস্টারের একজন হয়ে গেলাম। যা ইচ্ছে তাই করেছি, কোন অন্যায়কে অন্যায় মনে হয়নি। কিন্তু আনন্দ বেশিদিন টিকল না। একটি আর্থিক কম্পানিতে ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের গুলি খেলাম এবং গ্রেফতার হলাম। আমার ৩০ বছরের সাজা হলো।’

ববি বলেন, ‘আমি কারাগারে থাকাকালীন মা মারা যান। যিনি সারাজীবন এ অপরাধচক্র থেকে আমাকে বের করে আনতে চেয়েছিলেন। ওই ঘটনাটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সিদ্ধান্ত নেই ভালো হয়ে যাব। একদিন আমাদের কারাগার থেকে কাজে নেয়ার পথে পুলিশের ঢিলেঢালা পাহারার সুযোগে পালিয়ে গেলাম। নতুন নাম নিলাম ‘ববি লাভ’। নতুন করে জীবন শুরু করি, ব্রুকলিনে ব্যাপটিস্ট মেডিক্যাল সেন্টারে একটি কাজ পাই। সেখানেই চেরিলের সঙ্গে সাক্ষাত হয় এবং ১৯৮৫ সালে আমরা বিয়ে করি। আমাদের এখন চার সন্তান আছে।’

এই দম্পতির কন্যা সন্তান জেসিকা বলেন, ‘আমার বাবা জীবনকে বদলে ফেলতে চেয়েছেন। গত ৪০ বছর তিনি সেই কাজটিই করেছেন।’ ২০১৬ সালে প্যারোলো মুক্ত হয়ে ববি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে আসতে পেরেছি, এটা জীবনের অনেক বড় পাওয়া।’ 

সূত্র: ডেইলি নিউজ
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা