kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

আজ বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস

তরুণদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে ধূমপান

নিখিল ভদ্র   

৩১ মে, ২০২০ ০৭:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তরুণদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে ধূমপান

তামাক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় সোয়া লাখ মানুষ মারা যায়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সেই ঝুঁকি আরো বেড়েছে। বিশেষ করে ধূমপানের কারণে তরুণরাও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এই পরিস্থিতিতে আজ ৩১ মে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হƒদরোগের কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপের পরেই তামাক ব্যবহারের অবস্থান। তামাক ব্যবহারের কারণে প্রায় ১২ শতাংশ হৃদরোগজনিত মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে ২৩ ভাগ (২ কোটি ১৯ লাখ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং ২৭ দশমিক দুই ভাগ (২ কোটি ৫৯ ল) ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। ফলে করোনা পরিস্থিতি তাদের জীবনের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ধূমপায়ীদের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশী। কারণ ধূমপানের সময় হাতের আঙ্গুলগুলো ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে। আর হাতে বা বিড়ি-সিগারেটের গায়ে লেগে থাকা ভাইরাস মুখে চলে যাওয়ার আশংকা থাকে। একইসঙ্গে ধূমপানের কারণে আগে থেকেই ফুসফুসের রোগ থাকতে পারে এবং ফুসফুসের কর্মমতা কমে যেতে পারে। যা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে গুরুতর অসুস্থ হবার আশংকা বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া ওই সকল রোগীদের অক্সিজেন গ্রহণের মতাও কমে যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) এর ওয়েবসাইটে তুলে ধরা তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নারীর চেয়ে পুরুষদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বেশি। তবে পুরুষদের মধ্যে তরুণদের একটি বিশাল অংশ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে করোনা আক্রান্তদের ২৬ শতাংশই ২১-৩০ বছর বয়সী। যাদের বেশীর ভাগই ধূমপায়ী। ফুসফুস দুর্বল থাকার কারণে তরুণরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ধূমপান ও অন্যান্য ধোঁয়াবিহীন তামাকে অভ্যস্ততার কারণে ফুসফুস দুর্বল থাকে। আর করোনা ভাইরাস প্রথমেই শ্বাসতন্ত্রে আঘাত হানায় ধূমপায়ী বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। আর দেশে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বেশী। তিনি আরো বলেন, তামাকখাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায় তামাক ব্যবহারের কারণে অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে তার দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর পদপে নেওয়া জরুরী।
এমতাবস্থায় তামাক কোম্পানীগুলোর কূটচাল প্রতিহত করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে ভোক্তা তৈরীতে তামাক কোম্পানিগুলো কিশোর ও তরুণদেরকে টার্গেট করে পদপে নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিক্রয়কেন্দ্রগুলোকে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন, আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রী প্রদান, নাটক সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বিজ্ঞাপন প্রচারসহ নানাবিধ কূট-কৌশল প্রয়োগ করছে। ভবিষ্যতে তামাকজনিক কারণে অকাল মৃত্যু যাতে দীর্ঘ না হয় সেজন্য তরুণদেরকে তামাকসহ সব ধরনের নেশা থেকে দূরে রাখতে হবে।

তামাকজনিত কারণে অকালমৃত্যুর ৮০ভাগই বাংলাদেশসহ পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঘটছে। সেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ ক্ষেত্রে এফসিটিসি স্বার ও অনুস্বার, আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং আইন সংশোধন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক অর্জন রয়েছে বলে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো মনে করে। তাদের মতে, জনস্বার্থে দেশে আইন ও বিধিমালা প্রণীত হলেও কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণে আরো অগ্রগতি প্রয়োজন। তাই আসন্ন বাজেটে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম জনগণ, বিশেষ করে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির ক্রয়মতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসকে সামনে রেখে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বৃহৎ পরিসরে কোন কর্মসূচী রাখা হয়নি। ‘তামাক কোম্পানির কূটচাল রুখে দাও; তামাক ও নিকোটিন থেকে তরুণদের বাঁচাও’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনলাইনে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা সভার ছাড়া ক্রোড়পত্র প্রকাশ, অনলাইনে প্রেসব্রিফিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী রয়েছে। এছাড়াও দেশব্যাপী বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটসহ বিভিন্ন তামাক বিরোধী সংগঠনসমূহ দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনলাইন আলোচনা সভা, অনলাইন মানববন্ধন, অনলাইন পোস্টার ক্যাম্পেইন, ফেসবুক প্রোফাইল ফ্রেম পরিবর্তন, সচেতনতামূলক ভিডিও শেয়ারসহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা