kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঘরবন্দি শিশুর সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগের এখনই সময়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মে, ২০২০ ২২:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘরবন্দি শিশুর সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগের এখনই সময়

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে টানা সাধারণ ছুটিতে চার দেয়ালে আবদ্ধ থাকতে থাকতে শিশুদের মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘদিন স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। খেলার মাঠে যাওয়া হচ্ছে না। হইহুল্লোড়, ছুটাছুটি সব বন্ধ। এক জরিপে উঠে এসেছে, ৭৬ শতাংশ শিশু বলেছে, করোনাকালে তারা সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে স্কুল বন্ধুদের। ঘরবন্দি শিশুদের দৈনন্দিন জীবনও বদলে গেছে। ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশটা হচ্ছে না। অভিভাবকদের অবশ্যই খেয়ার রাখতে হবে, টানা ঘরবন্দি থাকার কারণে শিশুদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি কিংবা বিরূপ প্রভাব যাতে না পড়ে। যদিও শিশুরা ঘরে বন্দি থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছে। অভিভাবক হিসাবে শিশুদের এই বিরক্তভাব কমাতে অভিভাবকরা বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারে।

শিশুদের সঙ্গে সময় করে খেলাধুলা করা

কর্মব্যস্থতার জন্য এতদিন আমরা আমাদের সন্তানদের আশানুরূপ সময় দিতে পারিনি। করোনা সংকট আমি মনে করি অভিভাবকদের সামনে একটি বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে সন্তানদের সময় দেওয়ার জন্য। শিশুদের পেছনে মূল্যবান সময়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শৈশব কৈশোরে আপনি যেসব খেলে বড় হয়েছেন, তা চিন্তা করে আপনার সন্তানদের সঙ্গে সেসব নিয়ে খেলতে পারেন। আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, আপনি একই সঙ্গে শিশুর অভিভাবক এবং শিক্ষকও বটে। যেকোনো শিশুকে পরিপূর্ণভাবে মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব অভিভাবকদের ওপরই বর্তায়। আমি মনে করি, করোনার এই যুগে ঘরবন্দি শিশুর সঙ্গে প্রতিটি মূহুর্ত উপভোগের এখনই সময়। এই সুযোগ আর কখনো না-ও মিলতে পারে। 


গল্প ও শিক্ষমূলক বই পড়াতে উদ্বুদ্ধ করুন

আমরা ভালোবাসার টানে বা শখের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় অনেক বই কিনে থাকি। যেসব বই বুক সেলফে শোভা পাচ্ছে। হয়তো সময়ের অভাবে পড়তে পারছেন না। করোনাকালে এই সুযোগে আপনি আপনার সন্তানদের বুক সেলফে থাকা গল্প ও শিক্ষামূলক বই পড়াতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এছাড়া হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইলে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বই খুঁজতে পারেন এবং তা উপভোগ করতে পারেন। এর সবচেয়ে বড় উপকার হচ্ছে সিলেবাসের বাইরে যে বই পড়তে হয় তা সন্তানদের এখন থেকেই বলতে থাকুন। যা ভবিষ্যতে আপনার সন্তানদের বেশি বেশি বই পড়তে উৎসাহিত করবে।

শিক্ষামূলক টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখাতে পারেন 

বাংলাদেশের শিশুতোষ শিক্ষার ওপর বিভিন্ন টেলিভিশন বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে। তা সন্তানদের দেখাতে পারেন। উদাহরণ দিয়ে বলা যাক, দুরন্ত টেলিভিশন বাচ্চাদের নিয়ে দারুণ অনুষ্ঠান করছে। এছাড়া ইউটিউব থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষমূলক ভিডিও শিশুদের দেখাতে পারেন। 

পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষাপাতার সঙ্গে পরিচয়

দীর্ঘ ছুটিতে আপনি বিভিন্ন পত্রিকায় শিক্ষামূলক যে পৃষ্ঠা প্রতিদিন প্রকাশিত হয়, তার সর্ম্পকে আপনার সন্তানের পরিচয় করাতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনারা আনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। কারণ, এ সময় হয়তো সকল পত্রিকা হাতের মুঠোয় না-ও পেতে পারেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পত্রিকার শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

শিশুদেরকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি পুষ্টি বিষয়ে শিক্ষা দিতে পারেন, মানুষের মানবিক দিক সম্পর্কে তাদের গল্প শুনাতে পারেন, সমাজে তার কি দায়িত্ব রয়েছে সে সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারেন। শিশুকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হিসাবে গড়ে তুলতে আচরণগত বিষয়ে শিক্ষা দিতে পারেন।  গ্রাম বাংলার সামজিকতা, নদীমাত্রিক বাংলাদেশ, বাংলার কৃষি, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব সম্পর্কে গল্পের ছলে শিশুর সঙ্গে আলাপ করতে পারেন।  মনে রাখবেন, আপনি আপনার শিশুর সেরা বন্ধু ও শিক্ষক তাই সময় এখন আপনার শিশুকে প্রকৃত মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার। 
 
শিশুর আচরণ থেকে শুরু করে কথা বলা, নিয়মানুবর্তিতা, অন্যকে সহযোগিতার মনোভাব বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা তাকে উৎসাহ জোগায়। মা-বাবার ভুলের জন্য নষ্ট হতে পারে সন্তানের জীবন। আপনার শিশুর সঙ্গে আচরণ কেমন হওয়া উচিত এবং করোনার কারনে অফুরন্ত সময় শিশুর আচরণ ও শিক্ষারমান উন্নয়নে জন্য কিভাবে ব্যবহার করবেন তা নিতান্তই আপনার। আচরণগত বিষয়ে যা করতে পারেন মাঝেমধ্যে শিক্ষকসুলভ, বন্ধুসুলভ, বাবা-মা সুলভ আচরণ করুন।  শিশুর প্রতি কখনোই উত্তেজিত হবেন না, শিশুকে শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার বা উৎসাহ দিন। প্রশংসা করবেন তবে খুব বেশি কিংবা খুব কম নয়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা  শেখান, সামাজিকতা শেখান। গল্পের বই পড়া, ছবি আঁকা, পাঠ্য বই পড়া সবই শিশুদের রুটিনে রাখার চেষ্টা করুন। শিশুদের মন খারাপ করে বসে থাকা নয় বরং এসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মনোভাব তৈরি করতে হবে। 

লেখক : মো. আব্দুল কাদের খান
পরামর্শক, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা